টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব শেষের পথে, তবে সুপার এইটের একটি জায়গা এখনও ফাঁকা। সেই শেষ টিকিটের দৌড়ে আজ মাঠে নামছে পাকিস্তান। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে নামিবিয়ার বিপক্ষে জয়ই সালমান আলী আগার নেতৃত্বাধীন দলের সামনে একমাত্র লক্ষ্য। কলম্বোর ঐতিহ্যবাহী সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব (এসএসসি) মাঠে ম্যাচটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় বেলা সাড়ে ৩টায়।
গ্রুপ ‘এ’ থেকে ভারত ইতোমধ্যেই তিন ম্যাচে তিন জয় নিয়ে সুপার এইট নিশ্চিত করেছে। যুক্তরাষ্ট্র তাদের সব ম্যাচ শেষ করে ৪ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে আছে, সঙ্গে শক্তিশালী +০.৭৮৭ রানরেট। পাকিস্তানও তিন ম্যাচে দুই জয় ও এক হারে সমান ৪ পয়েন্ট পেলেও ভারতের কাছে বড় ব্যবধানে হার তাদের রানরেট নামিয়ে দিয়েছে -০.৪০৩–এ। ফলে সমীকরণ এখন বেশ জটিল—নামিবিয়ার কাছে হারলেই বিদায় নিশ্চিত, আর জয় পেলেও তাকিয়ে থাকতে হবে অন্যান্য হিসাব-নিকাশের দিকে।
তবে পাকিস্তানের জন্য এক অদ্ভুত সম্ভাবনাও রয়েছে। আবহাওয়ার পূর্বাভাস বলছে, কলম্বোয় বৃষ্টির সম্ভাবনা প্রায় ৬৫ শতাংশ। ম্যাচ পরিত্যক্ত হলে পয়েন্টের হিসাবে সুপার এইটে ওঠার পথ খুলে যেতে পারে তাদের জন্য।
ভারতের বিপক্ষে ম্যাচে পাকিস্তানের পারফরম্যান্স ছিল হতাশাজনক। ব্যাটিং, বোলিং ও ফিল্ডিং—তিন বিভাগেই দলটি ছিল ছন্নছাড়া। বিশেষ করে দলের দুই বড় তারকা বাবর আজম ও শাহিন শাহ আফ্রিদির ফর্ম নিয়ে সমালোচনা চলছে জোরেশোরে। স্পিনের বিপক্ষে আবারও সমস্যায় পড়েছেন বাবর, অন্যদিকে নতুন বলে প্রত্যাশিত আঘাত হানতে পারেননি শাহিন; উপরন্তু খরুচে বোলিংও চোখে পড়েছে।
টিম সূত্র আভাস দিয়েছে, গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচে একাদশে পরিবর্তনের সম্ভাবনা রয়েছে। বাবর ও শাহিনকে বিশ্রাম দেওয়া হতে পারে বলে গুঞ্জন রয়েছে। তাঁদের জায়গায় আক্রমণাত্মক ওপেনার ফখর জামান এবং তরুণ পেসার সালমান মির্জা অথবা নাসিম শাহকে দেখা যেতে পারে একাদশে।
তবে সিনিয়রদের পারফরম্যান্স নিয়ে বাড়তি সমালোচনার জবাব দিয়েছেন দলের স্পিন সেনসেশন তারিক। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘শাহিন ও বাবর পাকিস্তানের হয়ে অসংখ্য ম্যাচ জিতিয়েছে। একটি ম্যাচ দিয়ে কোনো খেলোয়াড়ের সামর্থ্য বিচার করা যায় না। তারা জানে কীভাবে ঘুরে দাঁড়াতে হয়। তারা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে—এমন কিছু নয়, এটা খেলারই অংশ।’
এসএসসি মাঠ সাধারণত ব্যাটিং সহায়ক হিসেবে পরিচিত। এই ভেন্যুতেই আয়ারল্যান্ড ওমানের বিপক্ষে ২৩৫ রান তুলেছিল, যা ম্যাচটিকে সম্ভাব্য হাই-স্কোরিং লড়াইয়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে। কাগজে-কলমে পিছিয়ে থাকলেও নামিবিয়ার সামনে হারানোর কিছু নেই। দলটির কোচ ক্রেইগ উইলিয়ামস শেষ ম্যাচটি স্মরণীয় করে রাখতে চান। তাঁর ভাষায়, ‘শেষ তিন ম্যাচেই আমরা জয়ের অবস্থানে ছিলাম, কিন্তু ছোট ছোট ভুল আমাদের পিছিয়ে দিয়েছে। এবার আমরা ভালোভাবে শেষ করতে চাই। দলের মনোবল ভালো আছে এবং আমরা বিশ্বাস করি, শেষ ম্যাচে সবকিছু ঠিকঠাক করতে পারব।’
পাকিস্তান শিবিরে চাপ নিয়ে বাইরে যত আলোচনা, ভেতরে ততটা নয় বলে দাবি করেছেন তারিক। তিনি বলেন, ‘চাপ মূলত বাইরে থেকে তৈরি হয়। দলের ভেতরে আমরা আতঙ্কিত নই। আমাদের লক্ষ্য ফাইনালে ওঠা এবং দেশের মানুষকে খুশি করা।’
আজকের ম্যাচ তাই পাকিস্তানের জন্য শুধু একটি গ্রুপ ম্যাচ নয়—বরং টিকে থাকার শেষ সুযোগ। জয় পেলে আশা বেঁচে থাকবে, হারলেই থেমে যাবে বিশ্বকাপ যাত্রা।
-পতাকানিউজ

