চট্টগ্রাম মহানগরের বাকলিয়া থানার এক্সেস রোডে কলেজছাত্র ও আনসার সদস্য সাজ্জাদ হত্যাকাণ্ড ঘিরে নতুন করে উঠেছে রাজনৈতিক প্রভাব খাটানো, মামলাকে ভিন্ন খাতে নেয়া এবং পরিকল্পিত ‘ব্ল্যাকআউট’-এর অভিযোগ। নিহতের মা ফরিদা বেগমের করা দ্বিতীয় মামলায় এসব বিষয় উঠে আসে। এরপর তিনি মামলা প্রত্যাহারে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন প্রভাব বিস্তার করছেন বলে অভিযোগ করেন। তবে ফরিদা বেগমের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ডা. শাহাদাত হোসেন।
সোমবার, ২৪ নভেম্বর সকালে চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন পতাকানিউজকে সাজ্জাদ হত্যাকাণ্ড, মামলাসহ বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্য দেন। সাজ্জাদ হত্যাকাণ্ডের পর প্রথম মামলা করেন তারা বাবা। পরে আরো একটি মামলা করেন সাজ্জাদের মা ফরিদা বেগম। তিনি অভিযোগ করেন চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন তাঁকে ফোন করে মামলা তুলে নিতে বলেন। পরে বাসার সামনে অজানা অস্ত্রধারীদের ‘মহড়া’ হয়েছে; এতে তারা আতঙ্কিত হয়ে আদালতে মামলা প্রত্যাহারের আবেদনে বাধ্য হন। তবে এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন মেয়র।
চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন পতাকানিউজকে বলেন, ‘আসলে আমি তো এ ধরনের কল কাউকে করি না। তিনি বলেন, এক্সেস রোড এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে একটি গ্রুপের চাঁদাবাজি, ভূমি দখল ও দোকান দখলের বিষয়ে তাঁর কাছে অভিযোগ আসত। বোরহান ও সোহেলের নাম এসেছে। তারা দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগ–যুবলীগ করত। দোকান দখলের তিনটি অভিযোগ আমাদের সিটি করপোরেশনে এসেছে। মেয়র হিসেবে আমি তাদের ডেকে দোকান ফেরত দিতে বলেছিলাম। কিন্তু তারা যেহেতু প্রতিপক্ষ গ্রুপ, তাই আমার ডাকে আসেনি।’
মেয়রের দাবি, বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, অস্ত্রধারী তৎপরতা ও মাদকের অভিযোগে তিনি পুলিশ কমিশনারকে গ্রেপ্তারের অনুরোধ করেন। ‘আমি বলেছিলাম এরা শহরকে অনিরাপদ করছে, গ্রেপ্তার করা উচিত। কমিশনার তখন ওসিকে বলেছিলেন। কিন্তু কোনো কারণে তৎকালীন ওসি তাদের গ্রেপ্তার করেননি। এরপরই তাদের ঔদ্ধত আচরণ আরও বেড়ে যায়। তিনি বলেন, বাদশা গ্রুপের সঙ্গে জাকিরদের একটি পিকনিকগামী বাসে হামলার ঘটনার পর পাল্টা হামলা হয় এবং সেই ঘটনায় মামলা হয়। আমি তখনও বলেছিলাম এবার অন্তত ওদের গ্রেপ্তার করা উচিত। পরবর্তীতে আমার কাছে খবর আসে এক্সেস রোড এলাকায় আমাদের নামে ব্যানার টাঙানো হয়েছে।’
মেয়র বলেন, ‘আমাদের ছেলেরা গেলে তারা সংখ্যায় কম ছিল ৫–৬ জন। সেখানে সাজ্জাদও ছিল। সাজ্জাদ মূলত ছাত্রদল করত, মহানগর ছাত্রদলের জয়েন্ট কনভেনার আসাদ কাদেরের সঙ্গে থাকত। বাকবিতণ্ডার এক পর্যায়ে তারা গুলি করে সাজ্জাদকে হত্যা করে।’ মেয়র জানান তিনি পুলিশকে বলার পর ঘটনাস্থলের ফুটেজ সংগ্রহ করা হয় এবং কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করে। মেইন দুজন এখনো ধরা পড়েনি। কিন্তু যারা সাজ্জাদকে হত্যা করেছে তারা সবাই এলাকা ছেড়ে গা–ঢাকা দিয়েছে।
নিজেকে নিয়ে প্রচারিত দাবি প্রসঙ্গে ডা. শাহাদাত বলেন, ‘সাজ্জাদের বাবা নিজে বাদী হয়ে মামলা করেছেন। তাঁর চতুর্থ দিনের দোয়া অনুষ্ঠানেও আমাকে দাওয়াত দেন; আমি যাই। আর্থিক সহায়তার কথাও বলেন, সেটিও করেছি। একটা মামলা চলমান থাকা অবস্থায় সাজ্জাদের মা আরেকটি মামলা করতে পারেন না। কাজেই চাপ দেয়ার প্রশ্নই ওঠে না।’
বহিস্কৃত যুবদল নেতা এমদাদুল হক বাদশা প্রসঙ্গে মেয়র বলেন, ‘বাদশার সঙ্গে চকবাজার–মহসিন কলেজ–চট্টগ্রাম কলেজকেন্দ্রিক জামায়াত–শিবিরের দীর্ঘদিনের দ্বন্দ্ব আছে। তাই ওই পন্থিরা এখন তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে।’ মেয়রের দাবি, ‘যারা অপরাধ করেছে তারা লুকিয়ে আছে যারা নিরপরাধ তারা এলাকায় স্বাভাবিকভাবে আছে। এটা পরিষ্কার কারা হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে।’
মেয়রের দাবি একটি মামলা চলমান অবস্থায় আরেকটি মামলা করা যায় না। সাজ্জাদের মাকে কেউ ভুল পথে নিলে তার দায় কে নেবে- এমন প্রশ্নও করেন তিনি। একই হত্যার ঘটনায় দুই মামলা প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম মহানগর পিপি মফিজুল হক ভূঁইয়া পতাকা নিউজকে বলেন, ‘একটি হত্যাকাণ্ডে দুটি মামলা হতে পারে না। দুটি মামলা করলেও এগুলোর ফলাফল শূণ্য। সেক্ষেত্রে প্রথম মামলায় আসামি যুক্ত করতে পারে।’
পতাকানিউজ/এএস/কেএস

