২০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হাসপাতালটি উদ্বোধন করেছিলেন আওয়ামী লীগ সরকারের স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। উদ্বোধনের আড়াই বছর পার হয়েছে। কিন্তু হাসপাতালটি এখনও অলস পড়ে আছে। মন্ত্রণালয় থেকে লোকবল অনুমোদন না হওয়ায় আলোর মুখ দেখেনি ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার সীমান্তঘেঁষা ভৈরবা সাকোর খাল এলাকায় নির্মিত ২০ শয্যার ওই হাসপাতাল। ফলে এ উপজেলার পাঁচ ইউনিয়নের প্রায় ৫০টি গ্রামের লাখো মানুষ প্রাথমিক ও জরুরি স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত।
ঝিনাইদহ সিভিল সার্জন ডা. মো. কামরুজ্জামান জানান, জেলা শহর থেকে প্রায় ৬০ কিলোমিটার দূরে ভৈরবা সাকোর খাল এলাকায় ২০২৩ সালের ২৫ অক্টোবর হাসপাতালটি উদ্বোধন করা হয়। সীমান্তবর্তী মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে হাসপাতাল নির্মাণ করা হলেও এখনও তার কার্যক্রম শুরু হয়নি। চালু না হওয়ায় হাসপাতালের ভবন নষ্ট হচ্ছে। ইতিমধ্যে বিভিন্ন স্থানে পলেস্তারা খসে পড়ছে, দেয়ালে ফাটল দেখা দিয়েছে। লোকজন বা পাহারাদার না থাকায় হাসপাতালের মালামালও প্রয়োজনীয় মালামালও চুরি হয়ে যাচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা আলফাজ উদ্দীন জানান, ‘ভেবেছিলাম হাসপাতাল চালু হলে আর দূরে যেতে হবে না। কিন্তু এখনও অসুস্থ হলে উপজেলা বা জেলা শহরে যেতে হয়। এতে সময় ও টাকা দুটোই নষ্ট হচ্ছে’।
রুলি গ্রামের বাসিন্দা শাহজাহান বলেন, ‘ম্যালা টাকা দিয়ে হাসপাতাল করলো। মন্ত্রী এসে চালুও করলো। কিন্তু আজ পর্যন্ত দেখলাম না কোন ডাক্তার আসতি। তালি পর হাসপাতাল করে লাভ কি হলো বাপু? আমরা চাই এডা যেন তাড়াতাড়ি চালু করা হয়’।
এ বিষয়ে বিষয়ে সিভিল সার্জন ডা. মো. কামরুজ্জামান বলেন, ‘হাসপাতালটি চালুর জন্য প্রয়োজনীয় জনবল ও সরঞ্জামের চাহিদাপত্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। প্রশাসনিক অনুমোদন পেলেই দ্রুত চালুর ব্যবস্থা নেয়া হবে। হাসপাতালটি চালু হলে প্রতি মাসে সীমান্ত এলাকার ১০ থেকে ১২ হাজার মানুষ নিয়মিত স্বাস্থ্যসেবা পাবেন।’
পতাকানিউজ/এআর/আরবি

