দেশ এখন একটি নির্বাচনের অপেক্ষায়। আগামী ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন হবে কিনা, হলেও তা কতটা অবাধ ও নিরপেক্ষ হবে- এই রকম নানা প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে আমজনতার মাঝে। মব নামের একটি নতুন সংকট দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে খুবই নাজুক করে তুলেছে। পুলিশ সেনাবাহিনী মব নিয়ন্ত্রণ করতে গেলে সমালোচনা করা হয়, না গেলে বলা হয় তারা সঠিক সময়ে আসেনি। মব যারা করছে তাদের অনুমতি নিয়েই যদি সবকিছু করতে হয় তাহলে এমনটাই হবে। যেভাবে মব সংস্কৃতি বিকাশ লাভ করেছে তাতে করে ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন হলে সে সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে কিনা সে প্রশ্ন উঠেছে। এর জবাবে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এস এম নাসির উদ্দিন যা বলেছেন তাকে হালকা রসিকতার পর্যায়েই ফেলা যায়। তিনি যুক্তি দেখিয়েছেন, নির্বাচন একই দিনে তিনশ’ আসনে হবে, মব যারা করে তারা সারা দেশে ভাগ হয়ে যাবে বিধায় তাদের শক্তি দূর্বল হয়ে যাবে।
গত কয়েকদিন দেশ ভেসেছে গুজবে। রাষ্ট্রপতি ও প্রধান বিচারপতির সাথে সেনাপ্রধানের সাক্ষাৎ নিয়ে সেই গুজবের ডালপালা আরো বিস্তৃত হতে থাকে। দেশে কি ঘটতে যাচ্ছে তা নিয়ে উদ্বেগ উৎকন্ঠা বেড়েই চলেছে। এনসিপি, জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলনসহ কয়েকটি দল সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (প্রপোরশেনেট রিপ্রেজেন্টেশন -পিআর) পদ্ধতি ছাড়া নির্বাচনের বিপক্ষে। এনসিপি পিআর পদ্ধতি এবং জুলাই সনদের আইনী স্বীকৃতি ছাড়া নির্বাচন হতে দেবে না বলে ঘোষণা দিয়েছে। তারা জাতাীয় সংসদ নির্বাচনের আগে চায় গণপরিষদ নির্বাচন। সবমিলিয়ে অন্তর্বর্তী সরকার কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি। যারা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকে গনঅভ্যুত্থানে রূপ দেয়ায় মূখ্য ভূমিকা রেখেছিলেন তারাই নতুন দল এনসিপির কান্ডারি। এই শিক্ষার্থীদের ড. মুহাম্মাদ ইউনূস মানেন নিজের নিয়োগকর্তা হিসেবে। ফলে তাদের অখুশী করার মত কাজ তাঁর পক্ষে করা কঠিন।
আবার নিজেদের সেইফ এক্সিটের বিষয়টাও এখন বড় হয়ে দেখা দিয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের যাবতীয় কর্মকাণ্ড পরবর্তী জাতীয় সংসদে সর্বসম্মতিক্রমে অনুমোদন করিয়ে নিতে হবে। আগামী নির্বাচনে যারা জিতবেন তারা যদি তা না করেন তাহলে সমূহ বিপদের শংকা থেকে যায়।

১৯৯১ সালে বিচারপতি সাহাবুদ্দিন আহমদের নেতৃত্বে যে অস্থায়ী সরকার গঠিত হয়েছিল সেটি সংবিধান বহির্ভূত ছিল। ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন শেষে আবার প্রধান বিচারপতির চেয়ারে ফিরে যাওয়ায়ও ছিল আইনগত বাধা। তাছাড়া রাষ্টপতি শাসিত সরকারের পরিবর্তে সংসদীয় পদ্ধতির সরকার ব্যবস্থায় ফিরে আসার একটি বিষয় ছিল। তখন এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে ছিল বিএনপি নেতৃত্বাধীন সাত দল, আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন আট দল এবং পাঁচ দলীয় বামজোট। এই তিনজোট এরশাদ পতনের পর একটি সমঝোতায় পৌঁছেছিল, যা তিনজোটের রূপরেখা হিসেবে পরিচিতি পায়। নির্বাচনে বিএনপি সরকার গঠন করলেও জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে সমঝোতার বিষয়গুলো সর্বসম্মতিক্রমে পাশ করা হয়। যা আইনি ভিত্তি পায়। অন্তর্বর্তী সরকার এবং এনসিপি নির্বাচনের পরে এই আইনি ভিত্তি পাওয়া নিয়ে সন্দিহান। তাইতো তারা আগেই আইনি ভিত্তি চায়। সংসদকে বাদ দিয়ে এটি আদৌ সম্ভব কিনা আর সম্ভব না হলে পরবর্তী সংসদ তা পাশ করবে কিনা এটিই এখন বড় ভয়। কারণ এর উপর নির্ভর করছে সেইফ এক্সিট।
গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরের উপর হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে গত সপ্তাহে রাজনৈতিক অঙ্গন হঠাৎ করে উত্তপ্ত হয়ে উঠে। জাতীয় পার্টি নিষিদ্ধ করার দাবিটি আবার সামনে চলে আসে। নুরের ওপর হামলার ঘটনায় এনসিপি নেতা হাসনাত আবদুল্লাহ সেনাবাহিনীর কঠোর সমালোচনা করে বক্তব্য রাখেন, যা নানা মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে।
এরমধ্যে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের সাথে গ্রামবাসীর ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে সরকারের ব্যর্থতার চিত্রকে সামনে নিয়ে এসেছে। ঘটনা ঘটেছে ক্যাম্পাসের বাইরে জোবরা গ্রামে। যে গ্রামে ড. মুহম্মদ ইউনূস প্রথম ক্ষুদ্র ঋণ প্রকল্প চালু করে তার বিস্তার ঘটিয়েছিলেন, যার জন্যে তিনি শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পান। সেই গ্রামে অনেক কটেজ ও মেস রয়েছে যেখানে চবির বহু শিক্ষার্থী থাকেন।

ঘটনার বিশ্লেষণে দেখা যায়, মহিলাদের একটি কটেজে একজন ছাত্রী রাত বারোটার দিকে ফিরেন। কেয়ার টেকার গেট বন্ধ করে ঘুমিয়ে পরেছিলেন। এ নিয়ে ঘটনার সূত্রপাত। ছাত্রীটির আহবানে রাতে কয়েকজন ছাত্র সেখানে গিয়ে সংঘর্ষে জড়ায়। একটি ছাত্র সংগঠন ফেসবুকে শিক্ষার্থীদের উস্কানি দেয় গ্রামে যেতে। চবি প্রশাসন সম্পূর্ণ ব্যর্থতার পরিচয় দেয় পরিস্থিতি হ্যান্ডেলে। যার ফলে আজকে বহু শিক্ষার্থী মারাত্মক আহত হয়ে হাসপাতালে শয্যাশায়ী। দুজনের অবস্থা সংকটাপন্ন। গ্রামবাসীর অনেকেই আহত হয়েছেন। তাদের বাড়িঘর পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। গবাদিপশু ও মালামাল লুটের চিত্রও বিভিন্ন মাধ্যমে প্রকাশিত-প্রচারিত হয়েছে। এখানেও পুলিশ-সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা হয়েছে। তদন্ত কমিটি গঠিত হয়েছে। রিপোর্টে দায় কার জানা যাবে। কিন্তু ক্ষয়ক্ষতি যা হয়েছে তা কি পূরণ হবে। শিক্ষার্থী-গ্রামবাসীর সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্কে যে চিড় ধরেছে তা কিভাবে দূর করা যা তা সময়ই বলে দেবে।
