গুগলের সদ্য প্রকাশিত ২০২৫ সালের স্বচ্ছতা প্রতিবেদনে দেখা গেছে, এ বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত সময়ে বাংলাদেশ থেকে পাঠানো কনটেন্ট অপসারণের অনুরোধ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ওই সময়ে অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে মোট ২৭৯টি আনুষ্ঠানিক অনুরোধ পাঠানো হয়, যেখানে চিহ্নিত আইটেমের সংখ্যা ছিল ১ হাজার ২৩টি। সংখ্যার এই ঊর্ধ্বগতি পর্যবেক্ষকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে, কারণ এর বড় অংশই সমালোচনামূলক কনটেন্ট সরানোর আবেদনের সঙ্গে যুক্ত।
তথ্য খতিয়ে দেখলে দেখা যায়, পাঠানো অনুরোধগুলোর মধ্যে ১৮১টি ছিল সরকারবিষয়ক সমালোচনামূলক ভিডিও—সবগুলোই ইউটিউব–কেন্দ্রিক। এরপর স্থান পায় নিয়ন্ত্রিত পণ্য ও সেবাবিষয়ক ৩৮টি অনুরোধ এবং মানহানির অভিযোগে করা আরও ৩২টি আবেদন। এই পুরো প্রক্রিয়ায় সবচেয়ে সক্রিয় ভূমিকা ছিল বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)-এর, যাদের মাধ্যমেই বেশিরভাগ আবেদন গুগলের কাছে পৌঁছায়।
যদিও সামগ্রিক অনুরোধ সংখ্যা বেড়েছে বলে মনে হচ্ছে, গুগলের তথ্য বলছে—গত বছরের তুলনায় এ সংখ্যা কম। ২০২৪ সালের প্রথম ছয় মাসে অনুরোধ ছিল ৩৩৭টি এবং সংশ্লিষ্ট আইটেম ছিল ৪ হাজার ৪৭০টি। সেই সময় ক্ষমতায় ছিল আওয়ামী লীগ সরকার, যা আগস্টে ছাত্র–জনতার অভ্যুত্থানের পর পতন হয় এবং দায়িত্ব নেয় অন্তর্বর্তী সরকার। ক্ষমতার পরিবর্তনের পর অনলাইন কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণের হিসাবও যে বদলাচ্ছে, তা স্পষ্ট হচ্ছে নতুন পরিসংখ্যানে।
গুগলের বিশ্লেষণে আরও উঠে এসেছে, বাংলাদেশ থেকে পাঠানো অনুরোধগুলোর ৬৫ শতাংশের বেশি ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত তথ্যই ছিল না। যে অংশে পর্যাপ্ত তথ্য ছিল, তার বড় অংশেও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি—যার হার ১৬ দশমিক ১ শতাংশ। অনুরোধ পৌঁছানোর আগেই মুছে ফেলা ছিল ৯ শতাংশ কনটেন্ট। মাত্র ২ দশমিক ৫ শতাংশ আইটেম অপসারণ হয়েছে আইনি প্রক্রিয়ায়, আর ৩ দশমিক ৭ শতাংশ সরানো হয়েছে গুগলের নীতিমালা অনুযায়ী। পাশাপাশি ৩ দশমিক ৫ শতাংশ আইটেম গুগল খুঁজে পায়নি।
ইউটিউবও আলাদাভাবে জানিয়েছে, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে জুনের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে কমিউনিটি গাইডলাইন লঙ্ঘনের অভিযোগে ৬ লাখ ২১ হাজার ৬৫৫টি ভিডিও অপসারণ করা হয়। সংখ্যাটি অনলাইন কনটেন্ট ব্যবস্থাপনার চাপ ও নীতিমালা প্রয়োগের প্রবণতা সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা দেয়।
অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার কিছুদিন পরই সাইবার নিরাপত্তা আইন বাতিল করে নতুন সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ জারি করে। নতুন বিধানের ৮ নম্বর ধারায় বিটিআরসিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কাছে কনটেন্ট ব্লক করার আইনগত ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। আগে এ ক্ষমতা থাকলেও নতুন অধ্যাদেশে যুক্ত হয়েছে একটি গুরুত্বপূর্ণ দফা—যে কনটেন্ট ব্লক করা হবে, তা স্বচ্ছতার স্বার্থে জনসাধারণের সামনে প্রকাশ করতে হবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিবর্তন কার্যকর হলে অনলাইনে কোন ধরনের সমালোচনা বা মতামত কর্তৃপক্ষ অপসারণ করতে চাইছে, তা জনগণ সরাসরি জানতে পারবে।
পতাকানিউজ/এনটি

