সিলেট অঞ্চলে পবিত্র রমজানের ইফতারে সুগন্ধি চালের ভাতের সঙ্গে গরুর মাংসের আখনি- পোলাও সবচেয়ে জনপ্রিয়। সঙ্গে মোরগ পোলাওয়ের চাহিদাও রয়েছে।
মানুষেরা নিজ বাড়িতে আখনি তৈরির পাশাপাশি রোজা মাসে বড় হাঁড়ির আখনি খাবারের স্বাদ নিতে পরিবার পরিজন নিয়ে বিভিন্ন হোটেল রেস্তোরাঁয় ইফতার করতে আসেন। সুগন্ধি চাল, ঘি, গরম মশলা ও গরুর মাংস বা মুরগির মাংস দিয়ে তৈরি হয় এই মুখরোচক খাবারটি।
ইফাতারে আখনির সাথে ছোলা ভাজি, পিয়াজু, বেগুনি ও কয়েক পদের সালাদের স্বাদ আরও বাড়িয়ে দেয়। যুগযুগ ধরে এই জনপ্রিয় খাবারটি সিলেটে ইফতারে শীর্ষ খাবার হিসেবে পরিবেশন করা হয়। ঐতিহ্য চল হিসেবে মেয়ের বাড়তে দেওয়া ইফতারেও আখনি- পোলাও পাঠানো হয়।
মৌলভীবাজা জেলার শ্রীমঙ্গলে পানসী, রছেলে জিক রেস্তোরা, মৌলভীবাজার সদরে পানসি ও মামার বাড়িসহ বিভিন্ন রেস্তোরাঁয় ইফতার করতে আসা কয়েকজন বলেন, গরুর মাংসের আখনি সিলেটের আদি ও ঐতিহ্যবাহী খাবারগুলোর মধ্যে অন্যতম। এটি দেখতে তেহারির মতো হলেও স্বাদ ও রান্নার পদ্ধতিতে ভিন্ন। বিশেষ করে রমজান মাসে ইফতারের সময় গরম গরম আখনির সুঘ্রাণ ও স্বাদ নিতে পাড়া-মহল্লা, রেস্তোরায় এবং ইফতারের দোকানগুলোতে অনেকেই ভিড় করেন। আমরাও আজ আখনি খেতে এসেছি।
মৌলভীবাজারের রেস্তোরার গুণগত মাণের উপর নির্ভর করে আখনির দাম। ৩০০ টাকা থেকে শুরু করে ৪০০ টাকা প্রতি প্লেট গরুর মাংসের আখনি বিক্রি করা হয়। আর মুরগির মাংসের আখনি ২৫০ টাকা থেকে ৩২০ টাকা পর্যন্ত প্রতি প্লেট বিক্রি করা হয়।
মৌলভীবাজার জেলার বিভিন্ন ইফতার বাজার ও রেস্তোরাঁ ঘুরে দেখা যায়, বিভিন্ন ইফতারি পাশাপাশি আখনি বিক্রি হচ্ছে। প্রতিটি রেস্তোরাঁয় লাল কাপড় দিয়ে মোড়ানো কমপক্ষে দুটি বিশাল হাঁড়ি রাখা আছে। একটি হাঁড়িতে গরুর মাংসের অন্যটিতে মুরগির মাংসের আখনি। ক্রেতার যে যার ইচ্ছে মতো আখনি ক্রয় করছেন ওজনের মাধ্যমে। এছাড়া পিয়াজু, বেগুনি, আলোর চাপ, ছোলা ভাজি ও জিলাপির সঙ্গে ইফতারে আখনি পরিবেশন করা হচ্ছে যারা রেস্টুরেন্টে ইফতার করতে আসা অতিথিদের জন্য।
মোতালেব হোসেন নামে একজন ইফতার সামগ্রী ক্রয় করার সময় বলেন, ‘আমি মেয়ের বাড়িতে ইফতারি পাঠানোর সময় ১০ কেজি আখনি পাঠয়েছি। মৌলভীবাজারে ইফতারে বিভিন্ন রেস্তোরাঁয় আখনি তৈরি করা হয়। তবে বড় রেস্তোরাঁর আখনির স্বাদই অন্যরকম।’
শ্রীমঙ্গল পানসী রেস্তোরাঁয় ইফতার করতে আসা কামরুল ইসলাম বলেন, আমাদের এলাকায় আখনি খুবই জনপ্রিয় খাবার, বন্ধুদেরকে সঙ্গে নিয়ে আখনি দিয়ে ইফতার করাতে এসেছি। তিনি মনে করেন আখনির হাঁড়ি যত বড়হয় স্বাদ ততই বেশি হয়। আমরা রোজা মাসে ইফতারে কম-বেশি সবাই আখনি খেতে পছন্দ করি।
মৌলভীবাজার জেলা শহরের এক রেস্তোরাঁ মালিক খায়রুল ইসলাম বলেন, আমার রেস্তোরাঁয় প্রতিদিন কয়েক’শ কেজি আখনি বিক্রি হয়। গরু ও মুরগির মাংস দিয়ে আলাদা ভাবে রান্না করা হয়। পুরো রমজান মাসে এই আয়োজন চলে। কেউ বেশি নিতে হলে আগে অর্ডার করতে হয়। আখনি দিয়ে ইফতার করতে অনেকেই রেস্তোরাঁয় আসেন।
জানা যায়, ভিনদেশী এই খাবার মুঘল আমলের বাবুর্চিদের হাত ধরে এই অঞ্চলে জনপ্রিয়তা পায়। বিভিন্ন অঞ্চলে এর চাহিদা কমে গেলেও সিলেটে এই আখনির জনপ্রিয়তা এখনো রয়ে গেছে। আখনি মাংসের ঝোলের মধ্যেই রান্না করা এক ধরনের পোলাও। এই অঞ্চলে এটি আখনি পোলাও হিসেবেও পরিচিত। রমজানের ইফতার, ধর্মীয় আয়োজন, আকিকা কিংবা পারিবারিক উৎসব সুস্বাদু এই খাবারটি পছন্দের তালিকায় শীর্ষে থাকে।
-পতাকানিউজ/এমআরআর

