গাজা উপত্যকায় আটক থাকা ইসরায়েলি জিম্মিদের মুক্তি দিতে শুরু করেছে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস। সোমবার স্থানীয় সময় সকাল ৮টায় প্রথম পর্যায়ে ৭ জন জিম্মিকে আন্তর্জাতিক রেডক্রসের কাছে হস্তান্তর করে তারা।
মুক্তিপাওয়া এই ৭ ইসরায়েলি জিম্মির সবাই পুরুষ। এরা হলেন জিভ বেরমান, গালি বেরমান, এইতান মোর, মাতান আঙ্গরেস্ত, ওমরি মিরান, গাই গিলবোয়া-দালাল এবং অ্যালন ওহেল।
এই জিম্মি মুক্তি প্রক্রিয়া যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উদ্যোগে গঠিত যুদ্ধবিরতি ও শান্তি পরিকল্পনার অংশ। গত শুক্রবার গাজায় যুদ্ধবিরতি শুরু হলে চার দিন পর শুরু হয় জিম্মি বিনিময়। এই পরিকল্পনার মূল শর্ত ছিল— গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান বন্ধ, সেনা প্রত্যাহার, এবং জিম্মি-বন্দি বিনিময়। এর অংশ হিসেবেই প্রথম দফায় মুক্তি পেয়েছেন ৭ ইসরায়েলি জিম্মি।
এদিকে একই সময়ে মিসরের শারম আল-শেখ শহরে শুরু হতে যাচ্ছে আন্তর্জাতিক শান্তি সম্মেলন। সম্মেলনে ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে সম্পাদিত যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে স্বাক্ষর করতে পারেন ট্রাম্প। গাজা যুদ্ধ বন্ধে এটি হতে যাচ্ছে একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক পদক্ষেপ।
এর আগে, রোববার দিনভর বন্দি বিনিময় নিয়ে একাধিক দফায় আলোচনা চালায় হামাস ও ইসরায়েল। পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে আজ আরও জিম্মি মুক্তির সম্ভাবনা রয়েছে।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলায় প্রায় ২৫০ ইসরায়েলি গাজায় জিম্মি হন। দুই বছর পেরিয়ে গেলেও এখনও ৪৮ জন জিম্মি রয়েছেন, যাদের মধ্যে ২০ জন জীবিত এবং ২৮ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে হামাস জানিয়েছে।
বিনিময় চুক্তির আওতায় ইসরায়েল ১ হাজার ৯৫০ জন ফিলিস্তিনি বন্দিকে মুক্তি দেবে, যাদের মধ্যে ২৫০ জন যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত এবং ২২ জন শিশু।
পতাকানিউজ/এনএফএম

