চট্টগ্রাম-সিলেট রেলপথে শমশেরনগর রেলওয়ে স্টেশনে আন্তঃনগর পাহাড়িকা এক্সপ্রেস ও উদয়ন এক্সপ্রেস ট্রেনের নিয়মিত যাত্রাবিরতি আছে। তবে এ পথে শমশেরনর থেকে কুমিল্লা, লাকসাম ও ফেনী রেলওয়ে স্টেশনের কোনো টিকিট বরাদ্দ নেই। ফলে এসব ট্রেনের যাত্রীরা চরম দুর্ভোগে ও বাড়তি টাকা ব্যয়ে টিকিট কিনতে হচ্ছে সরাসরি চট্টগ্রাম স্টেশনের।
এদিকে বিষয়টি রেলয়ের পূর্বাঞ্চলীয় সংশ্লিষ্টদের জানা থাকলেও যাত্রী সেবার কথা ভেবেও তারা শশশেরনগর রেলওয়ে স্টেশনের জন্য বরাদ্দ দিচ্ছেন না কুমিল্লা, লাকসাম ও ফেনীর টিকিট।
রেলওয়ে স্টেশন সূত্রে জানা যায়, চট্টগ্রাম-সিলেট পথে আন্তঃনগর পাহাড়িকা এক্সপ্রেস ও আন্তঃনগর উদয়ন এক্সপ্রেস ট্রেনের যাত্রা শুরুর বছর দুয়েক পরে শমশেরনগর রেলেওযে স্টেশন এ দুটি টেনের যাত্রা বিরতি দেয় রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। আজ থেকে প্রায় ২০ বছর আগে কুমিল্লার গোমতি এলাকায় আন্তঃনগর পাহাড়িকা এক্সপ্রেস ট্রেন দুর্ঘটনায়ে বেশ কয়েকটি বগি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। এরপর বগি স্বল্পতায় শমশেরনগর স্টেশন থেকে কুমিল্লা, লাকসাম ও ফেনীর টিকিট বরাদ্দ বন্ধ রাখা হয়েছিল। এরপর এ দুটি ট্রেনে আগের মত বগি নিয়ে চলাচল করলেও এখন পর্যন্ত শমশেরনগর থেকে কুমিল্লা, লাকসাম ও ফেনীর টিকিট বরাদ্দ দেয়া হয়নি। ফলে এসব স্টেশনের যাত্রীদের প্রতিদিন বাড়তি ভাড়া দিয়ে সরাসরি চট্টগ্রামের টিকেট কিনে যাতায়াত করতে হচ্ছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়,শমশেরনগরের পূর্ববর্তী স্টেশন কুলাউড়া থেকে কুমিল্লা স্টেশনের শোভন চেয়ারের ভাড়া ২১০ টাকা, কুলাউড়া থেকে লাকসাম রেলওয়ে স্টেশনের শোভন চেয়ারের ভাড়া ২৪০ টাকা ও শমশেরনগরের পরবর্তী স্টেশন শ্রীমঙ্গল থেকে কুমিল্লার শোভন চেয়ারের ভাড়া ১৬৫ টাকা, শ্রীমঙ্গল থেকে লাকাসাম স্টেশনের শোভন চেয়ারের ভাড়া ১৯০ টাকা ও শ্রীমঙ্গল থেকে ফেনী স্টেশনের শোভন চেয়ারের ভাড়া ২৪০ টাকা। শমশেরনগর থেকে কুমিল্লার শোভন চেয়ারের ভাড়া ২৩০ টাকা, লাকসামের ভাড়া ২৬০ টাকা ও ফেনীর ভাড়া ২৮০ টাকা। এসব স্টেশনের টিকেট বরাদ্দ না থাকায় যাত্রীরা বাধ্য হয়ে সরাসরি চট্টগ্রামের টিকিট ৩৮৫ টাকা দিয়ে কিনতে হচ্ছে।
ট্রেন যাত্রী ব্যবসায়ী শফিকুর রহমান বলেন, ‘এটা কি ধরণের নিয়ম? শমশেরনগর রেলওয়ে স্টেশনে যেহেতু যাত্রা বিরতি আছে আর এ স্টেশন থেকে কুমিল্লা,লাকাসম ও ফেনীর যাত্রী যাতায়াত করেন সেহেতু এসব স্টেশনের টিকিট বরাদ্দ দিতে সমস্যা কোথায়?
জানতে চাইলে শমশেরনগর রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার জয়ন্ত রায় তিন স্টেশনে টিকিট বরাদ্দ না থাকার কথা স্বীকার করে বলেন, ‘ঠিক কি কারণে সংশ্লিষ্ট বিভাগ এ তিনটি স্টেশনের টিকেট বরাদ্দ দিচ্ছেন না তা আমি বলতে পারবো না। তবে এ তিন স্টেশনের প্রচুর পরিমাণে যাত্রী আছে। সুতরাং এসব স্টেশনের টিকেট বরাদ্দ দেয়া যেতে পারে।
স্টেশন মাস্টার আরও বলেন, ‘আসছে ঈদের ছুটির সময় এ তিনটি স্টেশনের যাত্রীদের দুর্ভোগ আরও বেড়ে যাবে।’
পতাকানিউজ/এমআরআর/আরবি

