আবু ধাবির জায়েদ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শুরু হয়েছে এশিয়া কাপের এবারের আসর। মঙ্গলবার রাতে উদ্বোধনী ম্যাচে হংকংকে ৯৪ রানে হারিয়ে সহজ জয় তুলে নিয়েছে আফগানিস্তান। আগে ব্যাট করে ৬ উইকেটে ১৮৮ রান করে রশিদ খানের দল। জবাবে ৯ উইকেট হারিয়ে আফগানদের ঠিক অর্ধেক অর্থাৎ ৯৪ রানে থামে হংকং।
টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটের এশিয়া কাপে এর চেয়ে বড় জয় আছে আর দুইটি। ২০২২ সালে হংকংকে ১৫৫ রানে হারিয়েছিল পাকিস্তান। একই আসরে ভারতের কাছে ১০১ রান হেরেছিল আফগানিস্তান।
বড় দলগুলোকে হারানোর বিশ্বাস নিয়ে খেলতে আসা হংকং ম্যাচজুড়ে শুধু ভুলই করে গেছে। ফিল্ডিংয়ে তারা ছেড়েছে ৫টি ক্যাচ। এশিয়া কাপে একই ইনিংসে এটিই সর্বোচ্চ ক্যাচ মিসের রেকর্ড। এর মধ্যে অতল একাই পেয়েছেন তিনবার জীবন।
বড় লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে পাওয়ার প্লের মধ্যে রান আউট হন হংকংয়ের দুই ব্যাটার। এত এত ভুলের মাশুল দিয়ে ম্যাচে তাদের পরাজয়ের ব্যবধানটাও তাই বেশ বড়।
ভুলের সুযোগ কাজে লাগাতে ভুল করেননি অতল, ওমরজাইরা। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত খেলে ৫২ বলে ৭৩ রান করেন ২৪ বছর বয়সী ওপেনার। আর ছয় নম্বরে নেমে মাত্র ২১ বলে ৫৩ রানের টর্নেডো ইনিংস খেলেন ওমরজাই।
বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে ২ চারের সঙ্গে ৫টি ছক্কা মেরে মাত্র ২০ বলে ফিফটি করেন ওমরজাই। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে আফগানিস্তানের হয়ে এটি দ্রুততম ফিফটি। গত বছর ভারতের বিপক্ষে গুলবদিন নাইব ও ২০১৭ সালে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে মোহাম্মদ নবী ২১ বলে করেছিলেন ফিফটি।
টস জিতে ব্যাট করতে নেমে আফগানিস্তানের শুরু তেমন ভালো ছিল না। ২৬ রানের মধ্যে ড্রেসিং রুমে ফিরে যান রহমানউল্লাহ গুরবাজ ও ইব্রাহিম জাদরান। তৃতীয় উইকেটে ৫১ রানের জুটি গড়ে প্রাথমিক ধাক্কা সামাল দেন নবী ও অতল। ২৬ বলে ৩৩ রান করে আউট হন নবী। নাইবও ফেরেন দ্রুত।
১৩ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে ৯৫ রান থাকা অবস্থায় ব্যাটিংয়ে যান ওমরজাই। পঞ্চম উইকেটে অতলকে নিয়ে মাত্র ৩৫ বলে তিনি গড়েন ৮২ রানের জুটি। এশিয়া কাপে পঞ্চম উইকেট বা এর পর এটি সর্বোচ্চ জুটির রেকর্ড। ২০১৬ সালের আসরে বাংলাদেশের বিপক্ষে ৭০ রানের জুটি গড়েছিলেন পাকিস্তানের শোয়েব মালিক ও সরফরাজ আহমেদ।

ওমরজাই ও অতলের জুটিতে শেষ ৪ ওভারে ৬৯ রান যোগ করে আফগানিস্তান। যা তাদের নিয়ে যায় হংকংয়ের ধরাছোঁয়ার বাইরে। হংকংয়ের পক্ষে ২ উইকেট নিতে ৪ ওভারে ৫৪ রান খরচ করেন আয়ুশ শুকলা। কিঞ্চিত শাহ ৩ ওভারে ২৪ রানে নেন ২ উইকেট।
হংকংয়ের পেসারদের ওপরই মূল ঝড় বইয়ে দেন আফগান ব্যাটাররা। পেসারদের ৯ ওভারে ১১২ রান করে তারা। বিপরীতে ১১ ওভারে মাত্র ৭৫ রান খরচ করে স্পিনাররা।
রান তাড়ায় একবারের জন্যও জয়ের কোনো আশা জাগাতে পারেনি হংকং। প্রথম ওভারেই আনশুমান রাঠকে আউট করেন ফজলহক ফারুকি। রিপ্লেতে অবশ্য দেখা যায় আনশুমানের ব্যাটে লাগেনি বল। কিন্ত রিভিউ না নেওয়ায় উইকেট বাঁচাতে পারেননি তিনি।
পরের ওভারে আরেক ওপেনার জিসান আলিকে ফেরান ওমরজাই। হংকংয়ের বিপদ বাড়িয়ে তৃতীয় ওভারে রান আউট হন নিজাকাত খান। কোনো বলই মোকাবিলা করতে পারেননি তিনি।
এশিয়া কাপে শূন্য বলে শূন্য রান করে আউট হওয়া দ্বিতীয় ব্যাটার নিজাকাত। ২০২২ সালের আসরে আফগানিস্তানের বিপক্ষেই একই পরিণতি হয়েছিল শ্রীলঙ্কার মাহিশ থিকশানার।
পঞ্চম ওভারে চতুর্থ উইকেটটিও রান আউটেই হারায় হংকং। এরপর একপ্রান্ত ধরে রেখে কিছু রান করার চেষ্টা করেন বাবর হায়াত। ৩ নম্বরে নেমে ৩ ছক্কায় ৪৩ বলে ৩৯ রানের ইনিংস খেলেন ৩৩ বছর বয়সী এই ব্যাটার।
এরপর পরাজয়ের ব্যবধান কমানোর চেষ্টা করেন সাত নম্বরে নামা অধিনায়ক ইয়াসিম মুর্তাজা। অষ্টম ব্যাটার হিসেবে ফেরার আগে ২৬ বলে ১৬ রান করেন তিনি।
আফগানিস্তানের পক্ষে ২টি করে উইকেট নেন ফারুকি ও নাইব। রশিদ, ওমরজাই ও নুর আহমাদের ঝুলিতে যায় ১টি করে উইকেট।
পতাকানিউজ/কেএস

