ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান বিন হাদিকে হত্যার ঘটনায় দুর্বৃত্তদের ব্যবহৃত মোটরসাইকেলের মালিক সন্দেহে গ্রেপ্তার মো. আব্দুল হান্নানকে জামিন দিয়েছেন আদালত। রোববার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. হাসান শাহাদাত শুনানি শেষে তার জামিন মঞ্জুর করেন।
ডিএমপির প্রসিকিউশন বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মিয়া মোহাম্মদ আশিস বিন হাছান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
গত ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর পল্টন এলাকায় হাদিকে গুলি করার পরদিন ১৩ ডিসেম্বর মোটরসাইকেলের মালিক সন্দেহে র্যাব-২ আব্দুল হান্নানকে আটক করে। পরে তাকে পল্টন মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়। ১৪ ডিসেম্বর তাকে ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তিন দিনের রিমান্ডে পাঠান আদালত। রিমান্ড শেষে ১৭ ডিসেম্বর তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
কারাগারে পাঠানোর সময় আব্দুল হান্নানের আইনজীবী আদালতে দাবি করেন, হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটির মালিক তাঁর মক্কেল নন। এ বিষয়ে আদালত তদন্ত কর্মকর্তার কাছে প্রতিবেদন চান।
পরবর্তী সময়ে তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির পরিদর্শক ফয়সাল আহমেদ আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেন। প্রতিবেদনে বলা হয়, রিমান্ড চলাকালে আব্দুল হান্নানকে একটি মোটরসাইকেল শোরুমের মালিকের মুখোমুখি করা হয়। পাশাপাশি বিআরটিএ সূত্রে তাঁর নামে নিবন্ধিত দুটি মোটরসাইকেলের তথ্য পাওয়া যায়—একটি সুজুকি জিক্সার ও অন্যটি ইয়ামাহা ব্র্যান্ডের।
তদন্তে আরও উঠে আসে, হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি ছিল হোন্ডা ব্র্যান্ডের হর্নেট মডেলের। অথচ আব্দুল হান্নানের মালিকানাধীন মোটরসাইকেলের নিবন্ধন নম্বর ঢাকা মেট্রো-ল ৫৪-৬৩৭৫, যা সুজুকি জিক্সার মডেলের। এ ছাড়া হত্যায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেলের নম্বরের সঙ্গে এক অঙ্কের গরমিলও পাওয়া গেছে। যে নম্বরের শেষে ‘৬’ থাকার কথা, সেখানে ‘৫’ শনাক্ত হয়। এসব তথ্যের ভিত্তিতে তদন্ত কর্মকর্তা মত দেন, হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি আব্দুল হান্নানের নয়।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, অভ্যুত্থান–পরবর্তী সময়ে শরিফ ওসমান বিন হাদি রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক প্ল্যাটফর্ম ইনকিলাব মঞ্চ গঠন করেন এবং এর মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। গত ১২ ডিসেম্বর দুপুর ২টা ২০ মিনিটে পল্টন মডেল থানার বক্স–কালভার্ট রোড এলাকায় মোটরসাইকেলে থাকা দুর্বৃত্তরা তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি করে পালিয়ে যায়। এতে হাদি মাথা ও ডান কানের নিচে গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন।
প্রথমে তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে ১৫ ডিসেম্বর তাঁকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর তাঁর মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় ১৪ ডিসেম্বর ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের পল্টন থানায় হত্যাচেষ্টা মামলা করেন। হাদির মৃত্যুর পর মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তর করা হয়।
পতাকানিউজ/এআই

