সৌদি আরবের সামাজিক ও অর্থনৈতিক সংস্কারের ধারাবাহিকতায় ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান আরও এক ধাপ এগিয়েছেন। দেশটিতে দুইটি নতুন অ্যালকোহল স্টোর চালুর পরিকল্পনা প্রক্রিয়াধীন, যা নির্দিষ্ট শ্রেণীর অমুসলিমদের জন্য সীমিত প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করবে।
রিয়াদের অভ্যন্তরীণ সূত্র জানিয়েছে, ধাহরানে স্টোরটি আরামকোর কম্পাউন্ডে খোলা হবে, যেখানে শুধুমাত্র সেখানে কর্মরত অমুসলিম বিদেশিরাই প্রবেশাধিকার পাবেন। অপর স্টোরটি জেদ্দায় কনস্যুলেটসমূহের কূটনীতিকদের জন্য নির্দিষ্ট হবে। যদিও দুটি স্টোর ২০২৬ সালে খোলার কথা থাকলেও, এখনও আনুষ্ঠানিক সময়সূচি প্রকাশ করা হয়নি। সৌদি সরকার বা আরামকো এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি।
গত বছর রিয়াদে কূটনৈতিকদের জন্য প্রথমবারের মতো একটি অ্যালকোহল স্টোর চালু করা হয়েছিল। সাত দশক নিষেধাজ্ঞার পর এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে ধরা হয়। রিয়াদের দোকানটি কূটনৈতিক মহলে ‘বুজ বাঙ্কার’ নামে পরিচিত এবং নতুন পরিকল্পিত স্টোরগুলোও একই ধরনের সীমিত প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করবে। সম্প্রতি, রিয়াদের দোকানে অমুসলিম প্রিমিয়াম রেসিডেন্সি–ধারীরাও গ্রাহক হিসেবে যুক্ত হয়েছেন। এই রেসিডেন্সি বড় বিনিয়োগকারী, উদ্যোক্তা এবং দক্ষ পেশাজীবীদের জন্য প্রযোজ্য। এর আগে, অ্যালকোহল সরাসরি পাওয়া যেত কেবল কূটনৈতিক ব্যাগেজ বা নিজস্ব ব্যবস্থার মাধ্যমে।
উপসাগরীয় অঞ্চলের অন্যান্য দেশের তুলনায় সৌদিতে অ্যালকোহল এখনও সাধারণ নাগরিকের জন্য নিষিদ্ধ। তবে ক্রাউন প্রিন্স বিন সালমানের সংস্কারসূচির ধারাবাহিকতায় সামাজিক কর্মকাণ্ড যেমন সিনেমা, কনসার্ট, মরুভূমিতে ডান্স ফেস্টিভ্যালসহ নানা আয়োজন উন্মুক্তভাবে হচ্ছে। নারীদের গাড়ি চালানোর অনুমতি এবং নারী–পুরুষের জনসমাগমে বিধিনিষেধ শিথিল করা এই সংস্কারের অংশ। এই পরিবর্তনের এক বড় লক্ষ্য হলো অর্থনীতিকে বহুমুখী করা এবং আন্তর্জাতিক পর্যটক ও বিনিয়োগকারীদের আকর্ষণ বৃদ্ধি।
অ্যালকোহল সম্পর্কিত নীতির ধীরগতিতে শিথিলতা নজরকাড়া। ২০৩৪ সালের ফুটবল বিশ্বকাপকে সামনে রেখে পর্যটন এলাকা বা বিশেষ রিসর্টে অ্যালকোহল বিক্রির সম্ভাবনার বিষয়ে আগে আন্তর্জাতিক রিপোর্ট প্রকাশিত হলেও সৌদি কর্তৃপক্ষ তা অস্বীকার করেছে। রেড সি গ্লোবাল প্রকল্পের অধীনে আগামী মে মাসে ১৭টি নতুন হোটেল খোলার পরিকল্পনা থাকলেও সেখানে অ্যালকোহল সরবরাহ করা হবে না।
সৌদি পর্যটনমন্ত্রী আহমেদ আল-খাতিব এ মাসে বিদেশি পর্যটক আকর্ষণে অ্যালকোহল নিষেধাজ্ঞা শিথিলের সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে জানিয়েছেন, ‘আমরা বুঝি অনেক আন্তর্জাতিক ভ্রমণকারী অ্যালকোহল চান, তবে এখনো কোনো পরিবর্তন হয়নি।’ পাশাপাশি তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, ধীরে ধীরে নিয়ন্ত্রিত শিথিলতার সুযোগ হতে পারে।
সৌদিতে অ্যালকোহল নীতি সংস্কারের এই নতুন পদক্ষেপগুলো দেশের সামাজিক ও অর্থনৈতিক সংস্কারে ক্রমাগত পরিবর্তনের প্রমাণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। যদিও সাধারণ নাগরিকদের জন্য অ্যালকোহল এখনো নিষিদ্ধ, বিদেশি কর্মী ও কূটনীতিকদের জন্য সীমিত প্রবেশাধিকার নতুন বাস্তবতার প্রতিফলন। বিশ্লেষকরা মনে করেন, এটি আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ ও পর্যটন খাতকে আরও প্রফুল্ল করতে সাহায্য করবে, যেখানে সামাজিক সীমাবদ্ধতাকে নিয়ন্ত্রিতভাবে শিথিল করার মাধ্যমে দেশের গ্লোবাল ইমেজ উন্নত করা হচ্ছে।
পতাকানিউজ/এনটি

