রায়হান রাফীর পরিচালিত ওয়েবফিল্ম ‘অমীমাংসিত’ মুক্তির অপেক্ষায় দিন গুনছিলো। এমন সময় এই ওয়েবফিল্মটি প্রদর্শন উপযোগী নয় বলে দাবী করে চূড়ান্ত রায় দিয়েছিল চলচ্চিত্র সেন্সর বোর্ড। গত বছর ২৪ এপ্রিল এই সিদ্ধান্ত জানান বোর্ডের উপপরিচালক মো. মঈনউদ্দীন। এরপর প্রায় দেড় বছর পেরিয়ে গেছে। অবশেষে সেই ‘অমীমাংসিত’ জট খুলতে চলেছে। ওটিটি প্ল্যাটফর্ম আইস্ক্রিনে মুক্তি পেতে চলেছে রায়হান রাফি পরিচালিত এই সিনেমাটি।
সাংবাদিক দম্পতি নিজ বাসায় খুন হন, কিন্তু কারা খুন করল এই দম্পতিকে? কী ছিল তাদের উদ্দেশ্য? সেই সাংবাদিক দম্পতির মৃত্যুরহস্য নিয়ে ওটিটি প্ল্যাটফর্মে আইস্ক্রিনের জন্য রায়হান রাফি বানিয়েছেন ওয়েব ফিল্ম ‘অমীমাংসিত’। কাজ শেষ হলেও বহুদিন ধরেই আটকে আছে ফিল্মটি। সিনেমাটি গত বছর ২৯ ফেব্রুয়ারি মুক্তি পাওয়ার কথা ছিল। তবে তৎকালীন সেন্সরবোর্ড আপত্তি জানানোর কারণে এই সিনেমার মুক্তি আটকে যায়। অবশেষে জট খুলতে যাচ্ছে বহুল প্রতীক্ষিত রহস্যের।
আইস্ক্রিন সূত্র থেকে জানা যায়, সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে এই ডিসেম্বরেই আইস্ক্রিনে দেখা যাবে ‘অমীমাংসিত’। সিনেমার দুই কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেছেন ইমতিয়াজ বর্ষণ ও তানজিকা আমিন।
‘অমীমাংসিত’ সিনেমাটিকে ছাড়পত্র না দেওয়ার পিছনে চারটি উল্লেখযোগ্য কারণের কথা উল্লেখ করেছিল তৎকালীন সেন্সর বোর্ড। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে সিনেমাটি ছাড়পত্র না দেওয়ার পেছনে যে চারটি কারণের কথা উল্লেখ করা হয়েছিল তার মধ্যে প্রথম কারণ হলো চলচ্চিত্রটিতে নৃশংস খুনের দৃশ্য ব্যবহার করা হয়েছে। এছাড়া রয়েছে কাল্পনিক কাহিনী , চিত্রনাট্য ও সংলাপের বিষয়বতস্তু যা বাস্তবের সাথে মিল রয়েছে। এই গল্পের কাহিনী বাস্তবে ঘটেছে এবং এই ঘটনা সংশ্লিষ্ট মামলার সম্পর্কে ভুল বার্তা দিতে পারে। এর ফলে তদন্তের বিঘ্ন ঘটতে পারে।
এছাড়া সেন্সর বোর্ডের সদস্যরা আরও জানান, দ্যা কোড ফর সেন্সরশিপ অব ফিল্মস ইন বাংলাদেশ, ১৯৮৫ এর ১-এর I, V, VII দফায় বর্ণিত উপাদানগুলো চলচ্চিত্রটি বিদ্যমান থাকায় এটি জনসাধারণের মধ্যে প্রদর্শন উপযোগী নয়। তাই বাংলাদেশ সেন্সরশিপ আইনের বিধি ১৬(৫) মোতাবেক ঐ চলচ্চিত্রের সেন্সর আবেদনপত্র নির্দেশক্রমে অগ্রাহ্য করা হয়েছে।
সেন্সর বোর্ডের আপত্তির আগে ২০২৪ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি ছবিটির টিজার প্রকাশ করা হয়েছিল। সেটা দেখে অধিকাংশ দর্শক আঁচ করেছেন, এটি আলোচিত সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনির হত্যাকান্ডকে ঘিরে নির্মিত। এর ঘটনার এক যুগ পেরিয়ে গেলেও এখনো এই ঘটনার কোন তথ্য খোলাসা হয়নি।
৪০ সেকেন্ডের প্রকাশিত টিজারে হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য লিখিত সংলাপ আকারে তুলে ধরা হয়েছিল। সংলাপগুলো খানিকটা এরকম ছিলো- ‘খুনগুলো হয়েছে আনুমানিক রাত দেড়টা থেকে দুইটার মধ্যে, এটা কোনো চুরি ডাকাতির কেস..’, সাংবাদিক প্রতিবেশী, আত্মীয়স্বজন সবাই ক্রাইম জোনের আলামত নষ্ট করেছে। আমার করার কী ছিল? ‘, ‘ওদের কেউ মারেনি, ওরা নিজেরাই নিজেদের খুন করেছে’, ‘এটা নিশ্চিত পরকীয়া কেস! নইলে সেদিন…।‘ এরকম আরও অনেক সংলাপ।
এক সাক্ষাৎকারে সিনেমাটি নিয়ে ইমতিয়াজ বর্ষণ বলেন, শুরু থেকেই রায়হান রাফী কাজটি আলাদাভাবে বানানোর চেষ্টা করেছিলেন। এই সিরিজে গল্পের প্রয়োজনে লং টেকের শট রয়েছে। কিছু কিছু দৃশ্য ৩ থেকে ৪ মিনিট করে। এই সিনেমায় মনস্তাত্ত্বিক বিষয় রয়েছে যার কারণে নতুন একটি ভিজ্যুয়াল লুক পাবেন দর্শকেরা। যদিও ছবিটি মুক্তির চূড়ান্ত দিনক্ষণ এখনো নিশ্চিত করেনি আইস্ক্রিন।
পতাকানিউজ/কেএ

