হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব শ্রীশ্রী শ্যামা (কালী) পূজা ও দীপাবলী উৎসব আজ, সোমবার (২০ অক্টোবর)। কার্তিক মাসের অমাবস্যা তিথিতে শ্যামা পূজার আয়োজন করা হয়।
পঞ্জিকামতে, অমাবস্যা তিথি সোমবার দুপুর ৩টা ৪৪ মিনিটে শুরু হয়ে মঙ্গলবার ৫টা ৫৪ মিনিটে শেষ হবে। এর মধ্যেই পূজার সকল আনুষ্ঠানিকতা শেষ করতে হবে। একইসঙ্গে আজ সন্ধ্যায় হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের প্রতিটি ঘরে ঘরে এবং পূজামণ্ডপগুলোতে প্রদীপ জ্বেলে দীপাবলী উৎসবের আয়োজন করা হবে।
অমাবস্যা তিথিতে আজ নগরের বিভিন্ন পূজা মণ্ডপে এবং প্রতিষ্ঠিত কালী মন্দিরগুলোতে নানা ধর্মীয় আয়োজনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হবে শ্রীশ্রী শ্যামা পূজা। এছাড়া যেসব মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়েছে প্রায় সব মণ্ডপেই আয়োজন করা হয়েছে শ্যামা পূজার।
এছাড়া বিভিন্ন পূজামণ্ডপে আয়োজন করা হয়েছে আলোচনা সভা, বস্ত্র বিতরণ, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, নৃত্যানুষ্ঠান এবং প্রসাদ বিতরণসহ নানা কর্মসূচি।
দীপাবলী কি?
দীপাবলী সনাতনধর্মীদের উৎসব বিশেষ। এটি দেওয়ালি, দীপান্বিতা, দীপালিকা, সুখরাত্রি, সুখসপ্তিকা এবং যক্ষরাত্রি নামে অভিহিত। বাংলায় দীপাবলী শব্দটি হিন্দি দিওয়ালী থেকে এসেছে। যার অর্থ প্রদীপের সারি। হিন্দু ধর্মানুসারীরা বিশ্বাস করে দীপাবলীর আলোয় সকল অশুভ শক্তি দূর হয়ে ঘটবে শুভ শক্তির আবির্ভাব। শুধু সনাতনধর্মীরাই নয়, শিখ ও জৈন ধর্মাবলম্বীরাও এ উৎসব পালন করে থাকে। দীপাবলীর রাতে অনুষ্ঠিত হয় শ্যামা কালী পূজা।
হিন্দু পুরাণ মতে, কালী দেবী দুর্গারই একটি শক্তি। সংস্কৃত ভাষার কাল শব্দ থেকে কালী নামের উৎপত্তি। কালী পূজা হচ্ছে শক্তির পূজা। জগতের সব অশুভ শক্তিকে পরাজিত করে শুভশক্তির বিজয়ের মধ্যেই কালী পূজার মাহাত্ম্য। কালী দেবী তার ভক্তের কাছে শ্যামা, আদ্যা মা, তারা মা, চামুণ্ডা, ভদ্রকালী, দেবী মায়াসহ বিভিন্ন নামে পরিচিত। দুষ্টের দমন ও শিষ্টের লালনের মাধ্যমে ভক্তের জীবনে কল্যাণের অঙ্গীকার নিয়ে পৃথিবীতে আগমন ঘটে দেবী শ্যামা বা কালীর।
এদিকে নগরীর জেএমসেন হল মাঠ প্রাঙ্গণ, সদরঘাট কালী বাড়ি, হাজারী লেইন, টেরীবাজার, চট্টেশ্বরী কালী বাড়ি, গোলপাহাড় মহাশশ্মান কালী বাড়ি, চকবাজার, পাঁচলাইশের করুনাময়ী কালী বাড়ি, ব্রহ্মময়ী কালী বাড়ি, উত্তর নালাপাড়া কাত্যায়নী ধাম, দক্ষিণ নালাপাড়ার চট্টলায়, গোসাইলডাঙ্গা কালী বাড়ি, লাভলেইন দয়াময়ী কালি বাড়ি, পাথরঘাটা রাধাকৃষ্ণ মন্দিরসহ বিভিন্ন মঠ-মন্দিরে মহাসমারোহে শ্যামা পূজা অনুষ্ঠিত হবে।
অপরদিকে পূজা উপলক্ষে মন্দির ও পূজামণ্ডপগুলোকে সাজানো হয়েছে রঙিন আলোয়। পূজামণ্ডপগুলোর সামনে নির্মাণ করা হয়েছে তোরণ। রয়েছে নানা ধর্মীয় কর্মসূচি। সন্ধ্যায় দেশ ও জাতির মঙ্গল কামনা করে প্রতিটি পূজামণ্ডপসহ ঘরে ঘরে জ্বালানো হবে সহস্র প্রদীপ।
বিকেল থেকে আলোচনা সভা, বস্ত্র বিতরণ, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, নৃত্যানুষ্ঠান ও প্রসাদ বিতরণসহ নানা কর্মসূচি রয়েছে। রাতে অনুষ্ঠিত হবে পূজা ও পাঁঠাবলি। পূজা শেষ অঞ্জলি প্রদান ও প্রসাদ বিতরণ করা হবে।
চট্টগ্রাম মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক অর্পণ কান্তি ব্যানার্জী পতাকানিউজকে বলেন, ‘জেএমসেন হলে শ্যামাপুজা ও দীপাবলি অনুষ্ঠান প্রতিবছরের মত এবারও অনুষ্ঠিত হবে। গতকাল রবিবার সন্ধ্যা ৮টায় মায়ের বরণ ও শুভ অধিবাস অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ সোমবার দিনব্যাপী আয়োজনের মধ্যে রয়েছে- বিকেল ৪টায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, সন্ধ্যা ৬ টায় মঙ্গল প্রদীপ প্রজ্জ্বলন ও সন্ধ্যারতি, রাত ৮ টায় ভৈরব ব্যান্ডের পরিবেশনায় বিশেষ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং রাত ১২ টায় মায়ের পূজা। পরদিন মঙ্গলবার বিকেল ৪টায় প্রতিমা নিরঞ্জনের মাধ্যমে আয়োজন সমাপ্ত হবে।’
পতাকানিউজ/আরবি

