‘মব’ সৃষ্টি করে চট্টগ্রাম মহানগরের পাঁচলাইশ থানার অদুরে পার্কভিউ হাসপাতাল থেকে একটি ওষুধ কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধিকে তুলে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। ১দিন পর ওই ব্যক্তিকে ছাত্রলীগের নেতা পরিচয়ে পাঁচলাইশ থানায় বুঝিয়ে দিতে এসে ৬ জন আটক হয়েছে। এ ঘটনায় অপহরণ মামলা দায়ের হবে বলে জানিয়েছেন ওসি মোহাম্মদ সোলাইমান।
রবিবার রাতে তাকে অপহরণের পর সোমবার, ১০ নভেম্বর পাঁচলাইশ থানায় তাকে বুঝিয়ে দিতে আসেন আটক হওয়া ৬জন।
অপহরণের শিকার হওয়া ফয়সাল মাহমুদ ফাহাদ একটি ওষুধ কোম্পানির অনকোলজি এসোসিয়েট। তিনি কুমিল্লা মনোহরগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি। সোমবার বিকেল ৫টায় পাঁচলাইশ থানায় সরেজমিনে দেখা গেছে, ওষুধ কোম্পনির বিভিন্ন বিক্রয় প্রতিনিধি থানার সামনে অবস্থান করছেন। সহকর্মীকে অপহরণের ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণে রেখেছে।
এ সময় নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ফাহাদের এক সহকর্মী বলেন, ‘গতকাল (রবিবার) পার্কভিউ হাসপাতালে কর্মরত অবস্থায় কয়েকজন যুবক জনসম্মুখে তাকে তুলে নিয়ে যায়। ইতিমধ্যে এ ঘটনায় সিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। সেখান থেকে তাকে রাউজানে নিয়ে যায়। যাওয়ার পথে তার পকেটে থাকা ডেবিট কার্ড থেকে ৬০ হাজার টাকা তুলে নেয় দুর্বৃত্তরা। পরে রাউজান এলাকায় নিয়ে গিয়ে তাকে রাতভর আটকে রেখে তার পরিবারের কাছ থেকে ৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। অন্যথায় তাকে খুনের হুমকি দেয়া হয়। পরে তার পরিবার থেকে এ টাকা দিতে অসম্মতি জানানো হয়।’
ফাহাদকে অপহরণের ১দিন পর আজ (সোমবার) সকালে পাঁচলাইশ থানায় বুঝিয়ে দিতে এনেছে জানিয়ে তারে আরেকজন সহকর্মী অভিযোগ করে বলেন, ‘সারারাত আটকে রাখা কি আইনত অপরাধ নয়? তারা আবার তাকে গ্রেপ্তারের দাবিতে থানায়ও কিভাবে আসে? তারা ফাহাদকে থানায় এনে গ্রেপ্তারের দাবি জানান। তবে ১ দিন তাকে কোথায় রাখা হয়েছে তা তারা জানায়নি। তাদের দাবি, ফাহাদকে অপহরণের পর সে পালিয়ে রাউজান চলে যায়। পরে সেখান থেকে তাকে ধরে আনা হয়েছে। এদিকে ফাহাদের জানিয়েছে, তাকে সারারাত আটকে রেখেছে ওই দুর্বৃত্তরা।’
পুলিশ সূত্র জানায়, ফাহাদকে থানায় বুঝিয়ে দিতে এসে ৬ জন আটক রয়েছে। তাদের সবাইকে একই সেলে রাখা হয়েছে।
ফাহাদের সহকর্মীরা বলছেন, একই সেলে রাখার পর ফাহাদকে হুমকি দিচ্ছে অপহরণকারীরা। তাদের বিরুদ্ধে মামলা হলে, টেকনাফ থেকে তেতুলিয়া খুঁজে খুঁজে ফাহাদকে হামলা করা হবে বলে হুমকি দেয়া হচ্ছে।
পাঁচলাইশ থানার ওসি মোহাম্মদ সোলাইমান বলেন, ‘আটক অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অপহরণের মামলা দায়ের করা হবে। মামলা দায়েরের পর গণমাধ্যমকে বিষয়গুলো জানানো হবে। সেই পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।’
কতজন আটক রয়েছে জানতে চাইলে ওসি বলেন, ‘কয়েকজন আটক রয়েছে। কারা এ ঘটনার সঙ্গে সরাসরি জড়িত তা সনাক্ত করে বাকিদের ছেড়ে দেয়া হবে। যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হবে।’
প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত অপহরণের ঘটনায় সম্পৃক্ত আটকদের নাম জানা যায়নি। তবে এ ঘটনায় অপহরণকারীদের ছাড়িয়ে নিতে ওসির কাছে বিভিন্ন দল থেকে জোর তদবির চলছে বলে অভিযোগ করে ফাহাদের সহকর্মীরা।
পতাকানিউজ/আরএস/কেএস

