আজ শুক্রবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ঢালিউড চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি নায়ক প্রয়াত সালমান শাহর জন্মদিন। বেঁচে থাকলে আজ ৫৫ বছরে পা রাখতেন বাংলা সিনেমার ‘স্বপ্নের নায়ক’ এ ক্ষণজন্মা রাজপুত্র। মাত্র সাড়ে তিন বছরের অভিনয় ক্যারিয়ারে বাংলা চলচ্চিত্রের দর্শকদের মন জয় করেছেন।
সালমান শাহর এবারের জন্মদিবসেও তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় কোনো কমতি দেখা যায়নি। ভক্তদের পাশাপাশি দেশের সিনেমা অঙ্গনের তারকারাও তাকে স্মরণ করছেন।
ঢালিউড তারকারাও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাঁকে নিয়ে পোস্ট দিচ্ছেন, আবার কেউ কেউ গণমাধ্যমেও কথা বলছেন। সেরকম কিছু পোস্ট এবং মন্তব্য নিচে উল্লেখ করা হলো-
শাকিব খান :
জন্মদিন উপলক্ষে সালমান শাহকে শ্রদ্ধা জানিয়ে একটি ফটোকার্ড পোস্ট করেছেন শাকিব খান। তাতে প্রকাশ করলেন প্রিয় নায়কের প্রতি তার আবেগ।
যাতে লেখা ছিল, ‘শুভ জন্মদিন সালমান শাহ।’ পোস্টের ক্যাপশনে তিনি লিখেছেন, ‘মানুষ অমরত্ব পায় তার দ্যুতিময় কর্মের মাধ্যমে। সালমান শাহ তেমনই এক মহান শিল্পীর নাম।’
এরপর পোস্টটি নিজের টাইমলাইনে শেয়ার করে মন্তব্য করেন, ‘আপনার অনুপস্থিতি এখনও অবিশ্বাস্য! আপনি অমর… এখনো বেঁচে আছেন।’
শাবনূর :
মাত্র সাড়ে তিন বছরের ক্যারিয়ারে সালমান সবচেয়ে বেশি সিনেমা করেছেন শাবনূরের সঙ্গে। ঢালিউডের অন্যতম জুটিতে পরিণত হন তারা।
সালমান শাহর জন্মদিনে শাবনূর লিখেছেন, ‘শুভ জন্মদিন স্বপ্নের নায়ক। বাংলা চলচ্চিত্রের ধ্রুবতারা প্রয়াত সালমান শাহ এক অকৃত্রিম ভালোবাসার নাম, এক ইতিহাসের নাম। প্রিয় এই নায়ক এখনও আমাদের সবার হৃদয়ে, ভাবনায়, অনুভবে বেঁচে আছে – বেঁচে থাকবে চিরকাল। তাঁর কালজয়ী চলচ্চিত্রগুলো আজও দর্শকদের মনে বিশেষ স্থান দখল করে আছে। সালমান শাহ্ পরবর্তী সময়ে যারা চলচ্চিত্রে নায়ক হওয়ার জন্য এসেছেন তারা প্রত্যেকেই বলেছেন, সালমান শাহ-ই ছিলেন তাদের অনুপ্রেরণার প্রধান উৎস।’
চলচ্চিত্রকার ছটকু আহমেদ :
সালমান শাহর জন্মদিন উপলক্ষে জাগো নিউজের এক সাক্ষাৎকারে চলচ্চিত্রকার ছটকু আহমেদ বলেছেন, ‘সালমান শাহ ডিরেক্টরকে মান্য করতো ও অনেক শ্রদ্ধা করতো। ভদ্রলোক ছিল। ক্যারেক্টারকে বোঝবার জন্য সে অনেক প্রশ্ন করত। ক্যারেক্টারের গেটআপ কী রকম হবে, ক্যারেক্টারের স্টাইলটা কী রকম হবে, ক্যারেক্টারের বাচনভঙ্গি কী রকম হবে, এরকম অনেক কিছু। মাঝে মাঝে আমরাও আইডিয়া চাইতাম। সালমান শাহ তার মতো করে আইডিয়া দিত।’