অন্তর্বর্তী সরকারের একবছর পূর্ণ করেছে গত ৮ আগস্ট। সরকারের এই সময়ের সাফল্য-অর্জন বা ব্যর্থতার বিশ্লেষণে ঠিক সেভাবে যাওয়ার সুযোগ নেই যতটা না একটা রাজনৈতিক সরকারের কার্যক্রমের পোস্টমর্টেম চলে। জুলাই গণ-অভ্যূত্থানের পর অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত এই সরকারের প্রতি নিঃশর্ত সমর্থন ছিল যেসব রাজনৈতিক দলের তারাও এখন নানান ইস্যুতে সরকারের সমালোচনায় মুখর। শক্তহাতে সরকার কোনোকিছুই নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না বলে যেমন অভিযোগ তোলা হচ্ছে, তেমনি অভিজ্ঞতার অভাবের কথাটিও উঠে আসছে।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ‘ মার্চ টু গোপালগঞ্জ ‘ ঘিরে পাঁচ জনের প্রাণহানির ঘটনার পর গোয়েন্দা ব্যর্থতার কথা যেমন বলা হয়েছে তেমনি এটিকে এখন সরকারি দল হিসেবে অভিহিত করছে অনেকে। ছাত্র -তরুণদের এই দলটি সারাদেশে পদযাত্রা করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কড়া নিরাপত্তা নিয়ে।

কক্সবাজারে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ সম্পর্কে এনসিপির এক নেতার সমালোচনার প্রতিবাদে কক্সবাজার ও চকরিয়ায় ব্যাপক বিক্ষোভ করে বিএনপি নেতাকর্মীরা। এনসিপি চকরিয়ায় তাদের নির্ধারিত পথসভা বাতিল করে সেনা প্রহরায় নিরাপদে এলাকা ছাড়তে সক্ষম হয়। ঢাকার মিটফোর্ড হাসপাতালে ভাঙারী ব্যবসায়ী লালচাঁদ ওরফে সাগরকে পাথর দিয়ে পিটিয়ে হত্যার পর হত্যাকাণ্ডের জন্য বিএনপিকে দায়ী করার ঘটনায় বিএনপির সাথে জামায়াত-এনসিপির বাগযুদ্ধের ঘটনাসমূহ উল্লেখযোগ্য।
বাংলাদেশ ব্যাংকে পোশাক নিয়ে জারি করা একটি সার্কুলার তুমুল বিতর্ক সৃষ্টির পর আবার প্রত্যাহারের ঘটনাটিও অনুল্লেখ্য নয়। পোশাক নিয়ে এই অতিউৎসাহী কারা তা জানা না গেলেও এটি যে নারীদের টার্গেট করে জারি করা হয়েছিল তা সহজেই অনুধাবন করা যায়। প্রশ্ন উঠেছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের মত একটি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে কেউ কী ‘অশালীন’ পোশাকে যান? যদি তা না হয় তাহলে ‘শালীনতা’র অজুহাতে কেন এই জলঘোলা করা?
সর্বক্ষেত্রেই সরকারের দোদুল্যমানতা দেশের পরিস্থিতিকে আরো সংকটময় ও অনিশ্চিত করে তুলছে বলে বুদ্ধিজীবী ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ নানাভাবে বলা শুরু করেছেন। সরকারের ভেতরে সরকার রয়েছে এমন বক্তব্যও আসছে। সরকারের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তসমূহ কারা নিচ্ছেন, কার স্বার্থে নিচ্ছেন এসব বিতর্ক এখন রাখঢাক ছাড়াই হচ্ছে। সরকার পরিচালনায় এবং সংস্কার প্রক্রিয়ায় যাদের যুক্ত করা হয়েছে তাদের অধিকাংশই প্রবাসী বাংলাদেশী, যাদের অনেকেই বিদেশী নাগরিকত্ব নিয়ে সেখানে বসবাস করে আসছেন দীর্ঘদিন ধরে। যাঁদের ধরে এনে এখানে গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার কমিশনসহ বিভিন্ন পদে বসানো হয়েছে তারা দেশকে জানেন ইন্টারনেটে। এই বক্তব্যগুলি বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা ইদানিং বেশি করে বলছেন। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুলের মতে, কয়েকজন ব্যক্তিকে বিদেশ থেকে ভাড়া করে এনে দেশ চালানো যায় না।
