ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যা মামলায় মূল সন্দেহভাজন ফয়সাল করিম মাসুদের স্ত্রীসহ তিনজনকে ফের ৪ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। গাড়ি চালক নুরুজ্জামানকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। শনিবার, ২০ ডিসেম্বর ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সিদ্দিক আজাদ এসব আদেশ দেন।
যাদের ফের রিমান্ডে নেয়া হয়েছে তারা হলেন ফয়সালের স্ত্রী সাহেদা পারভীন সামিয়া, শ্যালক ওয়াহিদ আহমেদ সিপু এবং বান্ধবী মারিয়া আক্তার লিমা।
সন্ধ্যার দিকে তিনজনকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়। মামলার তদন্ত গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) পরিদর্শক ফয়সাল আহমেদ প্রত্যেকের পুনরায় সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত প্রত্যেকের ৪ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এর আগে গত ১৫ ডিসেম্বর এই তিনজনকে ৫ দিনের রিমান্ডে নেয়া হয়।
১৪ ডিসেম্বর সামিয়া ও সিপুকে নারায়ণগঞ্জ থেকে এবং মারিয়াকে ঢাকা থেকে আটক করে পল্টন থানায় হস্তান্তর করা হয়। গত ১২ ডিসেম্বর জুমার নামাজের পর রাজধানীর পুরানা পল্টনের বক্স-কালভার্ট রোডে রিকশায় যাওয়ার সময় মোটরসাইকেলে আসা দুর্বৃত্তরা ওসমান হাদির মাথায় গুলি করে পালিয়ে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে ঢামেক ও পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থা সংকটাপন্ন হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) দুপুরে তাকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয়। গত বৃহস্পতিবার রাতে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাদি মারা যান।
হাদি গুলিবিদ্ধ হওয়ার দুইদিন পর গত রোববার ১৪ ডিসেম্বর রাতে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের পল্টন থানায় হত্যা চেষ্টার অভিযোগে মামলা দায়ের করেন। হাদির মৃত্যুর পর গত শুক্রবার এই মামলাটি হত্যা মামলায় রূপ নেয়। এই মামলায় ফয়সাল করিম মাসুদকে আসামি করা হয়েছে। অজ্ঞাতনামা কয়েকজন কেউ আসামি করা হয়েছে। মামলা দায়ের এর পর মামলাটি তদন্তের জন্য ডিবিকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।
হাদিকে হত্যাচেষ্টায় দুর্বৃত্তদের ব্যবহৃত মোটরসাইকেলের মালিক হিসাবে মো. আব্দুল হান্নানকেও গত ১৪ ডিসেম্বর ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় তিন দিনের রিমান্ডে পাঠানো হয়। তিনি কারাগারে আছেন। এ মামলায় ফয়সালের সহযোগী কবির ওরফে দাঁতভাঙ্গা কবির সাত দিনের রিমান্ডে রয়েছেন। ফয়সালের মা ও বাবা ইতিমধ্যে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন এই মামলায়। তারা কারাগারে আছেন।
ফয়সালকে যে মাইক্রোবাসে করে ঢাকা থেকে পাচার করা হয়েছিল সেই মাইক্রোবাসের চালক নুরুজ্জামানকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তিন দিনের রিমান্ড শেষে আজ তাকে আদালতে হাজির করে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। আদালত শুনানি শেষে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। ফয়সালকে পালাতে সহযোগিতা করার অভিযোগে রেন্ট এ কারের মালিক নুরুজ্জামানকে গত ১৭ ডিসেম্বর তিনদিনের রিমান্ডে নেয়া হয়।
পতাকানিউজ/এএ/কেএস

