ছাত্রদলের সাবেক কেন্দ্রীয় সহ-সাধারণ সম্পাদক নুরুল আলম নুরুকে বিচানা থেকে তুলে নিয়ে নির্যাতন ও গুলি করে হত্যার অভিযোগে রাউজানের সাবেক এমপি এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরীকে ফের ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। সোমবার, ২৪ নভেম্বর চট্টগ্রাম ২য় মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ইব্রাহীম খলীল শুনানি শেষে এ রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
এর আগে গত বছরের ১৭ অক্টোবর একই মামলায় চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি) ৩ দিনের রিমান্ডে নিয়ে যান বলে জানান আসামি পক্ষের আইনজীবী মঞ্জুরুল হক। তবে বছর ঘুরতেই ওই মামলার তদন্ত ভার গিয়ে পড়ে অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) কাছে। সিআইডির তদন্ত কর্মকর্তা এসআই নাছির উদ্দীন রাসেল মামলায় অধিকতর তদন্তের জন্য ৫ দিনের রিমাণ্ড আবেদন করেন আদালতে।
পুলিশের প্রসিকিউশন শাখা থেকে জানানো হয়, আদালত ভার্চুয়ালি শুনানি করে রাউজানের সাবেক এমপি এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরীর ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
মহানগরের চকবাজার থানায় দায়ের করা মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ২০১৭ সালের ২৯ মার্চ রাত ১১টা ৪৫ মিনিটে মহানগরীর চকবাজার থানার চন্দনপুরা পশ্চিম গলির মিন্নি মহলে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সহ-সাধারণ সম্পাদক নুরুল আলম নুরুর বাসায় হানা দেয় পুলিশ ও তৎকালীন শাসক দলের কিছু ক্যাডার। পুলিশ দেখে নুরুর ভাগ্নে রাশেদুল ইসলাম বাসার দরজা খুলে দেন। এসময় বাসায় ঘুমন্ত নুরুল আলমকে বিছানা থেকে টেনে তুলে হাতে হাতকড়া পরিয়ে দেন। নুরুর ভাগ্নে রাশেদ দাবি করেছিলেন, সাদা পোশাকে থাকা এসআই পদবির একজন কর্মকর্তাকে তারা চিনতে পারেন।
বাড়ির বাইরে অপেক্ষমাণ একটি সাদা রঙের মাইক্রোবাসে করে নুরুকে নিয়ে প্রথমে নিয়ে যাওয়া হয় রাউজানের নোয়াপাড়া কলেজ ক্যাম্পাসে। সেখানে আগে থেকে অপেক্ষারত ফজলে করিমের আওয়ামী ক্যাডারদের গাড়িতে তুলে, নোয়াপাড়া পুলিশ ক্যাম্পে নুরুকে নিয়ে কাপড় দিয়ে চোখ-মুখ ও রশি দিয়ে দুই হাত বেঁধে ভয়াবহ শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়। পরে তাকে মাথায় গুলি করে হত্যার পর রাউজান বাগোয়ান ইউনিয়নের খেলারঘাট কর্ণফুলী নদীর তীরে লাশ ফেলে দেয়া হয়। তাকে তুলে নেয়ার প্রায় ১৩ ঘণ্টা পর অর্থাৎ ৩০ মার্চ নিজ বাড়ি থেকে ৫ কিলোমিটার দূরে লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
ঘটনার পর পরই পুলিশ বাদী হয়ে থানায় মামলা করে। দুদিন পর আদালতে নুরুল আলমের স্ত্রী সুমি আকতার মামলা করলেও সেই সময় পুলিশ কোনো পদক্ষেপ নেয়নি বলে অভিযোগ করা হয়। একপর্যায়ে পুলিশ নিজেদের করা মামলায় আসামি শনাক্ত করা যায়নি বলে ফাইনাল রিপোর্ট দিলে মামলাটি শেষ হয়ে যায়।
এ ঘটনার ৭ বছর পর ২০২৪ সালের ১ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম মহানগরীর চকবাজার থানায় নতুন করে হত্যা মামলা করেন তার স্ত্রী সুমি আক্তার। মামলায় প্রধান আসামি করা হয় রাউজানের সাবেক এমপি এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরীকে। এছাড়া রাউজানের নোয়াপাড়া পুলিশ ফাঁড়ির তৎকালীন এসআই শেখ মুহামদ জাবেদ (৩৫), নোয়াপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মুহাম্মদ বাবুল মিয়াসহ (৫২) মোট ১৭ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ৩০-৪০ জনকে আসামি করা হয়। নুরুর গ্রামের বাড়ি রাউজান উপজেলার গুজরা ইউনিয়নের নোয়াপাড়া গ্রামের কমলার দীঘির পাড় এলাকায়।
৫ আগস্টের পর তার বিরুদ্ধে হত্যা, অপহরণ, মুক্তিপণ আদায়, হত্যাচেষ্টা, অস্ত্র দিয়ে ফাঁসানো, অস্ত্রের মুখে জমি লিখিয়ে নেয়া, ভাঙচুর, দখলসহ বিভিন্ন অভিযোগে অন্তত এক ডজন মামলা হয়েছে চট্টগ্রামের বিভিন্ন থানায়।
প্রসঙ্গত, গত ১২ সেপ্টেম্বর সকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া সীমান্তের আবদুল্লাহপুর এলাকা থেকে এবিএম ফজলে করিমকে আটক করে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। তিনি আখাউড়া সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন। তার বিরুদ্ধে চট্টগ্রামে মামলা হয়েছে ১৪টি। এসব মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর জন্য হেলিকপ্টারে করে তাকে ১৯ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রামে আনা হয়।
পতাকানিউজ/আরএস/আরবি