সালমান শাহকে নিয়ে করা সব সিনেমাই দারুণ প্রসংশিত এবং ব্যবসা সফল হয়েছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমার সব ছবিতে অনেক প্রশংসা ও অর্থ পেয়েছি। অনেক বয়স হয়েছে, অনেক কিছু তো মনে থাকে না। সময় চলে যায় সময়ের নিয়মে। সালমান শাহকে নিয়ে কথা বললে কথা শেষ হবে না। সে সময়ের আগে চলা মানুষ ছিল। কত কিছু চিন্তা করতো। বেঁচে থাকলে হয়তো আরও ভালো সিনেমা পেতো দর্শক। আমরা আরও ভালো সিনেমা নির্মাণ করতে পারতাম।’
মিশা সওদাগর :
সালমান শাহর সঙ্গে অনেক সিনেমায় সহঅভিনেতা ছিলেন মিশা সওদাগর। আজ তাঁর জন্মদিনে তিনিও স্মৃতিচারণ করেছেন, ঝেড়েছেন আক্ষেপ।
মিশা সওদাগর বলেছেন, ‘সালমান শাহ ছিলেন অসাধারণ গুণী শিল্পী। আয়ু ছিল অল্প, কিন্তু প্রতিভা ছিল বিশাল। আজ তাঁর জন্মদিনে একটা কথাই বলব—তিনি যদি আরও কিছুদিন বেঁচে থাকতেন, তাহলে আমাদের চলচ্চিত্র আরও অনেক দূর এগিয়ে যেত।’
তিনি আরও বলেছেন, ‘আমার বয়স এখন ৫৯। প্রায় ৩৭-৩৮ বছর ধরে কাজ করছি। আমার চোখে ‘পরিবারের শিল্পী’ ছিলেন দুজন—নায়করাজ রাজ্জাক এবং সালমান শাহ। পরিবারের শিল্পী মানে যাকে সবাই ভালোবাসবে—বাড়ির মালিক থেকে শুরু করে গাড়ির ড্রাইভার, এমনকি বাসার কাজের মানুষও। রাজ্জাক সাহেবের পর সেই জায়গা দখল করেছিলেন সালমান শাহ।’
ববিতা :
এক সাক্ষাৎকারে ববিতা বলেছেন, ‘আমার সঙ্গে সালমানের বেশ কয়েকটি সিনেমায় কাজ হয়েছে। সালমান আমাকে প্রায়ই বলত, আপনি আমার আপন মা না হলেও আপনি আমার সুইট মা। আমাকে সে মা বলেই ডাকত।’
ববিতার স্মৃতিচারণ, ‘যখন প্রথম মোবাইল ফোন বাজারে এল, সাইজে সেটা বেশ বড় ছিল। আমি সেই মোবাইল ব্যবহার করতে পারতাম না। সালমানই আমাকে একটি চিরকুটে লিখে দিয়ে মোবাইল ব্যবহার করা শিখিয়েছিল। সালমানের নিজের হাতের লেখা সেই চিরকুটটি এখনো আমার কাছে বেশ যত্নে রাখা আছে। সেই চিরকুটের মাঝেই আমি সালমানকে খুঁজে বেড়াই।’
প্রসঙ্গত, ১৯৭১ সালের আজকের দিনে (১৯ সেপ্টেম্বর) সিলেটের দাড়িয়াপাড়ায় এক অভিজাত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন সালমান শাহ। বাবার নাম কমরউদ্দিন চৌধুরী। মায়ের নাম নীলা চৌধুরী। তার আসল নাম শাহরিয়ার চৌধুরী ইমন।
অভিনয়ের প্রতি আগ্রহ থাকায় ১৯৯৩ সালে ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ সিনেমায় অভিনয়ের মাধ্যমে রুপালি পর্দায় আত্মপ্রকাশ করেছিলেন সালমান শাহ।
১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর মাত্র ২৫ বছর বয়সে হঠাৎ নিভে যায় জনপ্রিয় এই চিত্রনায়কের জীবনপ্রদীপ। তার আকস্মিক মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে শোকে স্তব্ধ হয়ে পড়ে দেশ।
পতাকানিউজ/এআই

