সরকারি চাকরির নিয়োগপ্রক্রিয়া সহজ করতে ১০ থেকে ১২তম গ্রেড পর্যন্ত নিয়োগে এখন থেকে বাধ্যতামূলকভাবে অপেক্ষমাণ তালিকা রাখা হবে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে নতুন পরিপত্র জারি করেছে। এর আগে, ২০২৩ সালের এপ্রিল মাসে ১৩ থেকে ২০তম গ্রেডে অপেক্ষমাণ তালিকা রাখার নিয়ম চালু করা হয়েছিল। নতুন নিয়ম কার্যকর হলে এখন ১০ থেকে ২০তম গ্রেডের সব নিয়োগেই এ ব্যবস্থা প্রযোজ্য হবে।
প্রতিটি শূন্য পদের বিপরীতে দুজন প্রার্থীকে অপেক্ষমাণ রাখা হবে। মূল তালিকার প্রার্থী যোগ না দিলে বা পরে চাকরি ছেড়ে দিলে এই তালিকা থেকে নিয়োগ দেওয়া হবে। তালিকার মেয়াদ থাকবে এক বছর। তবে এর মধ্যে নতুন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হলে অপেক্ষমাণ তালিকা কার্যকর থাকবে না। আবার এক বছরের আগে নতুন বিজ্ঞপ্তি প্রকাশও করা যাবে না, যদি না বিশেষ প্রয়োজন দেখা দেয়।
অপেক্ষমাণ প্রার্থীদের নাম, রোল ও মেধাক্রম নিয়োগ পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে নির্ধারণ করা হবে এবং নিয়োগ কমিটির অনুমোদন নিয়ে সিলগালা খামে সংরক্ষণ করা হবে। ফাঁকা পদ হলে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের নোটিশ বোর্ড ও ওয়েবসাইটে নাম প্রকাশ করা হবে। পাশাপাশি প্রার্থীকে ফোন, এসএমএস ও ডাকযোগে জানানো হবে। ১০ কার্যদিবসের মধ্যে যোগাযোগ না করলে পরের প্রার্থী সুযোগ পাবেন।
অপেক্ষমাণ তালিকা থেকে যারা নিয়োগ পাবেন, তাদের জ্যেষ্ঠতা মূল তালিকাভুক্ত প্রার্থীদের পর নির্ধারিত হবে। একই দিনে একাধিক নিয়োগ হলে পরীক্ষার মেধাক্রম অনুসারে জ্যেষ্ঠতা ঠিক হবে। সমান নম্বর পেলে বয়সের ভিত্তিতে এবং বয়সও সমান হলে শিক্ষাগত যোগ্যতার বছর অনুযায়ী জ্যেষ্ঠতা নির্ধারণ করা হবে।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, সরকারি চাকরিতে মোট অনুমোদিত পদ রয়েছে ১৯ লাখ ১৬ হাজার ৫১৯টি। এর মধ্যে প্রায় ৪ লাখ ৭৩ হাজার পদ এখনো শূন্য। বিশেষ করে ১০-২০তম গ্রেডে শূন্যপদ সবচেয়ে বেশি—১৬ লাখ ৫৯ হাজার ৬৯৩ পদের মধ্যে ৪ লাখ ৭ হাজার ১০৩টি পদ খালি। অর্থাৎ নিম্ন ও মধ্য গ্রেডে প্রায় এক-তৃতীয়াংশ পদ শূন্য।
জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞ ফিরোজ মিয়া মনে করেন, অপেক্ষমাণ তালিকা থাকলে প্রার্থীদের একই দপ্তরে বারবার আবেদন করতে হবে না, ফলে সময় ও খরচ কমবে। সরকারেরও দ্রুত শূন্য পদ পূরণ সহজ হবে।
সরকারি কর্মকর্তারাও বলছেন, এ নিয়ম কার্যকর হলে কোনো দপ্তরে দীর্ঘদিন পদ ফাঁকা থাকার সুযোগ থাকবে না। এতে নিয়োগপ্রক্রিয়া আরও দ্রুত ও কার্যকর হবে।
পতাকানিউজ/এনটি

