চট্টগ্রামের ‘শীর্ষ সন্ত্রাসী’ সরোয়ার হোসেন বাবলা হত্যা মামলায় র্যাবের হাতে ২জন গ্রেপ্তার হওয়ার পর ১৯ দিন পেরিয়ে গেলেও আর কোনো আসামিকে ধরতে পারেনি পুলিশ। এতে তদন্তের গতি নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন। সরোয়ারের পরিবারও রয়েছে শঙ্কায়। যে কোনো মুহূর্তে খুন হতে পারে সরোয়ারের পরিবারের অন্য সদস্যরা। এমনটাই জানিয়েছে তার পরিবারের পক্ষ থেকে।
বায়েজিদ বোস্তামি থানার ওসি জসিম উদ্দিন জানিয়েছেন, ‘অভিযান চলমান আছে, আমরা সব দিক খতিয়ে দেখছি। এটি একটি হত্যা মামলা। আসামি গ্রেপ্তার হলে জানানো হবে।’
সরোয়ারের পরিবারের সদস্যরা বলছেন, হত্যাকাণ্ডটি ছিল পরিকল্পিত। প্রভাবশালী কিছু ব্যক্তির নাম আসায় তদন্তে ধীরগতি দেখা দিয়েছে। তারা পুলিশের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। এছাড়া পুলিশ এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ এখনো সংগ্রহ করেনি। এর ফলে খুনিদের সনাক্ত করা যাচ্ছে না।
কিন্তু সরোয়ারের পরিবারের দাবি এখনো সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করেনি পুলিশ। কিন্তু কেন এমন হচ্ছে বা এতে কি হত্যাকাণ্ডের আলামত নষ্ট হতে পারে না? এমন প্রশ্নে আমিনুর রশিদ বলেন, ‘মামলা তদন্ত কর্মকর্তা তদন্তের সার্থে অনেক কিছু বলে না। হত্যা মামলা তদন্ত রাতারাতি করা সহজ নয়। তবে এ বিষয়ে নিয়ে পুলিশসহ গোয়েন্দা বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিট সক্রিয় রয়েছে।’
এছাড়া নগর ও জেলার বিভিন্ন হত্যা মামলায় রায়হানের নাম উঠে এসেছে। রায়হানসহ তার অন্য সহযোগীদের গ্রেপ্তারের জন্য একাধিক দল কাজ করছে বলেও জানান নগর পুলিশের গণমাধ্যম শাখার এ সহকারী কমিশনার আমিনুর রশিদ।
সরোয়ার হত্যায় র্যাবের হাতে গ্রেপ্তার দুজন হলেন- হেলাল হোসেন ওরফে মাছ হেলাল ও আলাউদ্দিন। গ্রেপ্তার দুজনই মামলার এজাহারভুক্ত আসামি। তারা দুজনকে ৬ নভেম্বর রাতে বায়েজিদ থানার হাজিরপুল এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এদিকে গত ১৩ নভেম্বর সরোয়ার হত্যা মামলায় তদন্তে প্রাপ্ত গ্রেপ্তার বেলাল উদ্দিন মুন্না নামে একজনকে আদালতের নির্দেশে ৩ দিনের রিমাণ্ডে নেবে পুলিশ। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, তদন্তে গড়িমসি করছে পুলিশ, ফলে মূল পরিকল্পনাকারীরা এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়ে গেছে।
সরোয়ারের পরিবার জানিয়েছে, সরোয়ারের জানাজা নামাজের পর পর তার ছোট ভাই আজিজকে হত্যার হুমকি দিয়েছে রায়হান ও ইমন। দ্রুত সময়ের মধ্যে তাকে হত্যা করা হবে বলেও জানিয়েছে ফোন কলে। এছাড়া সাজ্জাদ আলী ওরফে বড় সাজ্জাদের পরিবারের লোকজনকে সরোয়ার হত্যা মামলায় আসামি করতে বারণ করেছে। অন্যথায় সরোয়ারের পুরো পরিবারকে হত্যার হুমকি দেয়া হয়। এসব বিষয় পুলিশকে জানিয়েও কোনো সুরাহা পায়নি নিহত সরোয়ারের পরিবার।
