সুনামগঞ্জে হঠাৎ বজ্রপাতে চারজনের প্রাণ গেছে। এছাড়া আহত হয়েছেন আরও চারজন।
শনিবার, ১৮ এপ্রিল বেলা সাড়ে ১২টায় জামালগঞ্জের পাগনার হাওর, ধর্মপাশা উপজেলায় টগার হাওর এবং তাহিরপুর উপজেলায় এ ঘটনা ঘটে।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. মতিউর রহমান।
নিহতরা হলেন- জামালগঞ্জ উপজেলা সদর ইউনিয়নের চাঁনপুর গ্রামের নুরুজ্জামান, ধর্মপাশা উপজেলার পাইকুরহাটি ইউনিয়নের বড়ইহাটি গ্রামের হাবিবুর রহমান, একই উপজেলার জয়শ্রী ইউনিয়নের সরস্বতিপুর গ্রামের জয়নাল হকের ছেলে রহমত উল্লাহ (২৩) এবং তাহিরপুর উপজেলা সদর ইউনিয়নের গাজীপুর গ্রামের আবু বকরের ছেলে আবুল কালাম ওরফে কালা মিয়া (২৮)।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, আজ দুপুরে জামালগঞ্জ উপজেলার পাগনার হাওরে ধান কাটার সময় হঠাৎ বজ্রপাতে নুরুজ্জামান ও তার চাচাতো ভাই তোফাজ্জল গুরুতর আহত হন।
পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে জামালগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে চিকিৎসক নুরুজ্জামানকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত তোফাজ্জলকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেটে পাঠানো হয়।
এদিকে একইসময় ধর্মপাশা উপজেলার টগার হাওরের পাশে চাচার সঙ্গে চকিয়াচাপুর গ্রামে বোরো ধান কাটতে যান হবিবুর। এসময় বজ্রপাতে হাবিবুর মারা যান। এছাড়া উপজেলার জয়শ্রী ইউনিয়নের সরস্বতিপুর ইসলামপুর গ্রামে বজ্রপাতে জয়নাল হক, তার ছেলে রহমত উল্লাহ এবং একই এলাকার লাল সাধুর স্ত্রী শিখা মনি (২৫) আহত হয়।
পরে তাদের উদ্ধার করে ধর্মপাশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে চিকিৎসক রহমতকে মৃত ঘোষণা করেন। এছাড়া আহত জয়নাল ও শিখা মনিকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
অপরদিকে তাহিরপুর উপজেলায় জামলাবাজ গ্রামে হাওরে একটি হাঁসের খামারে কাজ করছিলেন কালা মিয়া ও নূর মোহাম্মদ। এসময় হঠাৎ বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই কালা মিয়া নিহত হন। আহত নূর মোহাম্মদকে উদ্ধার করে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেটে পাঠানো হয়েছে।
আহত নূর মোহাম্মদ (২৪) উপজেলার দক্ষিণ বড়দল ইউনিয়নের জামলাবাজ গ্রামের বাসিন্দা।
সুনামগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. ওমর ফারুক বলেন, হাওরে শনিবার পর্যন্ত পাঁচ হাজার ৫৫১ হেক্টর জমির ধান কাটা হয়েছে। ধান কাটা উপযুক্ত হলেও পানির কারণে হার্ভেস্টর জমিতে নামছে না। এমন পরিস্থিতিতে স্থানীয় শ্রমিকের পাশাপাশি বাইরের জেলার শ্রমিক নিয়ে আসতেও চিঠি পাঠানো হয়েছে। তবে বজ্রপাত ও ঝড়-বৃষ্টির ভয়ে অনেকে ধান কাটতে হাওরে নামতে চান না।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মতিউর রহমান বলেন, ‘হতাহতদের পরিবারকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে স্থানীয় প্রশাসনকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।’
পতাকানিউজ/আরবি

