চট্টগ্রাম মহানগরীর কোতোয়ালী থানার আসকার দীঘি কাঁচাবাজারের গলির রিচ নাহার বিল্ডিংয়ের ৭ম তলায় দুর্ধর্ষ চুরির ঘটনায় ৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে ডিবি (পশ্চিম) পুলিশ। এসময় তাদের কাছ থেকে একটি ল্যাপটপ, চোরাই স্বর্ণ বিক্রির টাকায় কেনা ১টি রয়েল এনফিল্ড মোটরসাইকেল ও নগদ টাকা উদ্ধার করা হয়।
সোমবার, ২২ ডিসেম্বর সকাল থেকে নগরীর বিভিন্ন স্থানে ও আনোয়ারায় অভিযান পরিচালনা চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তাররা হলেন- মো জসিম (৪৩), মোস্তাকিন হোসেন মিঠু (৪২), মো. সালাউদ্দিন (৩৮) ও মো. ইসমাইল (৩০)।
মঙ্গলবার, ২৩ ডিসেম্বর বিকেলে নগরীর দামপাড়া পুলিশ লাইনে সিএমপি পুলিশ কমিশনার কার্যালয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান নগর পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিবি-পশ্চিম) মোহাম্মদ মাহবুব আলম খান।
তিনি বলেন, গত ৫ ডিসেম্বর রিচ নাহার বিল্ডিংয়ের ৭ম তলায় দুর্ধর্ষ চুরির ঘটনা ঘটে। এসময় চোরেরা বাসা থেকে ২০ ভরি স্বর্ণালঙ্কার, নগদ টাকা ও ল্যাপটপ চুরি করে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় গত ১৬ ডিসেম্বর ভিকটিম পূরবী বিশ্বাস বাদী হয়ে কোতোয়ালী থানায় লিখিত এজাহার করেন। এরপর গোয়েন্দা পুলিশ ঘটনার ছায়াতদন্ত শুরু করে এবং আশপাশ এলাকার বিভিন্ন সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ ও পর্যালোচনা করে দেখা যায়, ৩ থেকে ৪ জন লোক ওই বাসার আশপাশে ঘোরাঘুরি করছে।
উপ-পুলিশ কমিশনার বলেন, ২২ ডিসেম্বর পরিচালিত অভিযানে নগরীর টাইগারপাস এলাকা থেকে মো. জসিম ও মোস্তাকিন হোসেন মিঠুকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর জসিমের দেয়া তথ্যে তার বাসা থেকে উদ্ধার করা হয় চুরির এইচপি ব্র্যান্ডের একটি ল্যাপটপ। এদিন রাতে অভিযান চালিয়ে আনোয়ারা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় সেতু দাস প্রকাশ সালাহ উদ্দিনকে। সে স্বীকার করে চোরাই স্বর্ণ বিক্রি করে সে মোটরসাইকেল কিনেছে। পরে তার দেয়া তথ্যে উদ্ধার করা হয় একটি রয়েল এনফিল্ড মোটরসাইকেল ও নগদ ৬০ হাজার টাকা। নগরীর নিউমার্কেট থেকে গ্রেপ্তার করা হয় মো. ইসমাইলকে। সে টেরীবাজার এলাকার একটি দোকানের ঠিকানা দেয়। পরে তাকে নিয়ে চোরাই স্বর্ণ উদ্ধার গেলে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে মালিক দোকান বন্ধ করে পালিয়ে যায়।
উপ-পুলিশ কমিশনার আরও বলেন, মূলত মো. সালাউদ্দিন চুরির পরিকল্পনা করে এবং সেই মোতাবেক কাজ করে বাকিরা। জসিমকে একটি স্বর্ণের চেইন, একটি ল্যাপটপ ও নগদ ১৬ হাজার টাকা, মিঠুকে একটি চেইন ও নগদ ৪৫ হাজার টাকা এবং সালাউদ্দিন বাকি স্বর্ণ ও টাকা দিয়ে একটি রয়েল অ্যানফিল্ড মোটরসাইকেল কিনে।
গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে চুরি, ডাকাতি ও অস্ত্র আইনে একাধিক মামলা রয়েছে। চোরচক্রের পলাতক সদস্য ও চোরাই স্বর্ণ উদ্ধারে অভিযানে অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান পুলিশের এ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।
পতাকানিউজ/আরবি

