দুর্নীতির মামলায় সাবেক জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেনকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত । রবিবার, ১ ফেব্রুয়ারি ঢাকা মহানগর দায়রা জজ ও সিনিয়র বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো. সাব্বির ফয়েজ গ্রেপ্তার দেখানোর এ আদেশ দেন।
দুর্নীতির মাধ্যমে জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করা হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের সহকারী পরিচালক খোরশেদ আলম এ আবেদন করেন।
আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন দুদকের পিপি মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম। শুনানি শেষে আদালত গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করেন। পিপি তরিকুল জানান, গ্রেপ্তার দেখানোর পর ফরহাদ হোসেনকে আবার কারাগারে পাঠানো হয়।
গত বছর ২৬ নভেম্বর জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও অর্থপাচারের অভিযোগে ফরহাদ হোসেনের বিরুদ্ধে দুদকের প্রধান কার্যালয়ে মামলা করা হয়।
মামলায় অভিযোগ করা হয়, ফরহাদ হোসেন তার নামে মোট ২ কোটি ৪৩ লাখ ৪২ হাজার ৪৬৭ টাকা মূল্যের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ অর্জন করেছেন। আয়কর নথিতে উল্লেখিত ৬৪ লাখ ৪১ হাজার ৯৫৬ টাকা পারিবারিক ব্যয়সহ তার মোট সম্পদ দাঁড়ায় ৩ কোটি ৭ লাখ ৮৪ হাজার ৪২৩ টাকা। এর বিপরীতে বৈধ উৎস হিসেবে দেখাতে পেরেছেন মাত্র ১ কোটি ৯৫ লাখ ৯৮ হাজার ১৭১ টাকা। ফলে তার জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদের পরিমাণ দাঁড়ায় ১ কোটি ১১ লাখ ৮৬ হাজার ২৫২ টাকা।
এছাড়া ফরহাদ হোসেনের নামে খোলা ১২টি ব্যাংক হিসাবে ৬ কোটি ৫৪ লাখ ৫৬ হাজার ৪৭১ টাকা জমা এবং ৬ কোটি ৩৫ লাখ ৬৮ হাজার ৯৯৬ টাকা উত্তোলনের তথ্য পাওয়া যায়। যা দুদকের মতে ‘অস্বাভাবিক ও সন্দেহজনক লেনদেন’।
ক্ষমতার অপব্যবহার, অসাধু উপায়ে সম্পদ অর্জন, জ্ঞাত আয়ের উৎস গোপন এবং অবৈধ অর্থ লেনদেন—এসব অপরাধে ফরহাদ হোসেনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এর ২৭(১) ধারা, ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারা এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ এর ৪(২) ও ৪(৩) ধারায় মামলা করা হয়।
প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর একই বছরের ১৫ সেপ্টেম্বর রাজধানীর ইস্কাটন এলাকা থেকে ফরহাদকে আটক করা হয়। এরপর বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন কেন্দ্রিক বিভিন্ন মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এরপর থেকে তিনি কারাগারে আছেন।
পতাকানিউজ/এএ/আরবি

