জুলাই আন্দোলনে দেলোয়ার হোসেন নিহত হওয়ার ঘটনায় মিরপুর মডেল থানার হত্যা মামলায় ফেনী-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে আবারও ৩ দিনের রিমান্ডে নেয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মঞ্জুরুল ইসলাম এ আদেশ দেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অতিরিক্ত পিপি শামসুদ্দোহা সুমন বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
তিনদিনের রিমান্ড শেষে মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে আজ আদালতে হাজির করে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির এসআই কফিল উদ্দিন এক-এগারোর আলোচিত সাবেক সাবেক এই সেনা কর্মকর্তাকে পুনরায় ৪ দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
এ মামলায় গত ১১ এপ্রিল মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে ৪ দিনের রিমান্ডে নেয়া হয়। রিমান্ডে নেয়ার পর তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসা শেষে গত ২৭ এপ্রিল আদালতে হাজির করে আবারও তাকে তিন দিনের রিমান্ডে নেয়া হয়।
নতুন করে রিমান্ড আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেছেন, তাকে জিজ্ঞাসাবাদে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে, যা যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। তাকে আরও জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন।
এর আগে গত ৭ এপ্রিল একই মামলায় তাকে ৪ দিনের রিমান্ডে নেয়া হয়েছিল।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই বিকেলে মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বর এলাকায় ছাত্র আন্দোলনের মিছিলে অংশ নেওয়ার সময় দেলোয়ার হোসেনকে গুলি করে হত্যা করা হয়।
অভিযোগ করা হয়েছে, আওয়ামী লীগের বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী ও অজ্ঞাতসন্ত্রাসীরা আন্দোলনকারীদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।
ঘটনাস্থলে গুরুতর আহত দেলোয়ার হোসেনকে প্রথমে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে এবং পরে শ্যামলীর সিটি কেয়ার জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২০ জুলাই মৃত্যুবরণ করেন তিনি। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর ২০২৫ সালের ৬ এপ্রিল নিহতের স্ত্রী মোসাম্মাৎ লিজা আক্তার এ ঘটনায় হত্যা মামলা করেন।
প্রসঙ্গত, গত ২৩ মার্চ গভীর রাতে রাজধানীর বারিধারা ডিওএইচএস এলাকার ২ নম্বর লেনের ১৫৩ নম্বর বাড়ি থেকে মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করা হয়। ২৪ মার্চ রাজধানীর পল্টন থানার মানব পাচার মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাকে ৫ দিনের রিমান্ডে নেয়া হয়।
২৯ মার্চ একই মামলায় তাকে দ্বিতীয় দফায় ৬ দিনের রিমান্ডে নেয়া হয়। গত ৪ এপ্রিল তাকে একই মামলায় ৩ দিনের রিমান্ডে নেয়া হয়। পল্টন থানার মানবপাচার মামলায় টানা ১৪ দিন রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে। এরপর মিরপুর থানায় হত্যা মামলায় তিন দফা রিমান্ডে নেয়া হয়। এবার আবারও ৩ দিনের রিমান্ডে নেয়া হল। গ্রেপ্তারের পর এ নিয়ে মোট ৭ দফা রিমান্ডে নেয়া হলো সাবেক এ প্রভাবশালী সেনা কর্মকর্তাকে।
পতাকানিউজ/এএ/আরবি

