হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করার জন্য ইরানকে দেওয়া সময়সীমা আরও ১০ দিন বাড়িয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরানের সঙ্গে আলোচনা ইতিবাচকভাবে এগোচ্ছে বলে দাবি করে বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) তিনি নতুন এই সময়সীমা ঘোষণা করেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প জানান, ইরান সরকারের অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপ সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়েছে।
তিনি লিখেছেন, ‘এই মর্মে জানানো যাচ্ছে যে, ইরান সরকারের অনুরোধক্রমে আমি জ্বালানি স্থাপনায় সম্ভাব্য হামলার সময়সীমা ১০ দিনের জন্য স্থগিত করছি। সোমবার, ৬ এপ্রিল ২০২৬ রাত ৮টা (ইস্টার্ন টাইম) পর্যন্ত এই সময়সীমা কার্যকর থাকবে।’
একই পোস্টে ট্রাম্প আরও দাবি করেন, পশ্চিমা কিছু গণমাধ্যমের ভিন্নমত থাকা সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে এবং তা ইতিবাচকভাবে এগোচ্ছে। তিনি বলেন, ‘ফেক নিউজ মিডিয়ার বিভিন্ন দাবির পরও আলোচনা চলছে এবং তা খুব ভালোভাবে এগোচ্ছে।’
পরে ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প জানান, ইরান প্রথমে সাত দিনের সময় চাইলেও যুক্তরাষ্ট্র ১০ দিনের সময় দিয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমি তাদের ১০ দিন সময় দিয়েছি। তারা সাত দিন চেয়েছিল। আমরা দেখব কী হয়।’
এদিকে ট্রাম্প আবারও চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানকে শক্তিশালী বলে দাবি করেছেন। তিনি বলেন, এই সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র এক অর্থে ইতোমধ্যেই কৌশলগতভাবে জয়ী অবস্থানে রয়েছে।
এর আগে ট্রাম্প ইরানের নেতৃত্বকে প্রায় এক মাস ধরে চলা সংঘাতের অবসান ঘটাতে আলোচনায় বসার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে সতর্ক করে বলেন, আলোচনা ব্যর্থ হলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে আরও বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালাতে পারে। এমনকি ইরানের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের লক্ষ্য করে হামলার হুমকিও দেন তিনি।
এক মাসের যুদ্ধ, বাড়ছে উত্তেজনা
প্রায় এক মাস ধরে চলা এই সংঘাতের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও অস্থিতিশীল হয়ে উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে ওয়াশিংটনের দাবি।
ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব হামলায় ইরানের নৌবাহিনীসহ সামরিক সক্ষমতা বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে। তবে ইরান এসব দাবির অনেকটাই অস্বীকার করেছে।
এই সংঘাতের প্রেক্ষাপটে হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা একটি বড় আন্তর্জাতিক ইস্যুতে পরিণত হয়েছে। কারণ, বিশ্বের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ তেল এই নৌপথ দিয়ে পরিবহন হয়।

শান্তি প্রস্তাব, তবে মতপার্থক্য রয়ে গেছে
সংঘাত বন্ধে একটি প্রস্তাবিত শান্তি পরিকল্পনাও আলোচনায় রয়েছে বলে জানা গেছে। পাকিস্তানের মাধ্যমে একটি ১৫ দফা প্রস্তাব ইরানের কাছে পৌঁছানো হয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।
তবে এখনো দুই পক্ষের অবস্থানের মধ্যে বড় ধরনের পার্থক্য রয়েছে। ইরানের দাবি, তাদের মিত্রদের ওপর হামলা বন্ধ করতে হবে, দেশটির সার্বভৌমত্ব স্বীকার করতে হবে এবং যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতির জন্য ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।
চলমান সংঘাতে এখন পর্যন্ত তিন হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে বেসামরিক হতাহতের সংখ্যাও রয়েছে বলে জানা গেছে।
এদিকে ইসরায়েল দাবি করেছে, সাম্প্রতিক এক হামলায় ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর নৌবাহিনীর একজন শীর্ষ কমান্ডারসহ কয়েকজন কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন।
কূটনীতি ও সামরিক চাপ—দুই পথেই যুক্তরাষ্ট্র
পরিস্থিতি মোকাবিলায় একদিকে যেমন সামরিক চাপ বজায় রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র, অন্যদিকে কূটনৈতিক সমাধানের পথও খোলা রাখার চেষ্টা করছে ওয়াশিংটন।
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালি, জ্বালানি সরবরাহ এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা—এই তিনটি বিষয় এখন এই সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।
তারা বলছেন, আলোচনা সফল না হলে সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে সময়সীমা বাড়ানোর সিদ্ধান্তকে আপাতত কূটনৈতিক সমাধানের একটি সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সূত্র : দ্যা গার্ডিয়ান
-পতাকানিউজ

