বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের রূপকার, সাবেক অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী, বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফ’র সাবেক চেয়ারম্যান, বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সাবেক সদস্য মরহুম এম. সাইফুর রহমানের ১৬তম মৃত্যুবার্ষিকী কাল শুক্রবার পালিত হবে।
এ উপলক্ষে এম. সাইফুর রহমান স্মৃতি পরিষদ স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিল আয়োজন করেছে। দিনব্যাপী কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে, সকালে মরহুমের কবর জিয়ারত ও পুষ্পস্তবক অর্পণ, বাদ জুমা মিলাদ এবং শিরনি বিতরণ। বিকেল ৪টায় মৌলভীবাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে এম. সাইফুর রহমান অডিটোরিয়ামে স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হবে।
জানা যায়, এম সাইফুর রহমান ১২ বার সংসদে বাজেট পেশ করেছেন। ২০০৯ সালের ৫ সেপ্টেম্বর নিজ বাড়ি বাহারমর্দন থেকে ঢাকায় যাওয়ার সময় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে সড়ক দুর্ঘটনায় তিনি নিহত হন।
এদিকে মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ ও সিলেটের বিএনপির উদ্যোগে মরহুমের কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ, মিলাদ ও আলোচনা সভার আয়োজন করেছে।
স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিলে প্রধান হিসেবে উপস্থিত থাকবেন সাবেক মন্ত্রী, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ (বীর বিক্রম), স্বাগত বক্তব্য দেবেন, সাবেক এমপি, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য এম নাসের রহমান।
বিশেষ অতিথি থাকবেন, সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. আমিনুল ইসলাম, বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক জি কে গৌছ, জেলা বিএনপির আহবায়ক ফয়জুল করিম ময়ূন, সদস্যসচিব আব্দুর রহিম রিপন প্রমুখ।
অ্যাডভোকেট ড. আব্দুল মতিনের সঞ্চালনায় সভাপতিত্ব করবেন পরিষদের সভাপতি সৈয়দ তৌফিক আহমদ।
অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে উন্মোচিত হবে নির্মাণাধীন এম. সাইফুর রহমান স্মৃতি জাদুঘর এর নকশা। জাদুঘরটি হবে তার কর্মময় জীবনের দলিল এবং নতুন প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করার এক অনন্য ভাণ্ডার।
মৌলভীবাজার জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ফয়জুল করিম ময়ূন বলেন ‘এম. সাইফুর রহমান ছিলেন আমাদের স্বপ্নের আলোকবর্তিকা। তার মতো বিশ্ববরণ্যে নন্দিত অর্থনীতিবিদ আর জন্মাবে কি না সন্দেহ।’
সংক্ষিপ্ত জীবনী: জন্ম ১৯৩২ খ্রিষ্টাব্দের ৬ অক্টোবর, মৌলভীবাজারের বাহারমর্দনে। তার বাবা মোহাম্মদ আব্দুল বাছির, মা তালেবুন নেছা। তিন ভাইয়ের মধ্যে বড় ছিলেন তিনি। মাত্র ৬ বছর বয়সে বাবা মারা যান। সে সময়ে তার অভিভাবকক্ত গ্রহণ করেন চাচা মোহাম্মদ সফি। শিক্ষাজীবন, গ্রামের মক্তব ও পাঠশালা শেষ করে তিনি ১৯৪০ সালে জগৎসী গোপালকৃষ্ণ উচ্চ ইংরেজী বিদ্যালয়ে ভর্তি হন।
১৯৪৯ সালে মেট্রিকুলেশন শেষ করে সিলেটের এমসি কলেজ থেকে আইকম পাশ করে ১৯৫১ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। ১৯৫৩ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গ্রাজুয়েশন ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপর তিনি ব্যারিস্টারি পড়ার জন্য লন্ডন যান। সেখানে গিয়ে মত পাল্টে যায়। ব্যারিস্টারির পরিবর্তে পড়েন চার্টার্ড একাউন্টেন্সি।
১৯৫৩-৫৮ সময়কালে পড়াশোনার পর ১৯৫৯ সালে ইনস্টিটিউট অব চার্টার্ড একাউন্ট্যান্টস ইংল্যান্ড এন্ড ওয়েলস ফেলোশিপ অর্জন করেন। এছাড়া আর্থিক ও মুদ্রানীতি এবং উন্নয়ন অর্থনীতিতে বিশেষায়িত শিক্ষাগ্রহণ করেন। ১৯৬০ সালের ১৫ জুলাই বেগম দূররে সামাদ রহমানের সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। এই দম্পতি তিনি তিন পুত্র ও এক কন্যাসন্তানের জনক। ২০০৩ সালে স্ত্রী মারা যান। তার শেষ ইচ্ছানুযায়ী বাহারমর্দনে তকে শায়িত করা হয়।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি’র) প্রতিষ্ঠালগ্নে জিয়াউর রহমান তাকে বলেন, দল গঠনে অংশ নিয়ে দেশ ও জাতীর কল্যাণে নিবেদিত হতে। তিনি তাই করলেন। রাজনীতিতে এলেন আলোকিত করলেন আলোকিত হলেন। ১৯৯৬ সালে ষষ্ট ও সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মৌলভীবাজার-৩ আসন ও ২০০১ সালের অষ্টম সংসদ নির্বাচনে মৌলভীবাজার-৩ ও সিলেট-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
পতাকানিউজ/এসআই/এএইচ

