চট্টগ্রামে শীর্ষ সন্ত্রাসী সরোয়ার বাবলা হত্যার ঘটনায় তার বাবা আব্দুল কাদের বাদী হয়ে বায়েজিদ বোস্তামী থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় বিদেশে পলাতক মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি সাজ্জাদকে এক নম্বর আসামি করে মোট ৭ জনের নাম উল্লেখ করা হয়। সাজ্জাদ ছাড়া মামলার অন্য আসামিরা হলো, রায়হান, মোবারক হোসেন ইমন, বোরহান, আলাউদ্দিন, মো. হেলাল, মো. নিজাম উদ্দিন। এছাড়া ১৫/১৬ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে মামলায়।
৫ নভেম্বর সন্ধ্যায় হত্যাকাণ্ডের পর ৭ নভেম্বর রাত তিনটার সময় বায়েজিদ বোস্তামী থানায় মামলা করেন আব্দুল কাদের। মামলার এজহারে বাদী উল্লেখ করেন, গত এক সপ্তাহ আগে সাজ্জাদ ফোন করেছিলেন সরোয়ারকে। হুমকি দিয়ে ওইদিন বলেছিলেন ‘তোমার সময় শেষ, যা খাওয়ার খেয়ে নেও’। হুমকির বিষয়টি সরোয়ার পরিবারের সদস্যদের জানিয়েছিলেন।
এরপর ৫ নভেম্বর সন্ধ্যায় চালিতাতলী এলাকায় জনসংযোগ করতে যান চট্টগ্রাম-৮ আসন থেকে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী এবং মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক এরশাদ উল্লাহ। মাগরিবের নামাজের পর জনসংযোগের সময় কিছুটা দূরে দাঁড়িয়েছিলেন আব্দুল কাদের। আর এরশাদ উল্লাহর খুব কাছেই ছিলেন সারোয়ার। এই সময় মামলার এজহারভুক্তসহ অজ্ঞাত আসামীরা সরোয়ারের গলা, থুতনি, পেট, পা, পিঠ এবং ঘাড়ে ৭টি গুলি করে।
একই সময় সরোয়ারের কাছে জনসংযোগরত অবস্থায় থাকা এরশাদ উল্লাহও বুকে গুলিবিদ্ধ হন। আর এরশাদ উল্লাহ সহযোগি ইরফানুল হক শান্ত’র মাথা ও গায়ে চারটি গুলি লাগে।
ঘটনার পরপরই আহতদের এভারকেয়ার হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক সরোয়ারকে মৃত ঘোষণা করেন। আর এরশাদ উল্লাহ এবং শান্তকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এই মামলার সূত্র ধরে র্যাব-৭ অভিযান চালিয়ে এজাহারভুক্ত দুই আসামি আলাউদ্দিন এবং মাছ হেলালকে গ্রেপ্তার করে। র্যাব-৭-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাফিজুর রহমান জানিয়েছেন, দুই আসামি প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করেছে। তবে আসামিরা সাজ্জাদের অনুসারীদের সঙ্গে চলাফেরা করে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে র্যাবের ধারাবাহিক অভিযান অব্যাহত আছে।
কে এই সরোয়ার বাবলা?
চট্টগ্রামের আন্ডারওয়াল্ডের নিয়ন্ত্রকদের একজন ছিলেন সরওয়ার বাবলা। তার প্রতিপক্ষ ছিল দুই সাজ্জাদ। বড় সাজ্জাদ ও ছোট সাজ্জাদ হিসেবে সমধিক পরিচিত এই দুই সন্ত্রাসীদের সঙ্গে সরোয়ারের সম্পর্ক ছিল সাপে-নেউলে। অথচ একটা সময় ছিল সরওয়ার এবং আরেক সন্ত্রাসী ম্যাক্সন ছিল বড় সাজ্জাদের ঘনিষ্ট সহযোগী। পরবর্তীতে তাদের পথ ভিন্ন হয় – স্বার্থের দ্বন্ধে।
সরওয়ার বাবলা মৃত্যুর কয়েক সপ্তাহ আগে পতাকানিউজের সঙ্গে তার এবং প্রতিপক্ষের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বিষয়ে কথা বলেছিলেন। এই সময় নানা প্রশ্নের জবাব দিয়েছিলেন আলোচিত এই সন্ত্রাসী। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে তার জীবনের জন্য বড় হুমকি হিসেবে ‘বড় সাজ্জাদ ও ছোট সাজ্জাদের’ নাম উল্লেখ করেছিল। অবশ্য, মৃত্যুর পর সরওয়ারের বাবা আব্দুল কাদের বড় সাজ্জাদকে এক নম্বর আসামি করেছেন। ছোট সাজ্জাদ কারাগারে থাকায় হত্যার দায় থেকে আপাতত বেঁচে গেছে।
সরওয়ার বাবলার পরিচিতি ছিল ছাত্রশিবির ‘ক্যাডার’ হিসেবে। চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের ঘটনায় তার বিরুদ্ধে ১৭টি মামলা ছিল। ওই সব মামলা থেকে জামিন পেয়ে এক সময় কাতার প্রবাসে চলে গিয়েছল। ২০২০ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি ফেরার পথে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সরওয়ারকে আটক করেছিল ইমিগ্রেশন পুলিশ। পরে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ তাকে নিয়ে বায়েজিদ থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে একটি একে-২২ রাইফেল এবং গুলি উদ্ধার করেছিল। সেই মামলা থেকে জামিন পায় সরওয়ার।
অবশ্য, অনেক আগে থেকেই আরেক শিবির ক্যাডার সাজ্জাদ হোসেনের সহযোগী হিসেবে সরওয়ারের পরিচিতি ছিল। এই সাজ্জাদ আট খুনের ঘটনায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি। তিনি এখন ভারতে অবস্থান করছেন।
পতাকানিউজ/এসএমআর

