কর্মক্ষেত্রে আমরা প্রায়ই নিজেকে জাহির করার জন্য সবসময় অন্যের ভুল ধরতে ব্যস্ত থাকি। সবসময় সহকর্মীকে কাজ করার সঠিক নিয়ম নিয়ে বলতে থাকি। এতে হয়তো মনে হতে পারে,আমাদের সহকর্মী হয়তো অনেক কিছু শিখবে। কিন্তু অনেক সময় অতিরিক্ত জ্ঞান দেওয়ার কারণে হিতে বিপরীত হচ্ছে না তো? সহকর্মীর সাথে কাজের পরিবেশ এমন একটি জায়গা যেখানে সামান্য ভুল বোঝাবুঝি বা অহংকারও সম্পর্কে খারাপ প্রভাব ফেলতে পারে। তাই শিখানো পরিবর্তে আমরা সহকর্মীদের সহানুভূতিশীল, সমর্থনমূলক মনোভাব রাখতে পারি।
চলুন জেনে নিই, কেন সহকর্মীকে জ্ঞান দেওয়ার চেষ্টা না করা একটি কার্যকর জীবনধারার অংশ হতে পারে।
১। অহংকারী মনোভাব থেকে বিরত থাকা-
যখন আমরা কারো সাথে জ্ঞান ভাগ করে নেওয়ার চেষ্টা করি, তা অনেক সময় অহংকার হিসেবে ধরে নেওয়া হয়। মানুষ সহজে উপদেশ হিসেবে নাও নিতে পারে। ফলে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের বদলে দূরত্ব তৈরী হতে পারে। এক্ষেত্রে বোঝাপড়ার জায়গা খুঁজে নেওয়া অনেক বেশী ফলপ্রসূ।
২। সম্পর্কের মান বজায় রাখা-
কাজের জায়গায় সহকর্মীর সাথে সুসম্পর্ক থাকা জরুরী। বারবার শেখানোর চেষ্টা করলে সম্পর্কে উত্তাপ বাড়তে পারে। সহানুভূতি ও সহযোগিতার মনোভাব রাখলে দলের মধ্যে সমন্বয় ও বন্ধুত্বের মান বাড়ে।
৩। মনকে শান্ত রাখা-
সবসময় যদি অন্যকে সঠিক করার চিন্তায় থাকি, মানসিক চাপ বাড়তে পারে। তাই সহকর্মীর ত্রুটি নিয়ে অস্থির না হয়ে নিজের কাজের ওপর মনোযোগ দিলে মানসিক শান্তি থাকে ও কর্মক্ষমতাও বাড়ে।
৪। শেখার সুযোগ তৈরি করা-
প্রাকৃতিকভাবেই মানুষ নিজ থেকে কোনোকিছু শিখতে বেশী আগ্রহী হয়। সহকর্মীকে জ্ঞান দেওয়ার চেষ্টা না করলে তারা নিজ উদ্যোগে সমস্যা সমাধান করার সুযোগ পায়। এটি প্রত্যেককে দক্ষ ও আত্মনির্ভরশীল করে তোলে।
৫। কর্মক্ষেত্রে পেশাদারিত্ব বজায় রাখা-
অফিসের সিনিয়র জুনিয়র সবাইকে সমানভাবে সম্মান দেওয়া উচিৎ। অতিরিক্ত শেখানোর চেষ্টা পেশাদারিত্ব ক্ষুণ্ণ করতে পারে। তাই নম্রভাবে সাহায্য বা পরামর্শ দেওয়ায় সবচেয়ে উত্তম।
৬। সহযোগী হওয়া-
নির্দিষ্টভাবে কোনো সহকর্মীর ওপর শিক্ষক হয়ে যাওয়ার বদলে সহযোগী হয়ে ওঠা। দলের সকল সদস্যের সাথে সমর্থনমূলক পরিবেশ গড়ে তোলা বেশী কার্যকর ভূমিকা রাখে। এতে করে সবাই একে অপরের অভিজ্ঞতা থেকে শিখতে পারে ও সহযোগী মনোভাব বৃদ্ধি পায়।
৭।ভুল বোঝাবুঝি কমানো-
জ্ঞান দেওয়ার প্রচেষ্টা অনেক সময় আঘাতও দিতে পারে। কেউ নেতিবাচকভাবে গ্রহণ করলে ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হয়। তাই এক্ষেত্রে সবচেয়ে নিরাপদ উপায় হল্যো সমস্যা বা বিষয়গুলো উদাহরণস্বরূপ দেখানো এবং নিজের অভিজ্ঞতা শেয়ার করা।
মোদ্দাকথা কাজের পরিবেশে প্রতিটি পদক্ষেপই গুরুত্বপূর্ণ। সহকর্মীকে জ্ঞান দিতে গিয়ে সম্পর্ক ক্ষুণ্ণ করার চেয়ে বরং সহানুভূতিশীল, সহযোগিতামূলক ও সমর্থনমূলক হওয়ায় উত্তম। মনে রাখতে হবে, শেখানো সবসময় বার্তা নয়, অনেক সময় দেখানো, সহায়তা করা বা উদাহরণ তৈরী করাই সবচেয়ে কার্যকর।
পতাকানিউজ/কেএ

