সরকারিতে আস্থা নেই। তাই নিয়মিত বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা নিতেন। কিন্তু একে একে গর্ভের ৩ সন্তান মারা যায়।- শিউলী রানী ঋষির এমন কথায় সবাই যেন থমকে যায়! শ’দেড়েক উপস্থিতি মিনিট খানেকের জন্য চুপ হয়ে যান। গর্ভের সন্তান মারা গেছে সুমি দাসেরও। চিকিৎসক জানিয়েছেন সন্তান ঠিকমতো বেড়ে উঠেনি। ভালোর জন্য বেসরকারি হাসপাতালে গিয়েও কোনো লাভ হয়নি বলে জানালেন সুমি দাস। তবে তারও একই কথা সরকারি হাসপাতালের সেবায় আস্থা নেই।
রবিবার, ২৯ নভেম্বর বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার সুহিলপুর ইউনিয়নের সীতানগর গ্রামে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) এর অ্যাকটিভ সিটিজেন গ্রুপ (এসিজি) আয়োজিত কমিউনিটি অ্যাকশন সভায় নারীরা এভাবেই স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে তাদের অভিজ্ঞতা কথা তুলে ধরেন। সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) এ আয়োজনে সহায়তা করেন।
সীতানগর গ্রামের কালী মন্দির চত্বরে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন এসিজি (স্বাস্থ্য) সমন্বয়ক বিশ্বজিৎ পাল বাবু। প্রধান অতিথি ছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া সাহিত্য একাডেমির সভাপতি কবি জয়দুল হোসেন। টিআইবি’র এরিয়া কো-অর্ডিনেটর মো. আব্দুর রহমানের সঞ্চালনায় এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন, তরী নামে পরিবেশভিত্তিক সংগঠনের আহ্বায়ক শামীম আহমেদ, ঐক্যবদ্ধ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পরিচালক সাবের হোসাইন।
সভায় প্রায় দেড়শ’ নারী উপস্থিত ছিলেন। এর মধ্যে ১০জনের বেশি নারী ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসা সেবা নিয়ে নিজেদের তিক্ত অভিজ্ঞতার বর্ণনা দেন। এসব বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করা হবে বলে জানানো হয়।
নারীরা বলেন, ‘সদর হাসপাতালটি সেবা দেয়ার অনুপযোগী। নোংরা পরিবেশের কারণে এখানে যেতে ইচ্ছা করে না। প্রয়োজনীয় ওষুধ পাওয়া যায় না। পরীক্ষা-নিরীক্ষা ঠিকভাবে করানো যায় না। চিকিৎসকরা ঠিকভাবে রোগীর সমস্যাও শুনেন না। নার্সসহ অন্যান্য দায়িত্বরতরা গাফিলতি করেন।’
পতাকানিউজ/এমওয়াই

