চট্টগ্রামের প্রস্তাবিত ‘ফটিকছড়ি উত্তর’ উপজেলার সঙ্গে ১১ নং সুয়াবিল ইউনিয়ন ও নাজিরহাট পৌরসভার ১, ২ ও ৩ নং ওয়ার্ডকে যুক্ত না করার দাবি জানানো হয়েছে। শনিবার, ১৭ অক্টোবর দুপুরে নগরের একটি রেস্টুরেন্টে বৃহত্তর সুয়াবিল অধিকার সংরক্ষণ ফোরামের উদ্যোগে আয়োজিত জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি করা হয়।
প্রস্তাবিত উপজেলা বাস্তবায়ন হলে উদ্দিষ্ট এলাকার জনগণকে ৪ কিলোমিটারের বদলে ৪০ কিমি দূরত্বে গিয়ে সকল নাগরিক সেবা নিতে হবে বলে জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ও সুয়াবিল গ্রামের বাসিন্দা অধ্যাপক ড. মনজুরুল কিবরীয়া। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সুয়াবিল ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান এস এম শফিউল আলম, বৃহত্তর সুয়াবিল অধিকার ফোরামের ডা. এস এম ফরিদ, আইনজীবী অ্যাডভোকেট ইসমাইল গনি, সুয়াবিল ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. মনসুর আলী।
লিখিত বক্তব্যে অধ্যাপক ড. মনজুরুল কিবরীয়া বলেন, ‘ঐতিহাসিকভাবে আমরা সুয়াবিল ইউনিয়নের স্থায়ী বাসিন্দা। গণমাধ্যমে জানতে পারি বৃহত্তর ফটিকছড়ি উপজেলার প্রশাসনিক বিকেন্দ্রিকরণের উদ্দেশে প্রস্তাবিত ‘ফটিকছড়ি উত্তর’ নামে একটি নতুন উপজেলা বাস্তবায়নে সরকার নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। এই উদ্যোগকে স্বাগত জানাই। কিন্তু একটি কুচক্রী মহল সরকারের এই মহৎ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে প্রতিবন্ধকতা ও আইনি জটিলতা সৃষ্টির চেষ্টার করছে। তারা উপজেলার সুয়াবিল ইউনিয়ন ও নাজিরহাট পৌরসভার ৩টি ওয়ার্ডকে প্রস্তাবিত ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলার সঙ্গে সংযোজনের প্রস্তাব করে। এ খবরে বৃহত্তর সুয়াবিল ইউনিয়নের সর্বস্তরের জনগণ উদ্বেগ, ক্ষোভ ও নিন্দা প্রকাশ জানিয়েছে। ফটিকছড়ি উত্তর (প্রস্তাবিত) উপজেলার সঙ্গে সুয়াবিল ইউনিয়ন ও নাজিরহাট পৌরসভার অংশ বিশেষকে সংযোজন করা নানা কারণে প্রচলিত আইন ও জনস্বার্থ বিরোধী।’
তিনি বলেন, ‘ফটিকছড়ি উত্তর (প্রস্তাবিত) উপজেলার বিষয়ে ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ২০২১ সালের ১ মার্চ (স্মারক নং-২৭৩) ও ২০২৩ সালের ৫ সেপ্টেম্বর (স্মারক নং ৯০/০১) এবং চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক ২০২৩ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর সরেজমিন তদন্তপূর্বক পৃথকভাবে প্রতিবেদন জমা দিয়েছিলেন। এসব প্রতিবেদনের কোথাও সুয়াবিল ইউনিয়ন ও নাজিরহাট পৌরসভার ৩ ওয়ার্ড অন্তর্ভুক্ত ছিল না এবং অন্তর্ভুক্তির জন্য জনগণেরও কোনো দাবি ছিল না। কিন্তু একটি কুচক্রী মহল জনগণকে বিভ্রান্ত করতে এবং সরকারের উদ্দেশ্যকে ভন্ডুলের চেষ্টা করছে।’

তিনি বলেন, ‘ভৌগোলিকভাবে যোগাযোগ ব্যবস্থায় বৃহত্তর সুয়াবিল ইউনিয়ন হতে প্রস্তাবিত ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলার দূরত্ব প্রায় ৪০ কিলোমিটার। অথচ ফটিকছড়ি উপজেলা সদরের দূরত্ব মাত্র সাড়ে ৪ কিলোমিটার। তাছাড়া অনুন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা ও যানবাহনের অপ্রতুলতার কারণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও জনসেবার পরিবর্তে বৃহত্তর সুয়াবিল ইউনিয়নের অধিবাসীদের দুর্ভোগ আরও অনেকগুণ বাড়বে। অথচ সুয়াবিল ইউনিয়নের এই ৩ ওয়ার্ড নাজিরহাট পৌরসভার অংশ হিসাবে ফটিকছড়ি উপজেলার সঙ্গে সম্পৃক্ত। প্রস্তাবিত ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলার সঙ্গে পৌরসভার অংশকে যুক্ত করা হলে দ্বৈত প্রশাসনিক জটিলতার সৃষ্টি হবে।’
তিনি বলেন, ‘এ ধরনের কার্যক্রম বাস্তবায়নে সরকারি বিধিবদ্ধ আইন আছে। যাতে জনগণের মতামতের প্রাধান্য ও গণশুনানির ব্যবস্থা করা হয়। এ ক্ষেত্রে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কোনো গণশুনানি না করে সুয়াবিল এলাকার জনগণের মতামতকে উপেক্ষা করা হয়েছে। তাছাড়া, ইচ্ছাকৃতভাবে সুয়াবিল ইউনিয়নের বিভিন্ন পরিসংখ্যান ও ভুল তথ্য সংযোজন করে মাঠ প্রশাসনকে বিভ্রান্তির জালে আবদ্ধ করা হয়েছে বলে আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস।’
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ইতোমধ্যে আমরা প্রতিবাদ কর্মসূচির অংশ হিসেবে গত ৭ অক্টোবর ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে গণস্বাক্ষরসহ স্মারকলিপি প্রদান এবং স্থানীয়ভাবে সংবাদ সম্মেলন করেছি। গত ১০ অক্টোবর চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা, নিকার কমিটির সদস্যসহ সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয়ে এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে চিঠি দিয়েছি। গত ১৪ অক্টোবর এলাকায় সর্বস্তরের জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে মানববন্ধন করেছি। এ সপ্তাহের মধ্যে যদি এই দাবি না মানা হয় তাহলে এলাকায় গণঅসন্তোষ এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির সম্ভাবনা আছে। তাছাড়া, দাবি আদায়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ঘেরাওসহ গণঅনশন কর্মসূচির ঘোষণা আসতে পারে।

সংবাদ সম্মেলনে বিজিএমইএর পরিচালক রকিবুল আলম ও উত্তর ফটিকছড়ি নাগরিক ফোরামের আহ্বায়ক ওসমান গনি সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত হয়ে এসব যৌক্তিক দাবির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে বলেন, ‘প্রস্তাবিত ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলায় সুয়াবিল অন্তর্ভুক্ত করার কোনো যৌক্তিকতা নেই।’
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন সুয়াবিল ইউপি সদস্য বেলাল উদ্দিন ও মো. হামিদুর রহমান, সুয়াবিলের বাসিন্দা এস এম নঈম উদ্দিন, মো. রাসেল, গাজী আমান উল্লাহ, মো. শাহজাহান, মাহবুবুল আলম, আমান উল্লাহ ও ফয়জুল ইসলাম বাচ্চু প্রমুখ।
পতাকানিউজ/ওএআর/এমওয়াই

