রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালের করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এখনো কঠোর পর্যবেক্ষণে আছেন। ফুসফুস ও হৃদ্যন্ত্রে সংক্রমণ ধরা পড়ার পর তাঁর শারীরিক পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ায় চিকিৎসকেরা তাঁকে বিশেষায়িত ইউনিটে স্থানান্তর করেন। পরিস্থিতির অবনতির খবর ছড়িয়ে পড়তেই হাসপাতালের পরিবেশ বদলে যায়—দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের পাশাপাশি বহু কর্মী সেখানে ভিড় করতে থাকেন কেবল তাঁর বর্তমান অবস্থা জানতে।
শুক্রবার (২৯ নভেম্বর) রাত সোয়া ১১টার দিকে হাসপাতালে গেলে দেখা যায়, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান গাড়ি থেকে নেমে দ্রুত ভেতরে প্রবেশ করছেন। প্রায় একই সময়ে আরও কয়েকজন সিনিয়র নেতা হাসপাতালের ভেতরে ঢোকেন। বাইরে অপেক্ষা করছিলেন বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের কয়েকজন কর্মী—তাঁদের উদ্বেগের কেন্দ্রবিন্দু একই, চেয়ারপারসনের শারীরিক অবস্থার আপডেট। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে বেশ কয়েকটি গণমাধ্যমও ঘটনাস্থলে অবস্থান নেয়।
চিকিৎসা–সংক্রান্ত সিদ্ধান্তগুলো এখন পর্যবেক্ষণ করছেন দেশি ও বিদেশি চিকিৎসকদের সমন্বয়ে গঠিত বিশেষজ্ঞ বোর্ড। বিকেলে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানান, চিকিৎসকেরা বলেছেন খালেদা জিয়ার অবস্থা ‘অত্যন্ত সংকটময়’। তিনি দেশবাসীর কাছে তাঁর দ্রুত সেরে ওঠার জন্য দোয়া চেয়েছেন। একইভাবে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসও সুস্থতার কামনা করেছেন।
প্রায় ৮০ বছর বয়সী খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন ধরে হৃদ্রোগ, ডায়াবেটিস, আর্থ্রাইটিস, লিভার সিরোসিস ও কিডনি জটিলতাসহ নানা শারীরিক সমস্যা বহন করে আসছেন। গত রবিবার শ্বাসকষ্ট শুরু হলে তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরীক্ষার পর চিকিৎসকেরা নিশ্চিত করেন যে তাঁর ফুসফুস এবং হৃৎপিণ্ডে সংক্রমণ ধরা পড়েছে, যা পরিস্থিতিকে জটিল করে তোলে।
চিকিৎসার প্রয়োজনে তিনি চলতি বছরের ৭ জানুয়ারি লন্ডনে যান এবং সেখানে ১১৭ দিন থাকার পর ৬ মে দেশে ফেরেন। দেশে ফেরার পর থেকে তাঁকে বেশ কয়েক দফা হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছে বিভিন্ন জটিলতার কারণে। এখন সিসিইউতে তাঁর প্রতিটি মুহূর্তই পর্যবেক্ষণে, আর হাসপাতালের বাইরে উদ্বেগের সুর দিনে দিনে আরও ঘনীভূত হচ্ছে।
পতাকানিউজ/এনটি

