সেন্টমার্টিনের জাহাজ টিকিট জালিয়াতি ঠেকাতে মাঠে মেনেছে প্রশাসন। বৃহস্পতিবার, ১৮ ডিসেম্বর সকাল থেকে প্রশাসন ঘাটে অবস্থান করে কঠোর নজরধারি শুরু করেছে।
প্রশাসনের পক্ষে জানানো হয়েছে, ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত প্রতিদিন সর্বোচ্চ দুই হাজার পর্যটক প্রবালদ্বীপ সেন্টমার্টিন ভ্রমণের সুযোগ পাচ্ছেন। তবে নানা বিধিনিষেধের মধ্যেই জাহাজের টিকিট নিয়ে তৈরি হয়েছে বিড়ম্বনা, পাশাপাশি জালিয়াতি চক্র সক্রিয় থাকার অভিযোগ উঠেছে। এসব জালিয়াতি ঠেকাতে টিকিটে উল্লিখিত নামধারীর জাতীয় পরিচয়পত্রের হার্ডকপি অথবা নিবন্ধিত মোবাইল নম্বর যাচাই বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। যাচাই ছাড়া কোনো যাত্রীকে সেন্টমার্টিন ভ্রমণের অনুমতি দেয়া হবে না।
আজ সকালে কক্সবাজার শহরের নুনিয়ারছড়া বিআইডব্লিউটিএ ঘাটে আসেন ট্যুরিস্ট পুলিশের কক্সবাজার রিজিয়নের প্রধান ও অতিরিক্ত ডিআইজি আপেল মাহমুদ ও কক্সবাজার সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানজিলা তাসনিম।
তিনি জানান, আমাদের টিম ভোর থেকেই প্রতিদিন দুই প্রান্তের ঘাটে (কক্সবাজার ও সেন্টমার্টিন) নিয়োজিত রয়েছে। আগত পর্যটকদের পরিবেশ সংক্রান্ত নির্দেশনা মেনে চলতে উৎসাহিত করার পাশাপাশি অভিযোগ-অনিয়ম তদারকি করা হচ্ছে এবং অনিয়মের প্রমাণ পেলে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।
অতিরিক্ত ডিআইজি আপেল মাহমুদ বলেন, আমরা জাহাজ চলাচল শুরুর পর থেকে পর্যটকদের নিরাপত্তা ও সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়নে সব ধরনের সহযোগিতা করে আসছি। ইতিমধ্যে জালিয়াতির বেশ কিছু ঘটনা সামনে আসায় গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। কালোবাজারির মাধ্যমে পর্যটক হয়রানি কঠোরভাবে দমন করা হবে।
জাহাজ মালিকরা জানিয়েছেন, গত ১ ডিসেম্বর থেকে সরকার নির্ধারিত কক্সবাজার শহরের নুনিয়ারছড়া বিআইডব্লিউটিএ ঘাট থেকে কক্সবাজার-সেন্টমার্টিন রুটে প্রতিদিন চলাচল করছে অনুমতিপ্রাপ্ত ৬টি জাহাজ। যাত্রার প্রথম ১৭ দিনে (১৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত) প্রায় ৩০ হাজার পর্যটক সেন্টমার্টিন ভ্রমণ করেছেন।
ট্রাভেল পাস সংক্রান্ত সরকারি ওয়েবসাইটের তথ্যানুযায়ী গত ১৬ ডিসেম্বর নির্ধারিত ২ হাজারের সব পাসই ইস্যু হয়েছে, যা একক দিন হিসেবে সর্বোচ্চ। ইতিমধ্যে ১৭ জানুয়ারি পর্যন্ত আগামী ৩০ দিনের নির্ধারিত প্রায় ৬০ হাজার টিকেটের মধ্যে অধিকাংশ টিকেটই অগ্রিম বিক্রি হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন জাহাজ মালিক কর্তৃপক্ষ।
সি ক্রুজ অপারেটর ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (স্কোয়াব) সাধারণ সম্পাদক হোসাইন ইসলাম বাহাদুর বলেন, ‘বছর কয়েক আগেও ৫ মাস যাবৎ দৈনিক ৫-১০ হাজার পর্যটক সেন্টমার্টিন ভ্রমণে যেতেন। এখন মাত্র ২ মাস প্রতিদিন ২ হাজার পর্যটক যেতে পারছেন। এমন পরিস্থিতিতে টিকেটের ওপর চাপ বেড়ে যাওয়ায় মধ্য জানুয়ারি পর্যন্ত প্রায় সব টিকেট শেষ। দৈনিক হারে ভ্রমণে আগ্রহী পর্যটকের সংখ্যা গড়ে ৩ থেকে সাড়ে ৩ হাজারের বেশি।
এদিকে অভিযোগ উঠেছে, প্রশাসনের কড়া নজরদারি পরও কারচুপির মাধ্যমে জালিয়াতি চক্র অগ্রিম টিকেট সংগ্রহ করছে এবং পরবর্তীতে চড়াদামে কালোবাজারির মাধ্যমে পর্যটকদের কাছে বিক্রি করছে।
এ বিষয়ে হোসাইন ইসলাম বাহাদুর বলেন, এবার টিকেট বিক্রি এবং পর্যটক যাতায়তে প্রশাসনের কঠোর নজরধারি রয়েছে। প্রতিদিনই প্রশাসন ঘাটে আসছেন। টিকেট বিক্রির সময় এনআইডি নম্বর ব্যবহার, ভ্রমণ পাস জরুরি। ফলে কালোবাজারে টিকিট বিক্রির সুযোগ নেই।
সরকারি প্রজ্ঞাপন মতে, নভেম্বরে পর্যটকেরা শুধু দিনের বেলায় দ্বীপটি ভ্রমণ করতে পারবেন। রাত যাপন করতে পারবেন না। ডিসেম্বর ও জানুয়ারি দুই মাস রাত যাপনের সুযোগ থাকবে।
পতাকানিউজ/এনএ/আরবি