সরকারি নিরাপত্তা প্রটোকলপ্রাপ্ত এনসিপির প্রভাবশালী নেতা হাসনাত আবদুল্লাহ স্বাস্থ্য উপদেষ্টা সম্পর্কে সরাসরি অভিযোগ উত্থাপন করে বলেছেন, প্রধান উপদেষ্টার স্বজনপ্রীতির বড় উদাহরণ হচ্ছেন স্বাস্থ্য উপদেষ্টা। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মত বড় ও গুরুত্বপূর্ণ একটি মন্ত্রণালয়ে যে একজন উপদেষ্টা রয়েছেন সেটি কাজেকর্মে দৃশ্যমান হয় না। মাইলস্টোন ট্রাজেডির পরও এই উপদেষ্টার কোনো তৎপরতা পরিলক্ষীত না হওয়ার অভিযোগও তুলেছেন অনেকে।
দেশে এই যে অস্থিরতা তার জন্যে পতিত শক্তিকে দায়ী করেছেন প্রধান উপদেষ্টা ড.মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেছেন, ‘পতিত শক্তি গন্ডগোল লাগিয়ে নির্বাচনের আয়োজনকে ভন্ডুল করার চেষ্টা চালাচ্ছে। এই অপচেষ্টাকে প্রতিহত করতে ফ্যাসিবাদবিরোধী সব শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।’
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আরোপিত অতিরিক্ত ট্যারিফ দেনদরবার করে কমানো গেছে। এটা আপাত স্বস্তির বিষয় হলেও অনেক অস্বস্তিও এখানে রয়ে গেছে। প্রথমে ট্যারিফ নিয়ে আলোচনায় পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয় ও বাণিজ্য মন্ত্রনালয়কে বাইরে রেখে এমন দু’জনকে আলোচনার জন্য পাঠানো হয় যাদের আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দরকষাকষির কোনো পূর্ব অভিজ্ঞতা নেই। আবার আলাপ চলাকালীন ‘নন ডিসক্লোজার অ্যাগ্রিমেন্ট’ স্বাক্ষর করে পরিস্থিতিকে আরো জটিল করে তোলা হয়েছে, যাতে দেশের স্বার্থ যথাযথভাবে রক্ষিত না হওয়ার শঙ্কা বিশেষজ্ঞ মহল প্রকাশ করেছেন। বাণিজ্য উপদেষ্টা আমেরিকা থেকে ফিরে আলোচনার টেবিলে কী কী বিষয়ে আলাপ হয়েছে তা প্রকাশে এই চুক্তির বাধার কথা জানিয়েছেন।

তারপরেও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে যেসব খবর এসেছে তাতে কিছুটা আভাস পাওয়া যায়। আমেরিকা শর্ত দিয়েছে তারা যেসব দেশের উপর আমদানি-রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে সেসব দেশের সাথে বাণিজ্য করা যাবে না, চীনের উপর অতিমাত্রায় নির্ভরশীল হওয়া যাবে না এবং দু’দেশের বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র থেকে পণ্য আমদানি বাড়াতে হবে ইত্যাদি।
আমেরিকা থেকে আগে যে গম খয়রাতি সাহায্য হিসেবে পাওয়া যেত তা এখন কিনে নিতে হবে। বাজার মূল্যের চেয়ে অনেক বেশি দামে সাড়ে ৫ লাখ মেট্রিক টন গম কেনার ব্যাপারে বাংলাদেশ এর মধ্যে আমেরিকার সাথে চুক্তিও সম্পাদন করেছে। অর্থ উপদেষ্টা বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের গমের দাম কিছুটা বেশি হলেও মানে ভাল এবং এতে প্রোটিন বেশি।
লিখতে গেলে পরিসর শুধু বাড়বে। মানুষের দূর্ভোগ দুর্দশা, ভোগান্তি কমানো জরুরি হয়ে পড়েছে। দেশে স্থিতিশীল পরিস্থিতির জন্য নির্বাচনের কোনো বিকল্প নেই। নির্বাচন হলেই যে সবকিছু সোনায় সোহাগা হয়ে যাবে তা কিন্তু নয়। তারপর সব শঙ্কা কাটিয়ে যেন ভালোয় ভালোয় নির্বাচনটি না হলে দেশের পরিস্থিতি আরো খারাপের দিকেই যে যাবে সে আলামত ইতিমধ্যেই সুস্পষ্ট।
লেখক : সিনিয়র সাংবাদিক ও প্রাবন্ধিক

