আজকের আধুনিক নারীরা ঘরে-বাইরে সমান দক্ষতায় দায়িত্ব পালন করছেন। অফিস, সংসার, সন্তান, আত্মীয়স্বজন সব দায়িত্বের ভার কাঁধে নিয়ে তারা দিন কাটাচ্ছেন এক অদৃশ্য দৌড়ে। কিন্তু এই দৌড়ের মাঝেই তারা ভুলে যাচ্ছেন নিজের মনের যত্ন নিতে। অনেক নারীই মানসিক ক্লান্তি, উদ্বেগ, হতাশা কিংবা আত্মসম্মানবোধের সংকটে ভুগছেন যার কথা তারা মুখে বলতে পারেন না। ফলে, নারীর মানসিক স্বাস্থ্য আজ এক নীরব সংকটে পরিণত হয়েছে।

মানসিক চাপের কারণ
মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, নারীদের মানসিক অস্থিরতার পেছনে রয়েছে কয়েকটি বড় কারণ-
১. দ্বৈত দায়িত্বের চাপ: কর্মজীবী নারীকে অফিসের কাজ শেষে ঘরের দায়িত্ব সামলাতে হয়, বিশ্রামের সময় প্রায় থাকে না।
২. সামাজিক প্রত্যাশা: ভালো মা, ভালো স্ত্রী, ভালো বউ, ভালো মেয়ে- এই সব ট্যাগের ভেতরেই হারিয়ে যায় একজন নারীর নিজের পরিচয়।
৩. অর্থনৈতিক ও সামাজিক অসমতা: পুরুষের সমান পরিশ্রম করেও অনেক নারী পান না সমান সম্মান, মূল্যায়ন বা সুযোগ।
৪. নিরাপত্তাহীনতা ও হয়রানি: কর্মক্ষেত্র বা সমাজে অনিরাপত্তা অনেক নারীর মানসিক ভারসাম্য নষ্ট করে দেয়।
৫. সমর্থনের অভাব: পরিবার বা বন্ধুমহলে নিজের কষ্ট প্রকাশের জায়গা না থাকলে মন আরও ভারী হয়ে ওঠে।

বিশেষজ্ঞদের মতামত
মনোরোগ বিশেষজ্ঞরা জানান, বাংলাদেশে নারীদের মধ্যে ডিপ্রেশন, অ্যাংজাইটি ও নিদ্রাহীনতার প্রবণতা ক্রমেই বাড়ছে। কিন্তু সমাজে মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে কথা বলাকে এখনো লজ্জার মনে করা হয়, ফলে অনেক নারী চিকিৎসা নিতে চান না। যার ফলে নিজের মানসিক অসুস্থতা নিয়ে ভুগতে হয় দিনের পর দিন।
তারা আরও বলেন, প্রতিদিন নিজের জন্য অন্তত ২০ মিনিট সময় হলেও রাখুন—হাঁটুন, বই পড়ুন, প্রার্থনা করুন, সাজগোজ পছন্দ করে থাকলে নিজেকে সাজিয়ে গুছিয়ে রাখুন, নিরিবিলি কোথাও থেকে ঘুরে আসুন বা নিজের পছন্দের কিছু করুন। এই ছোট ছোট অভ্যাসই বড় পরিবর্তন আনে।

কীভাবে নিজের মনের যত্ন নেবেন
- প্রতিদিন নিজের জন্য কিছু ‘নিজস্ব সময়’ রাখুন।
- কাউকে বিশ্বাস করে নিজের অনুভূতি শেয়ার করুন।
- পর্যাপ্ত ঘুম ও স্বাস্থ্যকর খাদ্য গ্রহণ করুন।
- সোশ্যাল মিডিয়ায় অন্যের জীবনের সঙ্গে নিজের তুলনা বন্ধ করুন।
- প্রয়োজন হলে নির্ভয়ে কাউন্সেলর বা থেরাপিস্টের সাহায্য নিন।

নারীর মানসিক সুস্থতা শুধু তার ব্যক্তিগত ব্যাপার নয়, এটি পুরো সমাজের ভারসাম্যের অংশ। একজন সুখী, মানসিকভাবে সুস্থ নারী মানেই একটি সুস্থ পরিবার ও সুস্থ প্রজন্ম। তাই এখন সময় এসেছে নারীর মানসিক স্বাস্থ্যের যত্নকে বিলাসিতা নয়, প্রয়োজন হিসেবে দেখার।
পতাকানিউজ/এনএফএম

