২০১৩ সালে রাজধানীর গুলশানে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার বাসার সামনে বালুভর্তি ট্রাক রেখে প্রতিবন্ধকতা তৈরির মামলায় সাবেক যুগ্ম সচিব সৈয়দ জগলুল পাশাকে ৭ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার ঢাকার পেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কামাল উদ্দীন রিমান্ডে নেওয়ার এই নির্দেশ দেন।
জগলুল পাসাকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের ওপর শুনানি শেষে আদালত এই রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
ঢাকা মহানগর পুলিশের প্রসিকিউশন বিভাগের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোক্তার হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
বুধবার (৬ জুলাই) জগলুল পাশাকে আদালতে হাজির করে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ১০ দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেন। ওইদিন আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়ে রিমান্ড আবেদনের উপর শুনানির জন্য বৃহস্পতিবার দিন ধার্য করেন।
এর আগে মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে রাজধানীর ভাটারা থানাধীন একটি বাসা থেকে জগলুল পাশাকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
রিমান্ড আবেদনে বলা হয়েছে, মামলার এজাহারে ১৭ নম্বর আসামি হিসেবে নাম থাকা জগলুল পাশাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন, অন্যান্য পলাতক আসামিদের সনাক্ত ও গ্রেপ্তার এবং গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে। এ কারণে তাকে রিমান্ডে নেওয়া প্রয়োজন।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৩ সালের ২৮ ডিসেম্বর জগলুল পাশাসহ এজাহারভুক্ত ১১১ জন এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরও ২৫০ থেকে ৩০০ জন গুলশানে খালেদা জিয়ার বাসভবনের সামনে অবস্থান নেন।
অভিযোগে বলা হয়, তারা সড়কে ব্যারিকেড সৃষ্টি করেন, বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের মারধর করেন এবং এলাকায় আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি করেন।
এতে আরও বলা হয়, পরদিন ২৯ ডিসেম্বর সকালে নির্ধারিত সমাবেশে যোগ দিতে খালেদা জিয়া বাসা থেকে বের হওয়ার প্রস্তুতি নিলে বালুভর্তি ট্রাক ও অন্যান্য যানবাহন দিয়ে রাস্তা অবরুদ্ধ করা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, তাকে বাইরে যেতে বাধা দেওয়া হয় এবং হত্যার উদ্দেশ্যে নিষিদ্ধ পিপার স্প্রে ব্যবহার করা হয়। এতে খালেদা জিয়াসহ তার সঙ্গে থাকা কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হন।
এ ঘটনায় ২০২৪ সালের অক্টোবরে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের লতিফ হল শাখা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক শরীফুল ইসলাম শাওন গুলশান থানায় মামলাটি করেন।
-পতাকানিউজ/এএ

