সন্দেহজনক লেনদেনের মাধ্যমে অর্থ উত্তোলন, আত্মসাৎ ও স্থানান্তরের অভিযোগে করা দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় সালমান এফ রহমানের মালিকানাসংশ্লিষ্ট ১২ একর জমি ও ব্যাংক হিসাব ক্রোক ও ফ্রিজের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
সোমবার, ২৪ নভেম্বর ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. সাব্বির ফয়েজ দুদকের আবেদনের পর এই আদেশ দেন। আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. রিয়াজ হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এদিন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের সহকারী পরিচালক সাজ্জাদ হোসেন সংশ্লিষ্ট জমি ও হিসাব ক্রোক–ফ্রিজের আবেদন করেন।
দুদকের আবেদনে বলা হয়, সালমান এফ রহমানসহ ৩০ জন আসামি ক্ষমতার অপব্যবহার করে প্রতারণা ও জালিয়াতির মাধ্যমে আইএফআইসি ব্যাংকের প্রিন্সিপ্যাল শাখার বন্ধক রাখা সম্পত্তির অস্বাভাবিক উচ্চমূল্যায়ন দেখান। জনসাধারণের কাছ থেকে বন্ড বিক্রি করে প্রায় এক হাজার কোটি টাকা সংগ্রহ করে তা শ্রীপুর টাউনশিপ লিমিটেডের জিসিবি হিসাবে জমা করেন। পরে সেখান থেকে ২০০ কোটি টাকা রিডেম্পশন হিসাবে এফডিআর করা হয় এবং অবশিষ্ট ৮০০ কোটি টাকা বেক্সিমকো ইঞ্জিনিয়ারিংসহ বেক্সিমকো গ্রুপ ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের হিসাবে স্থানান্তর করা হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, এসব অর্থ পরবর্তী সময়ে ব্যাংকিং নিয়ম উপেক্ষা করে নগদ উত্তোলন ও সন্দেহজনক লেনদেনের মাধ্যমে আত্মসাৎ করা হয়। পরে অর্থ স্থানান্তর, রূপান্তর ও হস্তান্তরের মাধ্যমে লেয়ারিং করার অভিযোগে তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়।
তদন্তে দেখা যায়, আসামিদের ও তাঁদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান শ্রীপুর টাউনশিপ লিমিটেডের নামে গাজীপুরে ১২ একর ১৬ শতাংশ জমি এবং একটি ব্যাংক হিসাব রয়েছে। দুদকের দাবি, আসামিরা এগুলো অন্যত্র হস্তান্তর বা মালিকানা বদলের চেষ্টা করছেন। এতে বিচার শেষে অপরাধলব্ধ সম্পদ বাজেয়াপ্ত করতে বাধা তৈরি হবে। এ কারণেই সম্পদ ক্রোক ও ব্যাংক হিসাব ফ্রিজের নির্দেশ প্রয়োজন বলে আবেদন করা হয়।
আদালত দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে উক্ত স্থাবর সম্পদ ক্রোক এবং ব্যাংক হিসাব ফ্রিজের আদেশ দেন।
পতাকানিউজ/এআই

