কক্সবাজার সদর হাসপাতালে শিশু সন্তানের চিকিৎসা করাতে এসে নিখোঁজ প্রবাসীর স্ত্রীর মরদেহ ৪ দিন পর পাওয়া গেছে একই হাসপাতালের লিফটের নিচে।
শনিবার, ৭ মার্চ বেলা ১২টায় গন্ধের উৎস সন্ধান করতে গিয়ে এ মরদেহের সন্ধান পাওয়া যায় বলে জানান কক্সবাজার সদর হাসপাতালের তত্বাবধায়ক মং টিং ঞো।
নিহত নারী কোহিনূর আকতার। তিনি উখিয়া উপজেলার রাজাপালং ইউনিয়ন ৭নম্বর ওয়ার্ড দক্ষিণ ডেইলপাড়া এলাকার কাতার প্রবাসী নুরুল ইসলামের স্ত্রী।
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক মং টিং ঞো’ জানান, হাসপাতালের সর্বসাধারণের ব্যবহৃত লিফটের নিচ থেকে গন্ধ বের হলে তার উৎস সন্ধানের পর লিফটের নিচের গর্তে মরদেহের সন্ধান পাওয়া যায়।
তিনি বলেন, ‘মরদেহের সন্ধান পেয়ে স্বজনদের জানানো হয়। পরে স্বজন, পুলিশ ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের উপস্থিতিতে উদ্ধার কার্যক্রম করা হয়।
কক্সবাজার সদর মডেল থানার ওসি ছমিউদ্দীন জানান, কহিনুর আকতার গত ৩ মার্চ তার বড় মেয়ে মরিয়ম আক্তার (৫) অসুস্থ হওয়ায় কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করান। শিশুটিকে হাসপাতালের ৫ম তলার শিশু ওয়ার্ডের ২নম্বর ইউনিটে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছিল। ওই সময় মা ও মেয়ে উভয়েই হাসপাতালে অবস্থান করছিলেন। পরদিন ৪ মার্চ বেলা সাড়ে ১২টায় কহিনুর আকতার ওষুধ আনার কথা বলে হাসপাতালের ৫ম তলা থেকে নিচে নামেন। এরপর থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন।
এ ঘটনায় নিখোঁজ নারীর শ্বশুর আলী আকবর থানায় একটি ডায়রি করেন।
ওসি বলেন, ‘নিখোঁজের পর থেকে পুলিশ কোহিনূর আকতারকে বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করা অব্যাহত রাখে। এর মধ্যে আজ দুপুরের হাসপাতালে কর্তৃপক্ষ জানায়, লিফটের নিচে একটি মরদেহ পাওয়া গেছে। খবর পেয়ে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পাঠায়। কিভাবে নারীটি গর্তে পড়ে গেছে তার কোনো ক্লু পাওয়া যায়নি। অনুসন্ধান চলছে। বিস্তারিত পরে জানা যাবে’
নিহতের স্বামীর ভাইয়ের ছেলে আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, আমার চাচিকে চারদিন ধরে পাওয়া যাচ্ছিল না। নানাভাবে তাকে আমরা খুঁজছিলাম। র্যাব-পুলিশকে জানানো হয়েছিল। আজকে হাসপাতালের সিসিটিভির ফুটেজ চেক করলে নিখোঁজের দিন তাকে চারতলার লিফটে প্রবেশ করতে দেখা যায়। এরপর তিনি আর বের হননি। পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ওই লিফট চেক করলে, সেখানে ওই নারীর মরদেহ পাওয়া যায়। লিফটে দুর্ঘটনা কিংবা অন্যকারণে তার মৃত্যু হলো কিনা খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন তিনি।
পতাকানিউজ/এনএ/আরবি

