আজকের শিশুরা প্রযুক্তির সঙ্গে বড় হচ্ছে। তারা ঘরে বসে দীর্ঘ সময় মোবাইল, ট্যাব বা টিভি দেখার কারণে তাদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য প্রভাবিত হচ্ছে। স্ক্রিন টাইম নিয়ন্ত্রণ করা না হলে ক্রমশই তাদের স্বাস্থ্য ও সৃজনশীলতা ব্যাহত হবে।
গবেষণা বলছে, অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম শিশুদের চোখ, ঘুম, মনোযোগ, সামাজিক দক্ষতা এবং শারীরিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
স্ক্রিন টাইম সীমা

বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দেন–
- ২ বছরের কম শিশু: স্ক্রিন ব্যবহার এড়ানো উচিত।
- ২–৫ বছর বয়সী শিশু: দৈনিক ১ ঘণ্টার বেশি নয়।
- ৬–১৮ বছর বয়সী শিশু: নির্দিষ্ট সীমা রাখা উচিত এবং শিক্ষা বা হোমওয়ার্ক ছাড়া অতিরিক্ত না দেখা।
স্ক্রিন টাইম কমানোর কার্যকর উপায়
১. সৃজনশীল খেলাধুলা: পাজল, ব্লক, ক্রাফটিং বা চিত্রাঙ্কন শিশুদের মনোযোগ ও কল্পনাশক্তি বাড়ায়।

২. সক্রিয় সময়: বাইরের খেলা, হালকা ব্যায়াম বা ডান্সে শিশুদের শরীর ও মন সুস্থ থাকে।

৩. পরিবারের সাথে সময়: গল্প বলা, বই পড়া বা বোর্ড গেম শিশুদের সামাজিক ও ভাষাগত দক্ষতা বাড়ায়।

৪. নিয়মিত সময়সূচি: খাবার, ঘুম ও খেলার নির্দিষ্ট সময় রাখলে শিশুরা সহজে স্ক্রিন থেকে বিরত থাকতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতামত
স্ক্রিন টাইম সীমিত করা মানে শুধু চোখের যত্ন নয়, এটি শিশুদের মানসিক বিকাশ ও সামাজিক সম্পর্কের জন্যও অপরিহার্য। অভিভাবকদের উচিত নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও বিকল্প ক্রিয়াকলাপ তৈরি করা।
ডিজিটাল যুগে স্ক্রিন পুরোপুরি এড়ানো সম্ভব নয়, কিন্তু সঠিক নিয়ন্ত্রণ, বিকল্প কার্যক্রম ও পরিবারের অংশগ্রহণ শিশুকে স্বাস্থ্যকরভাবে বড় হতে সাহায্য করে। শিশুরা যাতে সুস্থ, সৃজনশীল এবং সামাজিকভাবে সক্ষম হয় তাই অভিভাবকদের উচিত স্ক্রিন টাইম নিয়ন্ত্রণের সহজ পদক্ষেপ নেওয়া।
পতাকানিউজ/এনএফএম

