সড়ক বা মহাসড়কের উপর কোন যানবাহন বা গাড়ি দাঁড়িয়ে থাকা বা রাখা নিয়মের পরিপন্থী এবং খুবই অনিরাপদ হলেও বিভিন্ন কারণে একটি গাড়ি যাত্রীসহ বা যাত্রী ছাড়া দাঁড়াতে বাধ্য হয়। এছাড়া বিকল্প সুযোগ থাকলেও অনেক ড্রাইভার তার গাড়ি সড়ক-মহাসড়কের উপর পার্কিং বা সাময়িক সময়ের জন্য রেখে থাকেন। যে কোনো কারণেই হোক সড়ক-মহাসড়কের উপর, হোক সে একপাশ ঘেঁষে, গাড়ি দাঁড় করে রাখা যে কতটা অনিরাপদ তা আমরা বিবেচনায় না আনলেও এ সংক্রান্ত মারাত্নক সব দুর্ঘটনা ঘটেই চলছে।
একটি গাড়ি চলতে চলতে কোন কারণে হঠাৎ বিকল হলে বা ছোট-বড় কোন দুর্ঘটনা ঘটলে ড্রাইভার গাড়িসহ সড়ক-মহাসড়কে অবস্থান করতে বাধ্য হন। তাছাড়া প্রাইভেট বা যাত্রীবাহী গাড়িতে যাত্রীরাও থাকেন। এ প্রেক্ষিতে যাত্রীসহ একটি গাড়ির সড়ক-মহাসড়কে অবস্থান মারাত্নক বিপদজনক। বিশেষ করে শীতকালে ঘনকুয়াশা থকায় রাতে, এমনকি দিনের বেলায়ও সড়ক-মহাসড়কে চলমান গাড়ির সাথে দাঁড়িয়ে থাকা গাড়ির সাথে ঘটে মারাত্নক সব দুর্ঘটনা।
গত ২৪ অক্টোবর, ২০২৫ (বৃহস্পতিবার দিনগত রাত তিনটার দিকে) ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ের ফরিদপুরের তারাইল এলাকায় যাত্রীসহ বিকল হয়ে পড়ে একটি বাস। মেরামতের জন্য এক্সপ্রেসওয়েতে দাঁড়িয়ে থাকা ওই বাসের সাথে পেছন থেকে আসা একটি ট্রাকের ধাক্কায় বাসের দুইজন যাত্রী মারা যান এবং অহত হন কয়েকজন। সূত্রঃ দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিন, ২৫ অক্টোবর, ২০২৫।
উক্ত বাসটি তার সামনে থাকা অন্য একটি গাড়ির পেছনে ধাক্কা লাগার কারণে বাসটির সামনের অংশে বেশ ক্ষতিগ্রস্থ হয়। ফলে বাসটির যাত্রীরা নেমে গিয়ে এক্সপ্রেসওয়ের উপর হাঁটাহাঁটি করতে থাকেন আর ড্রাইভার তার সহযোগীদের নিয়ে বাসের ক্ষতি মেরামত সংক্রান্ত কাজে ব্যস্ত ছিলেন। ঠিক এমন সময় পেছন থেকে আসা একটি ট্রাক বাসের পেছনে দাঁয়িয়ে থাকা যাত্রীসহ বাসে আঘাত করে। ফলে বর্ণিত হতাহতের ঘটনা ঘটে।
এখানে ট্রাকটির ড্রাইভারকে তেমন বেশি দোষারোপ করার সুযোগ আমি দেখি না। কারণ এক্সপ্রেসওয়েতে সর্বোচ্চ গতিসীমা ৮০ কিলোমিটার থাকায় ট্রাকটি কমপক্ষে ৮০ কিমি বেগে চলছিল। আর এ রকম গতিতে থাকা একটি গাড়ির সামনে হঠাৎ দাঁড়িয়ে থাকা গাড়ির অবস্থানকে এড়িয়ে নিরাপদে পাশকাটিয়ে যাওয়াটা তার জন্য দুরূহ ছিল। আর হঠাৎ এমনটি করতে গিয়ে ট্রাকটি তার পাশে থাকা অন্য কোন গাড়ির সাথে দুর্ঘটনায় জড়িয়ে পড়ারও সম্ভাবনা ছিল।
কিন্তু দুর্ঘটনায় কবলিত বাসটির পক্ষে তারা যদি কয়েকটি ‘রিফ্লেকটিং কোন’ গাড়ির পেছনে ৭০/৮০ ফিট দূর পর্যন্ত এবং সামনে বিশেষ পজিশনে স্থাপন করতেন তাহলে ট্রাকটি অনেক পূর্ব থেকেই বাসটিকে এড়িয়ে নিরাপদে চলে যেতে পারতো। আর রক্ষা পেতো দুটি মূল্যবান প্রাণ এবং পঙ্গুত্বের হাত থেকে বেঁচে যেতেন আরও কয়েকজন মানুষ। প্রতিনিয়ত এ সংক্রান্ত দূর্ঘটনায় অনেক মানুষের প্রানহানি ঘটলেও এ বিষয়ে নেই কোন প্রতিকার বা প্রতিরোধের দৃশ্যমান কোন উদ্যোগ।
প্রতিকার বা প্রতিরোধের জন্য নিম্নোক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা যেতে পারে-
১। যাত্রীসহ বা যাত্রী ছাড়া কোন গাড়ির সড়ক-মহাসড়কে অবস্থান যে মারাত্নক বিপদজনক তা চালককসহ জনসাধারণকে সচেতন করা। এক্ষেত্রে প্রিন্ট এবং ইলেকট্রনিক মিডিয়া গুরত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।
২। প্রত্যেকটি গাড়িতে প্যালাসাইডিং কোন রাখতে আইনগতভাবে বাধ্য করা এবং সড়ক-মহাসড়কের উপর সাময়িকভাবে যানবাহনসহ অবস্থান করতে বাধ্য হলে তার সঠিক ব্যবহার করা।
৩। অকারণে সড়ক-মহাসড়কের উপর যানবাহন পার্কিং বা অবস্থানের বিষয়ে কঠোরভাবে আইন প্রয়োগ করা।
৪। দুর্ঘটনা কবলিত বা বিকল যানবাহন সড়ক-মহাসড়কের উপর থেকে দ্রুত সরানোর জন্য সড়ক-মহাসড়ক ব্যবস্থাপনায় প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি এবং যানবাহনসহ হাইওয়ে পুলিশের অধীনে বিশেষ ব্যবস্থাপনা বিভাগ সৃষ্টি করা।
৫। দুর্ঘটনা কবলিত বা বিকল যানবাহন সড়ক-মহাসড়কের উপর থেকে দ্রুত সরিয়ে নিরাপদ স্থানে রাখার জন্য সড়ক-মহাসড়কের পাশে কৌশলগত সুবিধাজনক স্থানে প্রয়োজনীয় বে বা স্পেস তৈরী করতে হবে।
পতাকানিউজ/কেএস

