অন্তর্বর্তীকালীন সরকার উৎখাতের ষড়যন্ত্র ও রাষ্ট্র বিরোধী কার্যক্রমে অংশ নেয়ার অভিযোগে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় অভিযোগ গঠন বিষয়ে শুনানির জন্য আগামী ৫ জানুয়ারি দিন ধার্য করা হয়েছে। সোমবার, ১ ডিসেম্বর ঢাকার বিশেষ জজ আদালত ৫ এর বিচারক মোঃ আব্দুস সালাম এই তারিখ ধার্য করেন। ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ২৮৬ জনের বিরুদ্ধে এ দায়ের করা হয়েছে।
সোমবার অভিযোগ গঠন বিষয়ে শুনানির জন্য দিন ধার্য ছিল। কিন্তু কারাগারে থাকা আসামিদের পক্ষে আইনজীবীরা শুনানির জন্য সময়ের আবেদন করলে আদালত তা মঞ্জুর করে পরবর্তী তারিখ ধার্য করেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী সাইফুল্লাহ আল মামুন সাইফুল বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
এই মামলার উল্লেখযোগ্য আসামিরা হলেন যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ড. রাব্বি আলম, জয়বাংলা বিগ্রেডের সদস্য কবিরুল ইসলাম, অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম, এলাহী নেওয়াজ মাছুম, জাকির হোসেন জিকু, প্রফেসর তাহেরুজ্জামান, এ কে এম আক্তারুজ্জামান, আওয়ামী লীগ নেতা সাবিনা ইয়াসমিন, আজিদা পারভীন পাখি, শাহীন, অ্যাডভোকেট এএফএম দিদারুল ইসলাম, মাকসুদুর রহমান, সাবেক এমপি সৈয়দ রুবিনা আক্তার, সাবেক এমপি পংকজ নাথ, লায়লা বানু, ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি সাদ্দাম হোসেন, রিতু আক্তার, নুরুন্নবী নিবির, সাবিনা বেগম, শরিফুল ইসলাম রমজান প্রমূখ।
এই মামলায় ২৭ জন বিভিন্ন সময়ে গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন। শেখ হাসিনাসহ পলাতক রয়েছেন ২৫৯ জন। এর আগে গত ১৪ আগস্ট ২৮৬ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত। ওইদিন তদন্ত কর্মকর্তা প্রতিবেদন দাখিল করে শেখ হাসিনাসহ ২৮৬ জনের বিরুদ্ধে সরকার উৎখাতের পরিকল্পনার এই মামলায় অভিযোগের সত্যতা মিলেছে বলে জানান।
প্রতিবেদনে বলা হয়, জয় বাংলা ব্রিগেডের জুম মিটিংয়ে অংশ নিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে উৎখাত ও রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে অংশ নেয়ার অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ২৮৬ জন জয় বাংলা ব্রিগেডের জুম মিটিংয়ে অংশ নেয়ার অংশ নিয়েছিলেন।
প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, ওই মিটিংয়ে অংশগ্রহণকারীদের কথোপকথনের ভয়েস রেকর্ড পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ‘জয় বাংলা ব্রিগেড’ প্লাটফর্মটি সরকারকে শান্তিপূর্ণভাবে দেশ পরিচালনা করতে না দেয়ার আলোচনা হয়। মিটিংয়ে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারকে উৎখাত করতে গৃহযুদ্ধের ঘোষণা দেয়া হয় যা রাষ্ট্রদ্রোহিতার অপরাধের সুস্পষ্ট উপাদান।
এর আগে, ২০২৫ সালের ২৭ মার্চ শেখ হাসিনাসহ ৭৩ জনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে একই আদালতে মামলাটি দায়ের করেন সিআইডির সহকারী পুলিশ সুপার মো. এনামুল হক। এরপর ফৌজদারি কার্যবিধির ১৯৬ ধারায় ক্ষমতাপ্রাপ্ত হয়ে সিআইডির এই কর্মকর্তাকে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়। তদন্ত শেষে ২৮৬ জনকে আসামি করে প্রতিবেদন দাখিল করা হয়।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, গত বছরের ১৯ ডিসেম্বর ‘জয় বাংলা ব্রিগেড’ এর জুম মিটিংয়ে শেখ হাসিনাসহ অনেকে অংশ নেয়। এ সময় শেখ হাসিনা তার নেতাকর্মীদের কাছে দেশবিরোধী বক্তব্য দেন। বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে উৎখাতের নির্দেশ দেন। এ বক্তব্য পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
পতাকানিউজ/এএ/কেএস

