চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলা জুড়ে টানা ২দিনে ৩টি লাশ উদ্ধারের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ ও আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। মঙ্গলবার, ১১ নভেম্বর সকালে উপজেলার ধলই এলাকার এনায়েতপুর পশ্চিমে একটি ডোবা থেকে এক অজ্ঞাত ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করা হয়।
এর আগে সোমবার, ১০ নভেম্বর সকালে ১ নারীসহ ২টি লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। তাদের মধ্যে পুরুষের পরিচয় শনাক্ত করে পরিবারের কাছেও লাশ হস্তান্তর করা হয়েছে। তবে এখনো শনাক্ত করা যায়নি ওই নারীর লাশ। এরই মধ্যে আরেক অজ্ঞাত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।
হাটহাজারী থানার ওসি মো. মনজুর কাদের ভূঁইয়া পতাকানিউজকে বলেন, ‘মঙ্গলবার, ১১ নভেম্বর সকালে উপজেলার ধলই এলাকার এনায়েতপুর পশ্চিমে একটি ডোবা থেকে এক অজ্ঞাত ব্যাক্তির লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। তার পরিচয় শনাক্তের কাজ চলছে। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হচ্ছে।’
এর আগে গতকাল সোমবার উদ্ধার দু’টি লাশের পরিচয় শনাক্ত করা গেছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এদের মধ্যে পুরুষের নাম ঠিকানা শনাক্ত করা গেছে। তিনি জামালপুর কাঠগড় মুসলিমাবাদ এলাকার বাসিন্দা আজিজুল হকের ছেলে মো. মনিরাজ। তার পরিবারের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হয়েছে। তিনি মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলেন বলে জানিয়েছেন তার স্ত্রী রোকেয়া বেগম। এছাড়া অপর নারীর পরিচয় শনাক্ত করা যায়নি।’
সোমবার সকাল ১০টার দিকে হাটহাজারী উপজেলার মদুনাঘাট এলাকায় বিদ্যুৎ উপকেন্দ্রের পাশে হালদা নদীর সংযোগস্থলের স্লুইচ গেটের নিচে পানিতে ভাসমান অবস্থায় এক নারীর মরদেহ দেখতে পান স্থানীয়রা। এ খবর পেয়ে মদুনাঘাট তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহটি উদ্ধার করে।
পুলিশ জানায়, নারীর মরদেহটি পচে ফুলে গেছে, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে ৩ থেকে ৪ দিন আগে তার মৃত্যু হয়েছে। নারীর শরীরে আঘাতের চিহ্ন থাকায় পুলিশ এটি হত্যা বলে সন্দেহ করছে। মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছিল।
একই দিন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে হাটহাজারী পৌরসভার আলমপুর এলাকার একটি মাছের খামারের পুকুর পাড় থেকে উদ্ধার করা হয় আরেক ব্যক্তির মরদেহ। স্থানীয়দের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ‘৯৯৯’- এ কল করা হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহটি উদ্ধার করে।
পুলিশ জানায়, মৃত ব্যক্তির শরীরে তেমন কোনো আঘাতের চিহ্ন নেই। প্রাথমিকভাবে মৃত্যুর কারণ নির্ধারণ সম্ভব না হওয়ায় মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য চমেক হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছিল। পরে সেই লাশের পরিচয় শনাক্ত করা গেছে। এটি জামালপুর কাঠগড় মুসলিমাবাদ এলাকার বাসিন্দা আজিজুল হকের ছেলে মো. মনিরাজের লাশ।
পতাকানিউজ/আরএস/এএইচ