সরোয়ারের পরিবারের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়, পুলিশকে সব সময় সহযোগিতা করেছে সরোয়ার। আসামি গ্রেপ্তারে পুলিশ সব সময় ক্রেডিট নিয়েছে। কিন্তু তারা সরোয়ার ছাড়া অভিযানে সফলতা পেত না। এছাড়া সরোয়ারের তথ্যে তারা অভিযান চালাতো। ওই সময় সরোয়ারকে হত্যার হুমকি দিতো সাজ্জাদ। এসব বিষয় পুলিশকে জানালেও তারা কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। এর ফলে সরোয়ারকে বাড়ির সামনে হত্যার মত নৃশংস ঘটনা ঘটেছে।
শঙ্কায় থাকলেও পুলিশের পক্ষ থেকে এখনো অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারে তেমন কোনো পদক্ষেপ চোখে পড়েনি বলেও জানিয়েছে সরোয়ারের পরিবার। সরোয়ার হত্যা মামলায় সিসিটিভি ফুটেজও সংগ্রহ করেনি পুলিশ। এমন অভিযোগও উঠেছে তার পরিবারের পক্ষ থেকে। চট্টগ্রাম-৮ আসনের বিএনপি’র সম্ভাব্য এমপি প্রার্থী এরশাদ উল্লাহর গণসংযোগে সাজ্জাদ আলীর ওরফে বড় সাজ্জাদের বাড়ি থেকে যারা যুক্ত হয়ে সরোয়ারের বাড়ির সামনে এসেছিল তাদের এখনো সনাক্ত করেনি পুলিশ। সাজ্জাদের বাড়ি থেকে সরোয়ারের বাড়ি পর্যন্ত কারা এসেছে সেই সিসিটিভি ফুটেজ বের করলে প্রকৃত খুনি বেরিয়ে পড়বে বলে আশা সরোয়ারের পরিবারের।
সরোয়ার হত্যা মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, গত ৫ নভেম্বর সরোয়ার হোসেন সাকিবের (৩৮) সাথে ব্যবসায়িক দ্বন্ধের কারণে গত ৫ নভেম্বর গুলি করে হত্যা করা হয়। এর আগে গত ৩০ মার্চ সরোয়ারকে বাকলিয়া এক্সেস রোডে শসস্ত্র হত্যার চেষ্টা করা হয়। এসময় বখতিয়ার হোসেন মানিক ও আবদুল্লাহ রিফাত গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান।
সরোয়ারকে খুনের এক সপ্তাহ আগে চাঞ্চল্যকর ৮ মার্ডার মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি সাজ্জাদ আলী হোয়াটস্অ্যাপে কল করে যা খাওয়ার খেয়ে নিতে বলেন। পরে ৫ নভেম্বর সন্ধ্যা সাড়ে ৫টায় বায়েজিদ বোস্তামী থানার চালিতাতলি খন্দকার পাড়ায় চট্টগ্রাম-৮ আসনের বিএনপি’র সম্ভাব্য এমপি প্রার্থী এরশাদ উল্লাহর গণসংযোগে লিফলেট বিলির সময় এলোপাথারী গুলি করে হত্যা করা হয়। সরোয়ারের গলায়, থুতনী, পেটে, পায়ে, পিঠে এবং ঘাড়ে মোট ৭টি গুলি লাগে।
এসময় চট্টগ্রাম-৮ আসনের বিএনপি’র সম্ভাব্য এমপি প্রার্থী এরশাদ উল্লাহর বুকে গুলিবিদ্ধ হন এবং তার সহকর্মী ইরফানুল হক শান্তর (২৫) মাথায় ও গায়ে ৪টি গুলি লাগে।
পতাকানিউজ/কেএস

