মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার আদমপুর ইউনিয়নের কান্দিগাঁও এলাকায় একটি ছড়ার ওপর দাঁড়িয়ে আছে একটি সেতু—যা হতে পারত উন্নয়ন ও সম্ভাবনার প্রতীক— কিন্তু আজ তা হয়ে উঠেছে অব্যবস্থাপনা ও পরিকল্পনাহীনতার এক নীরব সাক্ষী। নির্মাণের প্রায় তিন দশক পেরিয়ে গেলেও সেতুর মুখে মাটি ভরাট না থাকায় আজও প্রায় ব্যবহারহীন, নেই কোনো সংযোগ সড়কও।
প্রায় ২৯ বছর আগে একটি ছোট ছড়ার ওপর নির্মিত এ সেতুটি স্থানীয় মানুষের স্বপ্ন জাগিয়েছিল। আশা ছিল, এটি চালু হলে আশপাশের কয়েকটি ইউনিয়নের মানুষের যাতায়াত সহজ হবে, কমবে সময় ও দূরত্ব। কিন্তু বাস্তবতা সেই স্বপ্নকে ধূলিসাৎ করেছে। সেতুর দুপাশে মাটি ভরাট ও সড়ক নির্মাণ না হওয়ায় এটি আজও কার্যত অচল।
সরেজমিন দেখা যায়, সেতুতে উঠতে হলে স্থানীয়দের ভরসা করতে হয় অস্থায়ী ও ঝুঁকিপূর্ণ ব্যবস্থার ওপর । কখনও বাঁশের সাঁকো, কখনও উঁচু কোনো কাঠামো দিয়ে। প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পারাপার করতে হয় তাদের। বৃষ্টির দিনে কষ্টের সীমা থাকে না। ফলে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন চলাচল হয়ে উঠেছে দুর্বিষহ।
এ সেতুটি ব্যবহারযোগ্য হলে অন্তত চারটি ইউনিয়নের ৮ থেকে ১০টি গ্রামের হাজার হাজার মানুষ সরাসরি উপকৃত হতেন। শিক্ষা, চিকিৎসা ও জরুরি প্রয়োজনে যাতায়াত সহজ হতো। বর্তমানে বাধ্য হয়ে মানুষকে তিন থেকে চার কিলোমিটার ঘুরে বিকল্প পথে যাতায়াত করতে হচ্ছে, যা সময় ও শ্রম দুটোই বাড়িয়ে দিচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি অর্থ ব্যয়ে নির্মিত এ সেতুটি দীর্ঘদিন ধরে প্রায় অব্যবহৃত পড়ে থাকলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেই। ফলে এটি এখন উন্নয়নের প্রতীক না হয়ে অপচয়ের এক বাস্তব উদাহরণে পরিণত হয়েছে।
তবে আশার কথা শুনিয়েছেন কমলগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী মো. সাঈফুল আজম। তিনি বলেন, ‘সেতুটির দুপাশে মাটি না থাকায় এটি ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে আছে।’ দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে জানান তিনি।
এলাকাবাসীর প্রত্যাশা—দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে দ্রুত সেতুটি চলাচলের উপযোগী করা হোক। এতে মানুষের যাতায়াত ভোগান্তি কমবে এবং আরও সহজ হবে যোগাযোগ ব্যবস্থা।
পতাকানিউজ/এমআরএম/আরবি

