পাবনা-৫ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম ফারুক খন্দকার প্রিন্সের জমি ক্রোক, গাড়ি জব্দ ও তাঁর ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার ঢাকার মহানগর দায়রা জজ ও সিনিয়র বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো. শাহজাহান কবির এই নির্দেশ দেন।
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত এই নির্দেশ দেন বলে জানিয়েছেন দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা ও উপ-পরিচালক আকতারুল ইসলাম।
ক্রোক করা জমির পরিমাণ ১৩ দশমিক ৯৯ একর। এই জমিগুলো পাবনার বিভিন্ন এলাকায় অবস্থিত। তাঁর দুটি গাড়ি ক্রোক করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এছাড়া তার নামে থাকা ১৪ টি ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা আকতারুল ইসলাম জানিয়েছেন, ক্রোক করা জমির মূল্য এক কোটি ৭৬ লাখ ৬৪ হাজার টাকা হয়েছে। আর ব্যাংক হিসাবে ৭৪ লাখ ১০ হাজার ৪৯৫ টাকা রয়েছে। তবে দুদকের আবেদনে গাড়ির মূল্য উল্লেখ করা হয়নি।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের সহকারী পরিচালক পাপন কুমার সাহা জমি ও গাড়ি ক্রোক এবং ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ চেয়ে আবেদন করেন।
আবেদনে বলা হয়েছে, গোলাম ফারুক খন্দকার প্রিন্স একজন সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে ক্ষমতার অপব্যবহার করে অবৈধভাবে ও অসৎ উদ্দেশ্যে ৯ কোটি ৯১ লাখ ৭৪ হাজার ৪৩৪ টাকার জ্ঞাত-আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করে ভোগদখলে রাখেন।
নিজ নামে ৩৬টি ব্যাংক হিসাবে ২১২ কোটি ৬৭ লাখ ৭২ হাজার ১০০ টাকা জমা এবং ২১২ কোটি ৬৬ লাখ ৭৩ হাজার ৮৯৭ উত্তোলনসহ মোট ৪২৫ কোটি ৩৪ লাখ ৪৫ হাজার ৯৯৭ টাকার অস্বাভাবিক ও সন্দেহজনক লেনদেন করেছেন বলে দুদক অনুসন্ধান করে জানতে পেরেছে। ‘দুর্নীতি ও ঘুষ’ গ্রহণের করে অর্থ বা সম্পত্তি গড়ে তুলেছেন। আবার সম্পদের অবৈধ উৎস গোপন বা আড়াল করার উদ্দেশ্যে তা রূপান্তর, স্থানান্তর ও হস্তান্তর করে মানি লন্ডারিং সম্পৃক্ত অপরাধ করেছেন। এ অভিযোগে দুদক মামলা দায়ের করেছে।

তদন্তকালে জানা যায়, আসামির নামীয় ও তার স্বার্থ সংশ্লিষ্ট এসব স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ অন্যত্র হস্তান্তর, স্থানান্তর, বা বেহাত করার প্রচেষ্টা করছেন। মামলা নিষ্পত্তির পূর্বে এসব সম্পত্তি হস্তান্তর বা স্থানান্তর হয়ে গেলে ক্ষতির কারণ রয়েছে। এই অবস্থায় তার স্থাবর সম্পদ ক্রোক এবং অস্থাবর সম্পদ জব্দ ও অবরুদ্ধ করা প্রয়োজন।
-পতাকানিউজ/এএ

