সৌদি আরবের মধ্যাঞ্চলে ইরানের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে এক বাংলাদেশি ও এক ভারতীয় নাগরিক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে সৌদি কর্তৃপক্ষ।
সৌদি আরবের সিভিল ডিফেন্স এজেন্সি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে হতাহতের এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
কর্তৃপক্ষ জানায়, রাজধানী রিয়াদের দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত আল-খার্জ শহরে ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে এই হতাহতের ঘটনা ঘটে। ক্ষেপণাস্ত্রটি শহরের একটি এলাকায় আঘাত হানলে সেখানে অবস্থানরত বিদেশি শ্রমিকদের মধ্যে হতাহতের ঘটনা ঘটে। আহতদের স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এর আগে ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি) দাবি করেছিল, তারা সৌদি আরবের বিভিন্ন স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। আইআরজিসির দাবি, আল-খার্জসহ কয়েকটি স্থানে অবস্থিত রাডার ও সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে উপসাগরীয় অঞ্চলে ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা অব্যাহত রয়েছে। মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের সৌদি আরব দূতাবাস এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি কনস্যুলেট লক্ষ্য করেও ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে।
এ ছাড়া সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন ও কুয়েতসহ উপসাগরীয় বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত প্রবাসী শ্রমিকরাও হামলার ঝুঁকিতে রয়েছেন। বিশেষ করে বাংলাদেশি, ভারতীয় ও পাকিস্তানি শ্রমিকরা এসব অঞ্চলে বড় সংখ্যায় কাজ করায় তাদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
এর আগে চলমান সংঘাতের শুরুতেই উপসাগরীয় অঞ্চলে আরেকটি হামলায় এক বাংলাদেশি শ্রমিক নিহত হয়েছিলেন। এই নিয়ে এ সংঘাতে এখন পর্যন্ত দুই বাংলাদেশির প্রাণহানির ঘটনা ঘটল।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিমান হামলার পর থেকেই মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা তীব্র আকার ধারণ করে। ওই হামলার জবাবে ইরান বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত মার্কিন ঘাঁটি ও সংশ্লিষ্ট স্থাপনাকে লক্ষ্য করে পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়ে আসছে। সৌদি আরবও সেই হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে।
এদিকে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট দূতাবাসগুলো উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থানরত প্রবাসীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে। সরকার প্রবাসী বাংলাদেশিদের সতর্ক থাকার এবং কোনো জরুরি পরিস্থিতি দেখা দিলে দ্রুত দূতাবাস বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করার আহ্বান জানিয়েছে।
প্রসঙ্গত, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান এই সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে সেখানে কর্মরত বিপুল সংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশির নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
-পতাকানিউজ

