সিঙ্গাপুরে বিদেশী শ্রমিকদের ওপর অবিচার হচ্ছে, বেতন বকেয়া রাখা হচ্ছে এমন সব অভিযোগ উত্থাপন করে স্যোশাল মাধ্যমে প্রচারণা চালানো হচ্ছে। এমন প্রচারণারকে অপপ্রচার দাবি করে বিভ্রান্তি না ছড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে সিঙ্গাপুরের মানবসম্পদ মন্ত্রণালয় (এমওএম)।
সম্প্রতি প্রবাসী শ্রমিকের কথিত অন্যায্য আচরণ বিষয়ে ‘ওয়ার্কার্স মেক পসিবল’ -এর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত পোস্টের জবাবে শ্রম মন্ত্রণালয় ও ত্রিপক্ষীয় বিরোধ নিষ্পত্তি সংস্থার যৌথ বিবৃতি দেয়।
মন্ত্রণালয় এবং ট্রাইপার্টাইট অ্যালায়েন্স ফর ডিসপিউট ম্যানেজমেন্ট (টিএডিএম) বিদেশি শ্রমিকদের অধিকার ও বেতন সংক্রান্ত অভিযোগ বিষয়ে একটি যৌথ ব্যাখ্যামূলক বিবৃতি দিয়েছে। এতে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিদেশি শ্রমিকদের প্রতি অবিচার, বেতন বকেয়া এবং কাজের পরিবেশ নিয়ে যেসব দাবি ছড়িয়েছে, তার অনেকগুলোই আংশিক তথ্যের ওপর ভিত্তি করে তৈরি এবং কিছু ক্ষেত্রে বিভ্রান্তিকর।
সিঙ্গাপুরে বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশী শ্রমিক রয়েছেন। যারা সেই দেশে নির্মাণ শিল্পসহ গুরুত্বপূর্ণ শিল্পে নিয়োজিত। বেতন সংক্রান্ত বিরোধ, কাজের শর্ত এবং আবাসন ব্যবস্থার বিষয়ে স্বচ্ছতা ও আইনি সহায়তার সুযোগ থাকলেও অনেক সময় তথ্যের অভাবে শ্রমিকরা সমস্যায় পড়েন। আবার স্যোশাল মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া সব তথ্যই সঠিক নয়-এটাই বাস্তবতা।
বিবৃতিতে সিঙ্গাপুরের মানব সম্পদ মন্ত্রণালয় দাবি করে, সিঙ্গাপুরে বিদেশি শ্রমিকদের জন্য বেতন, কর্মঘণ্টা এবং কর্মপরিবেশ সংক্রান্ত বিষয়ে কঠোর আইন ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা রয়েছে। কোনো শ্রমিক যদি বেতন না পান বা নিয়োগকর্তার সঙ্গে বিরোধে জড়ান, তাহলে তারা সরাসরি ট্রাইপার্টাইট অ্যালায়েন্স ফর ডিসপিউট ম্যানেজমেন্ট (টিএডিএম) -এর মাধ্যমে অভিযোগ করতে পারেন। এই সংস্থা শ্রমিক ও নিয়োগকর্তার মধ্যে মধ্যস্থতা করে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করে এবং প্রয়োজন হলে আইনি সহায়তার পথও খুলে দেয়।
সরকারের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়, শ্রমিকদের অধিকার রক্ষায় সিঙ্গাপুর দীর্ঘদিন ধরেই একটি কাঠামোবদ্ধ ব্যবস্থা অনুসরণ করছে। বিশেষ করে নির্মাণ, শিপইয়ার্ড এবং পরিষেবা খাতে কর্মরত বিদেশি শ্রমিকদের জন্য নিয়মিত তদারকি, বেতন পরিশোধ মনিটরিং এবং অভিযোগ নিষ্পত্তির আলাদা প্রক্রিয়া রয়েছে। কর্তৃপক্ষের দাবি, অধিকাংশ বিরোধই আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সমাধান করা সম্ভব হয়।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে কিছু সামাজিক মাধ্যমে শ্রমিকদের প্রতি অবিচার এবং বেতন বকেয়া সংক্রান্ত একাধিক পোস্ট ভাইরাল হয়, যা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। মন্ত্রণালয় বলেছে, এসব তথ্য যাচাই না করে ছড়ানো হলে তা জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি করতে পারে এবং প্রকৃত সমস্যার সমাধান প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে।
একই সঙ্গে সিঙ্গাপুর সরকার জানিয়েছে, কোভিড-পরবর্তী সময়ে বিদেশি শ্রমিকদের আবাসন ব্যবস্থায় বড় ধরনের সংস্কার চলছে। নতুন ও উন্নত ডরমিটরি নির্মাণ, স্বাস্থ্যসেবা বৃদ্ধি এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শ্রমিকদের জীবনমান উন্নত করাই সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার বলেও উল্লেখ করা হয়।
মানব সম্পদ মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, বিদেশি শ্রমিকরা সিঙ্গাপুরের অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বিশেষ করে অবকাঠামো নির্মাণ, উৎপাদন এবং সেবা খাতে তাদের অবদান অপরিহার্য। তাই তাদের সুরক্ষা, ন্যায্য বেতন এবং মানবিক কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে।
-পতাকানিউজ

