বগুড়ায় স্ত্রীকে শ্বাসরোধ করে হত্যার পর নিখোঁজ দেখিয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার অভিযোগ উঠেছে স্বামী মুকুল মিয়ার বিরুদ্ধে। টিকটকে ভিডিও প্রকাশকে কেন্দ্র করে পারিবারিক কলহের জেরে গত ১৩ ডিসেম্বর স্ত্রী মারুফা আক্তারকে হত্যা করা হয়।
এদিকে এ ঘটনার এক সপ্তাহ পর বৃহস্পতিবার, ১৮ ডিসেম্বর রাতে সদর উপজেলার নুড়ুইল গ্রামে অভিযান চালিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় মুুকুল মিয়াকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গ্রেপ্তার মুকুল মিয়া বগুড়া সদরের নুড়ুইল গ্রামের বাসিন্দা ও পেশায় ঢালাই মিস্ত্রি। নিহত মারুফা আক্তার পাশের পীরগাছা গ্রামের বাসিন্দা। তাদের বিয়ে হয় নয় বছর আগে।
বগুড়া সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোস্তফা মঞ্জুর বলেন, ‘টিকটকে ভিডিও করাকে কেন্দ্র করে দাম্পত্য কলহের জেরে গত বছরের ডিসেম্বরে তাদের বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটে। তিন মাস পূর্বে পুনরায় বিয়ের মাধ্যমে তারা পুনরায় সংসার শুরু করেন। তাদের ছয় বছর বয়সী একটি কন্যা সন্তান রয়েছে।
অপরদিকে হত্যার পর মরদেহ বাড়ির সেফটিক ট্যাংকে ফেলে রাখা হয়।
পুলিশের তদন্তে জানা যায়, গত ১১ ডিসেম্বর মারুফা তার চাচাতো বোনের বিয়েতে নাচের একটি ভিডিও টিকটকে প্রকাশ করেন। এ নিয়ে ১৩ ডিসেম্বর রাতে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে তীব্র বিরোধ সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে মুকুল মিয়া মারুফাকে শ্বাসরোধে হত্যা করে মরদেহ বাড়ির সেফটিক ট্যাংকে ফেলে দেয়। পরে ১৫ ডিসেম্বর স্ত্রী নিখোঁজ দাবি করে সদর থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন তিনি।
গোয়েন্দা পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে হত্যার কথা স্বীকার করেন মুকুল মিয়া। এরপর তার দেখানো স্থান থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোস্তফা মঞ্জুর বলেন, অভিযুক্ত মুকুল মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। নিহতের পরিবার মামলা করলে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।
পতাকানিউজ/পিএম/আরবি

