চট্টগ্রাম মহানগরের খুলশী থানার ভেতরে রবিবার, ১২ অক্টোবর পোর্ট সিটি ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি (পিসিআইইউ) জার্নালিজম অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের (পিজা) সদস্য এবং যমুনা টেলিভিশন চট্টগ্রাম ব্যুরোর স্টাফ রিপোর্টার জোবায়েদ ইবনে শাহাদাত ও ক্যামেরা জার্নালিস্ট আসাদুজ্জামান লিমনের ওপর হামলা করে সিএমপি’র উত্তর জোনের ডিসি আমিরুল ইসলাম।
এই জঘণ্য কর্মকাণ্ডে অবিলম্বে তাকে প্রত্যাহার ও তার অপরাধের বিচারের দাবি জানিয়েছে পিজা। সোমবার, ১৩ অক্টোবর বিকেল ৪টায় মহানগরের চেরাগী পাহাড় চত্বরে আয়োজিত মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশে এই দাবি জানানো হয়।
পিজা’র সভাপতি ইমরান বিন ছবুরের সভাপতিত্বে ও সংগঠনের সদস্য হামিদ উদ্দিনের সঞ্চালনায় সমাবেশে চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের (সিইউজে) সাধারণ সম্পাদক সবুর শুভ বক্তব্য রাখেন।
তিনি বলেন, ‘খুলশী থানায় পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে যমুনা টিভির স্টাফ রিপোর্টার জোবায়েদ ইবনে শাহাদাত ও ক্যামেরা জার্নালিস্ট আসাদুজ্জামান লিমন এর ওপর চট্টগ্রাম মেট্টোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) (উত্তর জোনের) ডিসি আমিরুল ইসলামের হামলা কোনোভাবেই মেনে নেয়া যায় না।
তিনি আরও বলেন, ‘এই পুলিশ প্রশাসন বার বার আমাদের সাংবাদিক সহযোদ্ধাদের প্রতি বর্বর ঘৃণ্য আচরণ করে যাচ্ছে তা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। শুধু তাই নয়, এই পুলিশ কর্মকর্তাকে অবিলম্বে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করে তার বিরুদ্ধে আইনী ও বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানায়।’

পিজা’র সভাপতি ইমরান বিন ছবুর বলেন, ‘৫ই আগস্ট পরবর্তী সময়ে পুলিশের ভাবমূর্তি একদম তলানিতে ছিল। তারা সাধারণ জনগণের সামনে মুখ দেখাতে পারছিল না। তখন তাদের প্রতি সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছিল আমাদের সংবাদকর্মীরা। আর এখন তারাই আমাদের এই সহযোদ্ধাদের ওপর হামলা করছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘এই প্রতিবাদ সমাবেশের মাধ্যমে বার্তা দিতে চাই, অবিলম্বে এই পুলিশ কর্মকর্তা আমিরুল ইসলামকে প্রত্যাহার করে তার বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা নেয়া না হলে আমাদের আন্দোলন চলমান থাকবে।’
পিজা’র সিনিয়র সহ-সভাপতি তাপস বড়ুয়া বলেন, ‘সাংবাদিকরা রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ। তারা সমাজের সত্য তুলে ধরেন, অন্যায়ের বিরুদ্ধে কলম ধরেন। অথচ সেই সাংবাদিকদেরই যদি হয়রানি, মারধর বা ভয় দেখানো হয়— তাহলে জনগণের অধিকার কোথায় নিরাপদ থাকবে? আমাদের যমুনা টেলিভিশনের দুই সহযোদ্ধার ওপর পুলিশি হামলার বিচার না হলে আরো কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবো।’
পিজা’র সাবেক আহবায়ক পার্থ প্রতীম নন্দী বলেন, ‘আমাদের যে দুই সহযোদ্ধাদের ওপর ন্যাক্কারজনক পুলিশি হামলা চালানো হয়েছে, তা শুধু দুই সাংবাদিকের ওপর হামলা নয়— তা পুরো সাংবাদিক সমাজের ওপর আঘাত। এই আঘাত সাংবাদিক সমাজের কন্ঠরোধের এক ভয়াবহ উদাহরণ।’
তিনি আরও বলেন, ‘সম্প্রতি সময়ে আমাদের আরেক সহযোদ্ধা এখন টেলিভিশনের চট্টগ্রাম ব্যুরো প্রধান হোসাইন জিয়াদের ওপর সন্ত্রাসী হামলা হয়েছে। এই হামলায় পুলিশ প্রশাসন এখন পর্যন্ত একজন সন্ত্রাসীকেও গ্রেপ্তার না করে পুনরায় আমাদের সহযোদ্ধাদের ওপর পুলিশি হামলা করা হয়েছে। অবিলম্বে এই পুলিশের ডিসি আমিরুল ইসলামকে যতোক্ষণ পর্যন্ত প্রত্যাহার করে আইনী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না ততোক্ষণ পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন সমাবেশ চলমান থাকবে।’
এসময় আরও বক্তব্য রাখেন, পিজা’র যুগ্ম-সম্পাদক ইব্রাহীম জুলহাজ নীল, সদস্য পদ বিষয়ক সম্পাদক নাহিদুল ইসলাম ইমন, পিসিআইইউ মিডিয়া ক্লাবের সভাপতি রবিন দাস গুপ্ত, পিজার সদস্য হাসিবুল আলম, বর্তমান শিক্ষার্থী আরিফুল ইসলাম তামিম ও বিভিন্ন ব্যাচের শিক্ষার্থীরা।
সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন, সিইউজের সাংগঠনিক সম্পাদক সুবল বড়ুয়া, পিজা কার্যনির্বাহী কমিটির সাধারণ সম্পাদক সারোয়ার আহমদ, সহ-সভাপতি মিশু পাল, ট্রেজারার সাখাওয়াত আলম রিমন, প্রচার, প্রকাশনা ও দপ্তর সম্পাদক আনোয়ার হোসাইন, পিসিআইইউ মিডিয়া ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক প্রান্ত চৌধুরীসহ চট্টগ্রামে কর্মরত সাংবাদিক এবং পোর্ট সিটি ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি সাংবাদিকতা বিভাগের সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা।
পতাকানিউজ/এমএফ/আরএস/এএইচ

