সব মামলায় জামিনের পর অবশেষে কারামুক্ত হলেন সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক।
বুধবার, ১৯ আগস্ট বিকেলে তাকে কেরানীগঞ্জ বিশেষ কারাগার থেকে মুক্তি দেয়া হয়।
কারা মহাপরিদর্শক (আইজি প্রিজন) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মো. মোতাহের হোসেন কারামুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
গত সোমবার সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত খায়রুল হকের জামিন বহাল রাখে। এতে তার কারামুক্তির পথ খোলে।
হত্যাচেষ্টা ও বিস্ফোরকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলায় হাইকোর্টের দেয়া অন্তর্বর্তী জামিন স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষ আবেদন করেছিল। ওই আবেদনের শুনানি নিয়ে চেম্বার বিচারপতি মো. রেজাউল হক সেদিন ‘নো অর্ডার’ দেন।
বিচারপতি খায়রুল হককে গত বছরের ২৪ জুলাই রাজধানীর ধানমন্ডির বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তাকে জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের সময় ঢাকার যাত্রাবাড়ীতে যুবদলের কর্মী আবদুল কাইয়ুম আহাদ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এরপর থেকে তিনি কারাগারে।
পর্যায়ক্রমে ৭টি মামলায় খায়রুল হককে গ্রেপ্তার করা হয়। এসব মামলার মধ্যে জালিয়াতি করে রায় প্রদান, হত্যা ও দুর্নীতির অভিযোগের মামলা ছিল।
তবে সবগুলো মামলায় তিনি হাইকোর্ট থেকে জামিন পান। আপিল বিভাগ ৭ মামলায় জামিন বহাল রাখার পর কারাগার থেকে মুক্তির অপেক্ষায় থাকার সময় নতুন করে যাত্রাবাড়ী এলাকায় বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের সময় খোবাইব নামে এক যুবককে হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয় গত ২৩ মে। এ মামলায় গত ৩০ জুন তিনি হাইকোর্ট থেকে জামিন পান। ১ জুলাই সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ তার জামিন বহাল রাখেন। তার মুক্তিতে আর কোনো বাধা থাকে না। এখন এই মামলায় গ্রেফতার দেখানোর নির্দেশ দেয়ায় তিনি আপাতত মুক্তি পাচ্ছেন না।

প্রসঙ্গত, সাবেক এ প্রধান বিচারপতিকে আসামি হিসেবে সুনির্দিষ্ট মামলা ছাড়া গ্রেপ্তার না দেখাতে ও হয়রানি না করতে নির্দেশনা দেন হাইকোর্ট। গত ১৭ মে বিচারপতি রাজিক–আল–জলিল ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রুলসহ এ আদেশ দেন।
দেশের ১৯তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে ২০১০ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর নিয়োগ পান খায়রুল হক। ওই বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে তার নিয়োগ কার্যকর হয়। পরের বছরের ১৭ মে তিনি প্রধান বিচারপতির পদ থেকে অবসরে যান।
পরবর্তীতে ২০১৩ সালের ২৩ জুলাই তাকে তিন বছরের জন্য আইন কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়। এই মেয়াদ শেষে কয়েক দফা ওই পদে পুনর্নিয়োগ পান তিনি।
২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের আট দিন পর ১৩ অগাস্ট তিনি আইন কমিশনের চেয়ারম্যানের পদ থেকে পদত্যাগ করেন।
পতাকানিউজ/আরবি

