অসুস্থ মায়ের ওষুধ নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে রাসেল আহম্মেদ (৩০) নামের এক যুবককে তুলে নিয়ে চাঁদাবাজ অ্যাখ্যা দিয়ে রাতভর নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। পরে পুলিশ ও স্থানীয় ইউপি সদস্যের সহায়তায় শ্বশুরবাড়ি থেকে উদ্ধারের পর তাকে জয়পুরহাট ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। নির্যাতনে তার ডান পা ভেঙে গেছে। বাম কানে আঘাত করায় কিছু শুনতে পাচ্ছেন না। পিঠ ও কোমড়ে কালশিটে দাগ পড়েছে।
বুধবার, ১৫ অক্টোবর রাত ১০টায় জয়পুরহাট জেলার কালাই উপজেলার নিশ্চিন্তা-ইটাখোলা সড়কের ভাবকি মোড় থেকে শ্যালক শাহিদুল ও তার লোকজন তুলে নিয়ে যায় বলে জানান ভুক্তভোগী যুবক রাসেল আহম্মেদ। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলেও জানান তিনি। ঘটনাটি এলাকায় জানাজানি হয় শনিবার রাতে।
ভুক্তভোগী যুবকের পরিবার জানায়, রাসেলের স্ত্রী ও শ্যালকদের সঙ্গে পূর্ব শত্রুতার জেরে মোবাইল ফোনে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবির অভিযোগ তুলে বুধবার রাত সাড়ে ১০টায় রাসেলকে অপহরণ করা হয়। পরে তাকে কালাই উপজেলার আওড়া গ্রামের নির্জন স্থান ও শ্বশুরবাড়ি একই উপজেলার একডালা গ্রামে নিয়ে বড় শ্যালক শাহিদুলের নেতৃত্বে রাতভর নির্যাতন করা হয়।
পরদিন বৃহস্পতিবার খবর পেয়ে রাসেলের বাবা একই উপজেলার দক্ষিণ পাকুরিয়া গ্রামের মুক্তার আলী থানায় বিষয়টি জানায়। বিকেলে স্থানীয় ইউপি সদস্য হাসান আলীর সহযোগিতায় তার বাবা রাসেলকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে জয়পুরহাট সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন।
সরেজমিনে রবিবার সকালে জয়পুরহাট হাসপাতালের আট তলার ৬ নম্বর বেডে গিয়ে দেখা যায়, ডান পায়ে ব্যান্ডেজ করা অবস্থায় রাসেল বেডে শুয়ে আছেন। পাশে তার বৃদ্ধ বাবা মুক্তার আলী। সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে হাউ মাউ করে কেঁদে উঠেন তিনি।
বাবা মুক্তার আলী বলেন, ‘ আমার ছেলেকে বিনাদোষে তুলে নিয়ে গিয়ে অকথ্য নির্যাতন ও মারধর করে পা ভেঙে দিয়েছে। শরীরে অসংখ্য আঘাতের চিহ্ন। স্থানীয়রা না দেখলে হয়ত ছেলেকে মেরে ফেলত।’
তিনি আরও বলেন, ‘ছেলের চিকিৎসার জন্য আইনের আশ্রয় নিতে পারিনি। তবে আদালতে মামলা করার প্রস্তুতি চলছে।’
রাসেল বলেন, ‘ওরা নির্মমভাবে আমাকে মেরেছে। যার নেতৃত্ব দিয়েছে আমার স্ত্রীর বড় ভাই ও তার কয়েকজন বন্ধু এবং রনি নামে এক আত্মীয়। পানি খেতে চাওয়ায় মুখে প্রস্রাব করে দিয়েছে রনি। কানেও শুনতে পাচ্ছি না। মোবাইল ফোনে আমি নাকি ১৫ লাখ টাকা চাঁদা চেয়ে ম্যাসেজ দিয়েছি। ওরা হত্যার ভয় দেখিয়ে আমার সেই স্বীকারোক্তি ভিডিও করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও ছেড়ে দিয়েছে। শ্যালক শাহিদুল ও স্ত্রী শাকিলার চক্রান্তে আমার ওপর এ বর্বরতা চালানো হয়েছে। আমি এ ঘটনার বিচার চাই।
জানতে চাইলে কালাই থানার ওসি জাহিদ হোসেন বলেন, ‘পারিবারিক কলহের জেরে এটি হয়েছে। রাসেলকে মারধর করার বিষয়টি জানানো হয়নি। উভয়পক্ষ থানায় অভিযোগ দিয়েছে। মামলা করলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
পতাকানিউজ/এসি/আরবি

