পারভীন আক্তার গত ৮ বছর ধরে চট্টগ্রামের পাঁচলাইশে গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করছিলেন। সেই সুবাদে তার মেয়ে সুমাইয়ার সঙ্গে অন্তরঙ্গ সম্পর্ক ছিল ওই বাসার সকলের সঙ্গে। সম্পর্কের ঘনিষ্ঠতার সুযোগ নিয়ে গৃহকর্ত্রীর অনুপস্থিতিতে ওই বাসা থেকে প্রায় ৫০ ভরি স্বার্ণালঙ্কার নিয়ে উধাও হয়ে যায় সুমাইয়া। এ ঘটনায় থানায় অভিযোগের পর পুলিশি অভিযানে ৪ নারীকে গ্রেপ্তার করা হয়।
রবিবার, ৫ অক্টোবর পাঁচলাইশ থানার ওসি মোহাম্মদ সোলাইমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। গ্রেপ্তাররা হলেন- সুমাইয়া ইয়াসমনি সাথী (১৯), ইভা বেগম (৩২), হাসনা বেগম (৬৭) ও শান্তা আক্তার নিলা (২৬)।
এজাহারে বলা হয়, গৃহিনী উম্মুল খায়ের আমিন (৫৮) মেয়ে নাবিলা আমিনসহ স্বপরিবারে পাঁচলাইশ এলাকায় বসবাস করেন। গত ২১ আগস্ট সকালে মেয়ে নাবিলাকে বাসায় রেখে রাউজানে শ্বশুর বাড়িতে যান তিনি। বিকেলে বাসায় ফিরে দেখতে পান তার শয়ন কক্ষের ও প্রবাসী ছেলের শয়ন কক্ষের আলমারি খোলা।
এতে ২৫ ভরি ওজনের ৬টি স্বর্ণের নেকলেস, ৩ ভরি ওজনের ২টি চেইন, ১২ ভরি ওজনের ১২টি বালা, ৪ ভরি ৮ আনা ওজনের ১২টি আংটি, ৫ ভরি ওজনের ২০ জোড়া কানের দুলসহ মোট ৪৯ ভরি ৮ আনা স্বর্ণালংকার নেই। এসব স্বর্ণালঙ্কারের আনুমানিক বাজার মূল্য ৭৪ লাখ ২৫ হাজার টাকা।
নাবিলার কাছে ঘটনা জানতে চাইলে তিনি জানান, গৃহকর্মীর মেয়ে সুমাইয়া সকালে ১১টায় বাসায় আসে। দুপুরের খাওয়া-ধাওয়ার পর ড্রইং রুমের সোফায় বসেছিল। আমি মেয়েকে নিয়ে রুমে গিয়েছিলাম। এরপর তিনি দেড়টায় চলে যান।
ওসি জানান, শনিবার ৪ অক্টোবর ভোর ৪টায় কিশোরগঞ্জ জেলার ভৈরব থানার চন্ডিবের উত্তর পাড়া ৯ নম্বর ওয়ার্ড থেকে ইভা বেগমের বাড়ি থেকে সুমাইয়া ও ইভাকে গ্রেপ্তার করা হয়। সেখান থেকে ১৪ আনা স্বর্ণালঙ্কার ও স্বর্ণ বিক্রির ৯০ হাজার টাকা এবং স্বর্ণ বিক্রির টাকায় কেনা একটি স্যামসাং এস২৩ ও ১টি আইফোন-১৩ মোবাইলও উদ্ধার করা হয়। পরে তাদের দেয়া তথ্যে হাসনা বেগমের বাড়ি থেকে স্বর্ণ বিক্রির সাড়ে ৪ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়।
গ্রেপ্তার সবার তথ্যে নরসিংদী জেলার রায়পুরা থানার নীলকুঠি এলাকা থেকে শান্তা আক্তার নিলাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এসময় তার কাছে থেকে ৩ ভরি ১২ আনা স্বর্ণালঙ্কার ও স্বর্ণ বিক্রির ১ লাখ টাকাসহ স্বর্ণ বিক্রির টাকায় কেনা ১টি স্যামসাং এস২৪ ও আইফোন-১৩ মোবাইল উদ্ধার করা হয়।
এছাড়া সুদীপ্ত জুয়েলার্স নামের একটি দোকান থেকে ১০ ভরি ওজনের ১টি স্বর্ণের গলানো পাত এবং রতন জুয়েলার্স নামে আরেকটি দোকান থেকে ১ ভরি ৮ আনা ওজনের ১টি স্বর্ণের গলানো পাত উদ্ধার করা হয়। আসামিদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে বলেও জানান ওসি।
পতাকানিউজ/আরএস/আরবি

