বাংলাদেশে স্যাটেলাইটভিত্তিক ইন্টারনেট সেবা চালু করা স্টারলিংক প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রমে নিয়মিত পর্যবেক্ষণে একাধিক ঘাটতি ধরা পড়েছে। সম্প্রতি বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) তাদের অফিস এবং অপারেশনাল কার্যক্রম পরিদর্শন করে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
৭ সেপ্টেম্বর রাজধানীর কারওয়ান বাজারের ইউটিসি ভবনে স্টারলিংকের অফিসে বিটিআরসির প্রতিনিধি কোনো কার্যক্রম দেখতে পাননি। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, অফিসে প্রশাসনিক বা কারিগরি কোনো কাজ হচ্ছে না। কার্যত, অফিস থাকলেও এটি কার্যকরভাবে পরিচালিত হচ্ছে না।
গেটওয়ে স্থাপনেও প্রতিষ্ঠানটি কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি দেখাতে পারেনি। বিটিআরসিকে জানানো হয়েছে, বাংলাদেশে গাজীপুর, যশোর ও রাজশাহীতে কিছু গেটওয়ে স্থাপন করা হয়েছে, কিন্তু দেশের অন্যান্য শহরে স্থাপনের পরিকল্পনা এখনও কার্যকর হয়নি।
গ্রাহক সংখ্যা এখনও সীমিত। বিটিআরসিতে প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর পর্যন্ত স্টারলিংকের মোট গ্রাহক সংখ্যা ১ হাজার ৮৬২। এর মধ্যে রেসিডেনশিয়াল গ্রাহক ১ হাজার ২৫১, রেসিডেনশিয়াল লাইট ৪৯৫, মোবাইল ৫৮, প্রিমিয়াম বিজনেস ২০, প্রিমিয়াম বিজনশিয়াল ১, এন্টারপ্রাইজ ২০ এবং টেস্টার ৬।
স্টারলিংকের দেওয়া ব্যান্ডউইথের মাত্র অর্ধেক ব্যবহার হচ্ছে। ৮০ জিবিপিএস ব্যান্ডউইথ নেওয়া হলেও ৩০ জিবিপিএস ব্যবহার হচ্ছে। পপের ব্যাকবোন ক্যাপাসিটি ২০০ জিবিপিএস, গেটওয়ে ও পপের ব্যাকহল ক্যাপাসিটি ৪০০ জিবিপিএস।
মনিটরিং ব্যবস্থা কার্যকর হচ্ছে না। লাইসেন্স অনুযায়ী ‘কমপ্লায়েন্স এপিআই টুল’ সরবরাহ করা হলেও, এনটিএমসি প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহে ব্যর্থ। ৭ অক্টোবর বিটিআরসি স্টারলিংককে এলআই কমপ্লায়েন্সের হালনাগাদ তথ্য চেয়েছিল, তবে টুলের সীমাবদ্ধতার কারণে তথ্য সংগ্রহ পুরোপুরি সম্ভব হচ্ছে না।
বিদেশি গ্রাহক ও রোমিং সেবার ক্ষেত্রেও অনিশ্চয়তা রয়েছে। স্টারলিংক নিশ্চিত করে উঠতে পারেনি যে, বিদেশি গ্রাহকদের সেবা দেশের স্থাপিত গ্রাউন্ড স্টেশন বা পপের মাধ্যমে দেওয়া হচ্ছে কি না।
আইপিএলসি এবং আনফিল্টারড আইপি ট্রানজিট ব্যবহারের অনুমতিও কমিশনের অনুমোদনের বাইরে। স্টারলিংক ১৪ অক্টোবর একটি কারিগরি পরিকল্পনা জমা দিয়েছে, তবে বাংলাদেশি গ্রাহক সরাসরি সেবা পাচ্ছেন না।
বিটিআরসি সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে, স্টারলিংককে তাদের গ্রাউন্ড স্টেশনের বর্তমান অবস্থা, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা, বিদেশি গ্রাহকের সেবা পদ্ধতি এবং বাংলাদেশি-বিদেশি গ্রাহকের তথ্য পৃথক রাখার জন্য মনিটরিং ব্যবস্থা কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হবে।
আইএসপিএবির সভাপতি মোহাম্মদ আমিনুল হাকিম বলেন, ‘লাইসেন্সপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান হিসেবে স্টারলিংককে কমপ্লায়েন্স নিশ্চিত করতে হবে। জাতীয় নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।’
বিশ্লেষকরা মনে করেন, স্যাটেলাইট ইন্টারনেট বাংলাদেশের প্রযুক্তি খাতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে, তবে এটি নিয়ন্ত্রণের বাইরে গেলে তা নিরাপত্তা ও তথ্য সার্বভৌমত্বের জন্য ঝুঁকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। বিটিআরসির দায়িত্ব হলো প্রযুক্তি সম্ভাবনা ও নিয়ন্ত্রণের মধ্যে ভারসাম্য রেখে জনগণের স্বার্থ সুরক্ষিত করা।
পতাকানিউজ/এনটি

