বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে বাংলাদেশি নাগরিক হত্যা বন্ধ, ন্যায্য বিচার নিশ্চিত ও কূটনৈতিক ও আন্তর্জাতিক আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু)। বুধবার, ৩ ডিসেম্বর রাতে চাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সাঈদ বিন হাবিব স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে ভারতের পক্ষ থেকে দায় এড়িয়ে যাওয়ার প্রবণতা ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর পর্যাপ্ত নজরদারির অভাব, পারস্পরিক সম্মান ও মানবিক মর্যাদা রক্ষা না করার কারণে পরিস্থিতি ক্রমেই উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে বলে উল্লেখ করা হয়।
সীমান্তে বাংলাদেশি নাগরিক হত্যা মানবাধিকার লঙ্ঘন উল্লেখ করে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘গত সপ্তাহে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর গুলিতে দুই বাংলাদেশি নিহত হওয়ার ঘটনা আমাদের গভীরভাবে মর্মাহত ও ক্ষুব্ধ করেছে। প্রতিবছর এভাবে নিরীহ বাংলাদেশিদের প্রাণহানি ঘটলেও এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর পদক্ষেপ কার্যকর হয়নি, বরং এ নৃশংসতা নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে। স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশের নাগরিকদের জীবন এমন অরক্ষিত অবস্থায় থাকার বিষয়টি রাষ্ট্রের মর্যাদাকেও ক্ষুণ্ন করে। গত দশকজুড়ে সীমান্তে যারা নিহত হয়েছেন, তাদের বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ন্যায্য বিচার নিশ্চিত হয়নি।’
‘ভারতের পক্ষ থেকে দায় এড়িয়ে যাওয়ার প্রবণতা, পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর পর্যাপ্ত নজরদারীর অভাব, পরিস্থিতিকে দিনদিন আরও উদ্বেগজনক করে তুলছে। একটি বন্ধুত্বপূর্ণ দেশের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক থাকলে তার প্রথম শর্ত হওয়া উচিত পারস্পরিক সম্মান ও মানবিক মর্যাদা রক্ষা। বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, সীমান্তে বাংলাদেশি নাগরিক হত্যার বিষয়ে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের অবস্থান সেই ন্যূনতম শর্তেও ব্যর্থ হচ্ছে।’
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ‘চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু) মনে করে বাংলাদেশ সরকারকে কূটনৈতিক উদ্যোগকে আরও কঠোর ও ফলপ্রসূ করতে হবে। সীমান্তে হত্যার সব ঘটনা তদন্ত করতে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর হস্তক্ষেপ নিশ্চিত করতে হবে। প্রতিটি হত্যার ঘটনায় বিচার নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক আদালত বা উপযুক্ত আইনি প্ল্যাটফর্মে পদক্ষেপ নিতে হবে। সীমান্তে বাংলাদেশি নাগরিকদের নিরাপত্তা সুরক্ষায় অবিলম্বে কার্যকর ও দৃশ্যমান ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। বাংলাদেশি নাগরিকদের জীবন ও মর্যাদা রক্ষার স্বার্থে অবিলম্বে কার্যকর কূটনৈতিক ও আইনি উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। এই অপরাধের বিচার নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের নৈতিক ও আইনি দায়িত্ব।’
পতাকানিউজ/এসএইচ/কেএস

